শুক্রগ্রহের মেঘে প্রাণের সম্ভাবনা! নতুন গবেষণায় দাবি, পৃথিবী থেকে অণুজীব পৌঁছে থাকতে পারে শুক্রে। ‘প্যানস্পারমিয়া’ তত্ত্বে জোর, তোলপাড় বিজ্ঞানী মহল।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 12 April 2026 18:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রগ্রহের মেঘের স্তরে কি তবে প্রাণের অস্তিত্ব আছে? আর সেই প্রাণ কি আসলে আমাদের পৃথিবী থেকেই সেখানে পৌঁছেছে? মহাকাশ গবেষণার জগতে এক নতুন এবং রোমাঞ্চকর তথ্য নিয়ে এখন তোলপাড় বিজ্ঞানী মহল। ২০২৬ সালের ‘লুনার অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্স কনফারেন্স’ (LPSC)-এ উপস্থাপিত একটি গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, যদি কোনওদিন শুক্রের বায়ুমণ্ডলে প্রাণের খোঁজ মেলে, তবে তার উৎস হতে পারে আমাদের এই নীল গ্রহই। ‘প্যানস্পারমিয়া’ (Panspermia) নামক এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় পৃথিবী থেকে অণুজীবরা পাড়ি দিতে পারে প্রতিবেশী এই গ্রহে।
পৃথিবী থেকে শুক্রে প্রাণ সঞ্চার, কীভাবে সম্ভব?
বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ কোটি বছর আগে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহের সংঘর্ষের ফলে প্রচুর পাথুরে উপাদান মহাকাশে ছিটকে গিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতি ১০০ কোটি বছরে প্রায় ১০০ কোটি জীবিত কোষ পৃথিবী থেকে শুক্রে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় উল্কাপাত বা গ্রহাণুর ধাক্কায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে থাকা অণুজীব মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত শুক্রগ্রহের নাতিশীতোষ্ণ মেঘের স্তরে আশ্রয় নেয়।
কেন শুক্রের মেঘের স্তরকেই বেছে নেওয়া হচ্ছে?
শুক্রগ্রহের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা সিসা গলিয়ে দেওয়ার মতো প্রচণ্ড গরম হলেও, এর বায়ুমণ্ডলের ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার ওপরের অংশটি অনেকটাই নমনীয়। বিজ্ঞানীরা কেন এখানে প্রাণের সম্ভাবনা দেখছেন?
মেঘের স্তরে এমন কিছু রাসায়নিক অসংগতি দেখা গেছে, যা সাধারণত অণুজীবের উপস্থিতির কারণে হয়ে থাকে। মেঘের মধ্যে ব্যাখ্যাতীতভাবে অতিবেগুনি রশ্মি শোষিত হওয়ার ঘটনাও অণুজীবের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়। পৃষ্ঠের তুলনায় মেঘের স্তরের তাপমাত্রা এবং চাপ অনেকটা পৃথিবীর উপরিভাগের মতোই।
পৃথিবী থেকে প্রাণের আমদানির পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা আরও একটি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। হতে পারে শুক্রের আদি ইতিহাসে যখন সেখানে সমুদ্র ছিল, তখনই সেখানে প্রাণের বিবর্তন ঘটেছিল। পরবর্তীতে জলবায়ুর চরম পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সেই অণুজীবরা পৃষ্ঠদেশ ছেড়ে মেঘের স্তরে আশ্রয় নিয়েছে।
যদিও শুক্রে প্রাণের অস্তিত্ব এখনও নিশ্চিত নয় এবং সেই পরিবেশ অত্যন্ত অ্যাসিডিক, তবুও গবেষকরা সিমুলেশনের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করছেন কীভাবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও প্রাণ টিকে থাকতে পারে।