
শেষ আপডেট: 28 October 2023 14:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স তাঁর ষোলো। জন্ম থেকেই বিরল রোগে আক্রান্ত তিনি। বয়স বাড়লেও তাঁর হাত দু'টো বাড়েনি। ছোট থেকেই মানসিক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। অনেক টিপন্নি সহ্য করতে হয়েছে, কিন্তু দমে যাননি। জম্মু-কাশ্মীরের একটা ছোট্ট গ্রামে বেড়ে উঠেছেন শীতল দেবী। চিনের অনুষ্ঠিত এশিয়ান প্যারা গেমসে তীরন্দাজিতে সোনা জিতে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন শীতল। এর আগে কোনও ভারতীয় মহিলা এশিয়ান গেমসের একই সংস্করণে দুই বা তার বেশি স্বর্ণপদক জেতেননি।
ছোটবেলা থেকে কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন ছিল শীতলের চোখে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও আগ্রহ ছিল তাঁর। মাত্র দু'বছর আগে তীর ধনুক পায়ে তুলে নেন শীতল। তাঁর দু'টো হাত নেই, ছোটবেলা থেকেই সমাজের মানুষ তাঁকে অন্য দৃষ্টিতে দেখতেন। কারও চোখে ছিল সহানুভূতির ছাপ, কারও আবার বিদ্রুপ। সবকিছুরই জবাব দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। সেই জবাব দেওয়ার মঞ্চ হিসেবে গেমসকেই বেছে নেন শীতল।
দু'বছর আগে তীরন্দাজ হওয়ার স্বপ্ন দেখেন শীতল। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের যাত্রা শুরু করতেই হোঁচট খান। বোঝেন, এ বড় কঠিন জিনিস। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, 'প্রথমে তো ঠিক করে পা দিয়ে তীর ধনুক ধরতেই পারতাম না।' শুধু তো তীর ধনুক ধরা নয়, পা দিয়ে লক্ষ্যভেদ করতে হবে। শীতলের কথায়, 'প্রথম দিকে দিনে মাত্র ৫০-১০০টা তীর ছুড়তে পারতাম। প্রতিদিন অনুশীলন করার ফলে মনের জোর বাড়ল। তীর ছোড়ার সংখ্যাও বাড়ল।'
শীতলের দুই কোচ অভিলাষা চৌধুরী এবং কুলদীপ ভেদওয়ান। তাঁদের কাছেও শীতল ছিলেন এক বিষ্ময় বালিকা। কারণ এর আগে এই দুই কোচ কোনও দিন হাত নেই এমন ক্রীড়াবিদকে প্রশিক্ষণ দেননি। ওদের মনেও হয়তো এই প্রশ্ন জেগেছিল, পারবে তো? সেই প্রশ্নের উত্তর প্যারা ওপেন ন্যাশনালসে দিয়েছিলেন শীতল। সেই ইভেন্টে রুপো জেতেন তিনি।
এই বছরের শুরুতে শীতল চেক প্রজাতন্ত্রের পিলসেনে বিশ্ব প্যারা আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে রৌপ্য পদক জিতেছিল। তারপর প্যারা এশিয়ান গেমস। সেখানে পদকের রঙ পাল্টে গেল। এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ডবলসে রুপো ও মিক্সড ডাবলসে সোনা জিতেছিলেন শীতল। আর শুক্রবার একক ইভেন্টে সোনা জিতে ইতিহাস তৈরি করলেন কাশ্মীরি কন্যা।