২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণকে বলা হচ্ছে ‘রিং অফ ফায়ার’, ভারত থেকে দেখা যাবে কি না তা নিয়ে কৌতূহল চরমে। গ্রহণের পথ, সময়সূচি ও দৃশ্যমানতা নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছে বিস্তারিত তথ্য।

সূর্যগ্রহণ (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 15 February 2026 15:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণ (Solar Eclipse 2026) হতে চলেছে ১৭ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার। এটি বিজ্ঞানীদের ভাষায় ‘বলয়াকৃতি সূর্যগ্রহণ’ (Annular Solar Eclipse), যা ‘রিং অফ ফায়ার’ (Ring of Fire) নামেও পরিচিত। বিশ্বজুড়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীরা এই মহাজাগতিক ঘটনার অপেক্ষায়।
বলয়াকৃতি সূর্যগ্রহণ তখনই হয়, যখন চাঁদ (Moon) পৃথিবী (Earth) ও সূর্যের (Sun) মাঝখানে এসে পড়ে। কিন্তু সেই সময় চাঁদ পৃথিবী থেকে তুলনামূলকভাবে একটু দূরে থাকে। ফলে সে সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারে না। সূর্যের মাঝের অংশ অন্ধকার হয়ে যায়, কিন্তু চারপাশে আগুনের বলয়ের মতো উজ্জ্বল আলো দেখা যায়। এই দৃশ্যই ‘রিং অফ ফায়ার’ নামে পরিচিত।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) জানিয়েছে, এই সময় চাঁদ তার কক্ষপথে পৃথিবী থেকে প্রায় সর্বাধিক দূরত্বে অবস্থান করে। তাই সূর্যের তুলনায় তাকে ছোট দেখায়। ১৭ ফেব্রুয়ারি গ্রহণ শুরু হবে সকাল ৭টা ১ মিনিট ইউটিসি (UTC) সময় অনুযায়ী। সর্বোচ্চ প্রায় ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত বলয়াকৃতি দৃশ্য দেখা যেতে পারে। সূর্যের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশ আংশিকভাবে ঢাকা পড়বে।
তবে বড় প্রশ্ন—ভারত থেকে কি এই গ্রহণ দেখা যাবে?
উত্তর, না। এই সূর্যগ্রহণের মূল পথ দক্ষিণ গোলার্ধে। গ্রহণের সময় ভারতে সূর্য দিগন্তের নীচে থাকবে। ফলে ভারতের আকাশে এই ‘রিং অফ ফায়ার’ দেখা সম্ভব নয়। সবচেয়ে স্পষ্টভাবে বলয়াকৃতি গ্রহণ দেখা যাবে অ্যান্টার্কটিকা (Antarctica) অঞ্চলে। বিশেষ করে গবেষণা কেন্দ্র কনকর্ডিয়া (Concordia) ও মিরনি (Mirny) স্টেশন থেকে দৃশ্যটি পরিষ্কার দেখা যাবে। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa), তানজানিয়া (Tanzania), জাম্বিয়া (Zambia), জিম্বাবোয়ে (Zimbabwe) প্রভৃতি দেশে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যেতে পারে। দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা (Argentina) ও চিলি (Chile)-র কিছু অংশ থেকেও আংশিক গ্রহণ দৃশ্যমান হবে।
বিশেষজ্ঞ জে অ্যান্ডারসন (Jay Anderson), যিনি গ্রহণ–বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত, জানিয়েছেন—এই গ্রহণের বলয় অংশ খুব সীমিত এলাকায় দেখা যাবে। সেখানে পৌঁছনো কঠিন এবং পর্যটকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেই।
সুতরাং, ১৭ ফেব্রুয়ারি আকাশে বিরল দৃশ্য তৈরি হলেও ভারতীয়দের তা সরাসরি দেখার সুযোগ নেই। তবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থাগুলি সাধারণত এমন ঘটনার লাইভ সম্প্রচার করে। ফলে অনলাইনে এই ‘রিং অফ ফায়ার’ উপভোগ করা সম্ভব হবে সহজেই।
আকাশে আগুনের বলয়—প্রকৃতির এক অনন্য দৃশ্য। কিন্তু এবার তা দূর থেকেই দেখতে হবে ভারতকে।