
মহেন্দ্র সিং ধোনি
শেষ আপডেট: 20 February 2025 16:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘প্রতিহিংসা পুষে রাখলে শান্তি পাবে না। ক্ষমা করো এবং সামনে এগিয়ে যাও।‘ কিংবা ‘জীবনে মাঝেমধ্যে অল্পবিস্তর দায়িত্বজ্ঞান হারানো ভাল। আমিও কখনও কখনও কাজে ১০০ শতাংশ মনোযোগ দিই না।‘
উপরের কথাগুলো কোনও ইনফ্রুয়েন্সার কিংবা মোটিভেশনাল স্পিকারের নয়। নিজের নামে একটি অ্যাপ উদ্বোধনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এমনই বার্তা ছুড়ে দিয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। দর্শকদের সঙ্গে আলাপচারিতার ফাঁকে তাঁকে এক সময় জিজ্ঞেস করা হয়, ভক্তদের উদ্দেশে কী উপদেশ দেবেন? এরই জবাবে কখনও ছকেবাঁধা, কখনও ছকভাঙা মন্তব্য পেশ করেন টিম ইন্ডিয়ার একদা ‘ক্যাপ্টেন কুল’।
বলতে উঠে ধোনি প্রথমেই জানান, ‘জীবনে শান্তি পেতে হলে সাধারণ ভাবে বাঁচো। নিজের কাছে সৎ থাকো। সবসময় বোলো না, ‘এটা আমার জন্মগত অধিকার আর আমায় এটা পেতেই হবে!’ যা পেয়েছ, তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকো, বড়দের সম্মান করো, অন্যকে ধন্যবাদ জানাও, ছোটদের ভালবাসো।‘
এই সূত্রেই ক্ষমা বা দয়াশীলতার গুরুত্বের কথা বলতে গিয়ে ধোনি জানান, ‘আমি মনে করি, মুখে হাসি থাকলেই অর্ধেকের বেশি সমস্যা মিটে যায়। ক্ষমা করার শক্তি থাকাটা জরুরি। আসলে আমরা খুবই প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠেছি। ও আমায় এই বলেছে, সে আমায় ওই বলেছে ভেবে চলা অর্থহীন। শুধুমাত্র ক্ষমা করো এবং এগিয়ে যাও। আমরা যখন বেড়ে উঠি সকলেই তো জীবনে সুখী হতে চাই। তাই না?’
পরিবার, সমাজ শিখিয়েছে জীবনে সবসময় দায়িত্বজ্ঞানের পরিচয় দেওয়া উচিত। ধোনি অবশ্য এখানে উলটো সুর গেয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, আজকাল মানুষের রোজকার রুটিন যথেষ্ট সমস্যায় ভরা। সেখানে চাপ কাটাতে মাঝেমধ্যে দায়িত্ব ছেড়ে থাকাটা খুব জরুরি। ধোনির যুক্তি: সমস্তকিছু যখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, তখন নিজের নাগালের বাইরের জিনিস নিয়ে ভাবা আর সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করা অহেতুক। পাশপাশি, লোকে কী ভাবল—তাই নিয়ে চর্চা করে গেলে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নজরের বাইরে চলে যায়।
তাহলে নিজেকে কীভাবে গড়ে তুলেছেন এতদিন ধরে? ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়কের সাফ স্বীকারোক্তি, ‘আমি জীবনে কমবেশি কেয়ারলেস। সবকিছুতে ১০০ শতাংশ মনোযোগ দিই না। আসলে আমি আগে থেকেই ঠিক করে নিই, এই জিনিসটা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, ওটা নয়।‘