
পৃথিবীর খুব কাছাকাছি পৃথিবীর মতোই গ্রহ।
শেষ আপডেট: 13 May 2024 17:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পৃথিবীর মতো আরও এক গ্রহের খোঁজ!
এইচডি ১০৪০৬৭ নক্ষত্রমণ্ডলের মধ্যে ঘাপটি মেরে রয়েছে এমন এক গ্রহ যার সঙ্গে পৃথিবীর বিস্তর মিল। এই গ্রহের মাটি পাথুরে, আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতিও অনেকটা একই রকম। পৃথিবী থেকে মাত্র ৬৬ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে এমন এক ভিনগ্রহের খোঁজ পেয়ে আশ্চর্য হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর থেকে আয়তনে প্রায় ৩০ শতাংশ বড় এই গ্রহ। আমাদের সৌরমণ্ডলের গা ঘেঁষে রয়েছে। গ্রহকে ঘিরে বাষ্পের মেঘ ভাসছে। এর আগে কয়েকবার এমন গ্রহের খোঁজ অবশ্য মিলেছে, তবে এবারের খোঁজ চমকে দেওয়ারই মতোই। মনে করা হচ্ছে এই গ্রহে জল রয়েছে যা থেকে বাষ্প জমে মেঘপুঞ্জ তৈরি হয়েছে।
এক্সোপ্ল্যানেটের খোঁজে গত ২০ বছর ধরে কাজ করে চলেছেন বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা। হাজারখানেক এমন গ্রহের সন্ধানও মিলেছিল। তবে ২০০৯-এ নাসার কেপলার অভিযান শুরু হলে মাত্র চার বছরেই আরও সাড়ে তিন হাজার ভিনগ্রহের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। তাদের বিচিত্র গল্প, অজানা রহস্য।
নাসার ট্রানসিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট (Transiting Exoplanet Survey Satellite/TESS) সেই কবে থেকেই পৃথিবীর মতো গ্রহের খোঁজ করে চলেছে। আমাদের পড়শি কোনও গ্রহের পরিবেশ যদি মনোরম হয়, বেশ হাওয়া-বাতাস খেলে, তাপমাত্রাও অনেকটা পৃথিবীর মতোই হয় তাহলে সেই গ্রহের আঁতিপাঁতি বিশ্লেষণ করে সেখানে প্রাণ ধুকপুক করছে কিনা সেটা তদন্ত করে দেখা এই সার্ভে স্যাটেলাইটের মূল লক্ষ্য। সেই কাজই এখন করছেন বিজ্ঞানীরা। পাথুরে গ্রহটিতে আবহাওয়ার রকমসকম পৃথিবীর মতো, মনে করা হচ্ছে জল আছে, মাটিতে খনিজের ভাণ্ডার লুকিয়ে আছে কিনা তার খোঁজ চলছে। গ্রহটিতে দিন-রাত্রির অনুপাতও প্রায় পৃথিবীরই মতো। কাজই এই গ্রহটিতে প্রাণের জন্ম হতে পারে কিনা সে নিয়েও চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। তবে চমকে দওয়ার মতো বিষয় হল এই গ্রহের অন্দরে ঘটে চলা আবহাওয়ার পরিবর্তন। এমন খামখেয়ালি আবহাওয়া এর আগে কোনও ভিন্ গ্রহের মধ্যে খুব একটা দেখা যায়নি।
আসলে এই ব্রহ্মাণ্ডে নানা জাতের, নানা গোত্রের গ্রহ আছে। কেউ পৃথিবীর মতো, কেউ পৃথিবীর চেয়ে ছোট ‘সাব-আর্থ’ আবার কেউ পৃথিবীর চেয়ে বড় ‘সুপার আর্থ।’ এই সুপার আর্থগুলিতে জল ও কার্বন থাকার সম্ভাবনা বেশি। সুপার আর্থদের তাপমাত্রাও হয় অনেকটা পৃথিবীর মতোই। অর্থাৎ হ্যাবিটেবল জ়োন বা প্রাণের বাসযোগ্য পরিবেশ রয়েছে। খান পঞ্চাশেক এমন গ্রহের খোঁজ মিলেছে যাদের নিয়ে এখন নাড়াচাড়া করছেন বিজ্ঞানীরা।