দ্য ওয়াল ব্যুরো: টেস্ট ক্রিকেটকে (Test Cricket) বিদায় জানালেন ইংল্যান্ডের তারকা মঈন আলি (Moeen Ali)। সোমবার (Monday) দুপুরেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছেন তিনি। ওয়ান ডে যদিও খেলবেন, সেটি জানিয়েছেন।
ইংল্যান্ডের হয়ে ৬৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন এই স্পিন অলরাউন্ডার। যেখানে ব্যাট হাতে ৫ সেঞ্চুরি ও ১৪টি হাফসেঞ্চুরিসহ ২৯১৪ রান এবং বল হাতে পাঁচবার ৫ উইকেটসহ ১৯৫ উইকেট শিকার তাঁর ঝুলিতে।
টেস্ট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে মঈন বলেছেন, ‘‘আমার বয়স এখন ৩৪ এবং আর যতদিন আমি খেলব পুরোটা উপভোগ করতে চাই। টেস্ট ক্রিকেট অসাধারণ। কিন্তু কোথাও না কোথাও শেষ করতে হয়।’’
তিনি যোগ করেন, ‘‘আমি সতীর্থদের সঙ্গে সাদা পোষাক পরে মাঠে নামা মিস করব। প্রতিদিন যে স্নায়ুর পরীক্ষা দিতে হতো, তা থেকে খানিক বিশ্রাম।’’
আর মাত্র ৮৬ রান ও ৫ উইকেট নিলেই ৩০০০ রান ও ২০০ উইকেটের ক্লাবে প্রবেশ করতেন মঈন। এর অপেক্ষা না করার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘‘আমি টেস্ট ক্রিকেট উপভোগ করেছি। কিন্তু এর গভীরতা প্রায়ই অনেক বেশি হয়। আমি মনে করি, যথেষ্ঠ করেছি এবং আমি যা করতে পেরেছি তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকব।’’
নিজের কেরিয়ারের পূর্ণ কৃতিত্ব বাবা-মাকে দিয়ে মঈন বলেন, ‘‘আমার বাবা-মা সেরা। আমি অনুভব করি যে তাঁদের সমর্থন ছাড়া আমি এতদূর আসতে পারতাম না। আমার প্রতিটি ম্যাচ তাঁদের জন্য খেলেছি এবং আমি জানি তারা সত্যিই আমার জন্য গর্বিত।’’
এও বলেছেন, ‘‘আমার ভাই-বোন আমার খারাপ দিনে আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আমার স্ত্রী এবং বাচ্চাদের আত্মত্যাগের জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। তারা সবাই আমার এই পথচলায় অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে, আমি যা করেছি আমি তাদের জন্য করেছি।’’
মঈন আলি বিশ্ব ক্রিকেটের এক দৃষ্টান্ত, যিনি কঠিন সংকল্পে ব্রতী ছিলেন। ২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের ঘটনা। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল ইংল্যান্ড। সেদিন সবাই উৎসবে গা ভাসিয়ে দিলেও মঈন সতর্ক ছিলেন। তিনি সেদিন শ্যাম্পেনের ফোয়ারায় স্নান করা থেকে বিরত ছিলেন।
ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণেই মঈন সেদিন মদ উৎসবে বিরত ছিলেন। সেই জন্য সতীর্থরাও তাঁকে কুর্নিশ জানিয়েছিলেন।
পুরো ক্রিকেট কেরিয়ারে এমন ধর্মীয় বিশ্বাস রেখে খেলেছেন মঈন। প্রায় সাত বছর ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট খেলার মধ্যে কত উৎসব হয়েছে, মঈনকে কেউ টলাতে পারেননি।
বিদায়বেলায় তিনি আশা প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ড দলে আরও বেশি বেশি মুসলিম ক্রিকেটার দেখার। তিনি আশাবাদী, তাঁর দেখাদেখি আরও অনেক মুসলিম ধর্মালম্বীই এগিয়ে আসবেন ক্রিকেটে।
অবসর নেওয়ার পর বিদায়ী ভাষণে মঈন বলেছেন, ‘‘সবসময়ই অনুপ্রেরণার জন্য কাউকে প্রয়োজন হয়। অথবা এমন কারো প্রয়োজন হয়, যাকে দেখে আপনি ভাবতে পারেন যে, সে পারলে আমিও পারবো। আমি আশা করছি, এখন অনেক মানুষই এমনটা ভাবছে।’’