
শেষ আপডেট: 26 January 2024 16:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বকাপের সময়ই চোখের সমস্যাটা ধরা পড়েছিল। চেন্নাইয়েই চক্ষুবিশেষজ্ঞের কাছে আই চেকআপও করিয়েছিলেন শাকিব আল হাসান। কয়েকদিন আগেই লন্ডন থেকে চোখের ডাক্তার দেখিয়ে এসে বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলেছিলেন শাকিব। কিন্তু সেখানেও দেখা গেছে তাঁর চোখের সমস্যা। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে সিঙ্গাপুরে ডাক্তার দেখিয়েছেন তিনি। শাকিবের চোখে ঠিক কী হয়েছে তার বর্ণনা দিয়েছেন ডাক্তারবাবু। তিনি জানিয়েছেন, শাকিবের বাঁ চোখের রেটিনার নীচে জল জমছে। দৃষ্টি ক্রমশ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসার ভাষায় চোখের এই অবস্থার নাম সেন্ট্রাল সেরাস কোরিওরেটিনোপ্যাথি (সিএসআর)।
চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেন্ট্রাল সেরাস কোরিও রেটিনোপ্যাথি মূলত চোখের রেটিনার সমস্যা। ম্যাকুলাতে সমস্যা হলে দৃষ্টি ঝাপসা হতে থাকে। চেন্নাইয়ের চক্ষু বিশেষজ্ঞও একই কথা বলেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক শাকিব আল হাসানকে।
কী এই রোগ?
চিকিৎসকরা বলছেন, রেটিনা চোখের সবচেয়ে সংবেদনশীল পর্দা। আলোকরশ্মি চোখের ভিতর ঢুকে এই রেটিনায় প্রতিফলিত হয়েই দৃশ্যমানতা তৈরি করে। রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গেলে রেটিনার সরু জালকের মধ্যে দিয়ে রক্তপ্রবাহ বাধা পায়। সরু রক্তজালক চিরে গিয়ে সেখান থেকে রক্ত ও অন্যান্য তরল লিক করে। রেটিনার কোষ ফুলে ওঠে, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়। রেটিনার সমস্যা নানা কারণেই হতে পারে। মানসিক চাপ, স্টেরয়েড ব্যবহার, হেলিকোভেক্টর পাইলরি ইনফেকশন বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভাবস্থা, অটোইমিউন ডিজিজ ইত্যাদি। শাকিব বলেছিলেন, তিনি যখনই প্রচণ্ড মানসিক চাপ বা স্ট্রেসে থাকেন তখন চোখের সমস্যা শুরু হয়। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, শাকিবের বাঁ চোখের রেটিনার নীচে একধরনের ফ্লুইড জমা হচ্ছে। এই ফ্লুইড বা তরলের পরিমাণ এতটাই বেড়ে যাচ্ছে যে দৃষ্টি ঝাপসা করে দিচ্ছে। সেন্ট্রাল সেরাস কোরিওরেটিনোপ্যাথি হলে এই ধরনের সমস্যা শুরু হয়।
সাধারণত ২০ থেকে ৪৫ বছর বয়স অবধি এই রোগ হতে দেখা যায়। কখনও এক চোখ আবার কখনও দুই চোখই আক্রান্ত হয়। পুরুষদের এই সমস্যা বেশি হতে পারে।
কী কী উপসর্গ দেখা দেয়?
প্রাথমিক অবস্থায় চোখ জ্বালা করে, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে কিছু সময়ের জন্য। রোগ বাড়লে তখন দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হতে থাকে। দৃষ্টি বিভ্রম হয় রোগীর। কোনও জিনিস খুব বড় বা খুব ছোট দেখায়। অনেক সময় ডিসক্রোমাটোপসিয়া বা বস্তু আঁকাবাঁকা দেখায়।
প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়ে না সহজে। অনেকেই আই ড্রপ দিয়ে ভাবেন সেরে যাবে। কিন্তু যখন লক্ষণ বেশিমাত্রায় প্রকাশ পেতে থাকে তখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। ততদিনে দেরি হয়ে যায়। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, ফান্ডাস ফ্লোরেসেন্স অ্যাঞ্জিওগ্রাম বা চোখের অ্যাঞ্জিওগ্রাম এবং ওসিটি ম্যাকুলা করলে রোগ ধরা পড়ে।
নানারকম থেরাপি আছে এই রোগের। ইঞ্জেকশন দিয়ে ট্রিটমেন্ট করেন ডাক্তাররা। আবার লেজ়ার ট্রিটমেন্টও করা হয়। রোগীর চোখের গঠন ও রোগের ধরন দেখেই চিকিৎসাপদ্ধতি ঠিক করা হয়।