Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: পয়লা ওভারেই ৩ উইকেট, স্বপ্নের আইপিএল অভিষেক! কে এই প্রফুল্ল হিঙ্গে?ইরান-মার্কিন বৈঠক ব্যর্থ নেতানিয়াহুর ফোনে! ট্রাম্পের প্রতিনিধিকে কী এমন বলেছিলেন, খোলসা করলেন নিজেইWeather: পয়লা বৈশাখে ঘামঝরা আবহাওয়া! দক্ষিণবঙ্গে তাপপ্রবাহের হলুদ সতর্কতা, আবার কবে বৃষ্টি?হরমুজ ঘিরে ফেলল মার্কিন সেনা! ইরানের 'শ্বাসরোধ' করতে ঝুঁকির মুখে আমেরিকাও, চাপে বিশ্ব অর্থনীতি'ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করা যাবে না', আইপ্যাক ডিরেক্টরের গ্রেফতারিতে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি অভিষেকেরভোটের মুখে ইডির বড় পদক্ষেপ! কয়লা পাচার মামলায় গ্রেফতার আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলমহাকাশে হবে ক্যানসারের চিকিৎসা! ল্যাবের সরঞ্জাম নিয়ে পাড়ি দিল নাসার ‘সিগনাস এক্সএল’সঞ্জু-রোহিতদের পেছনে ফেলে শীর্ষে অভিষেক! রেকর্ড গড়েও কেন মন খারাপ হায়দ্রাবাদ শিবিরের?আইপিএল ২০২৬-এর সূচিতে হঠাৎ বদল! নির্বাচনের কারণে এই ম্যাচের ভেন্যু বদলে দিল বিসিসিআইWest Bengal Election 2026 | হার-জিত ভাবিনা, তামান্না তো ফিরবেনা!

হিন্দুত্ববাদী, আদানিবাদী বিদেশনীতির জেরে ক্রমে নির্বান্ধব মোদীর বিপদ ঘরেও

একই সময়ে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে সংসদের বিতর্কে বিরোধীদের তোলা প্রশ্নে তাঁর সরকার জেরবার। রাহুল গান্ধী বড় অভিযোগ তুলেছেন, ট্রাম্পের কথায় যুদ্ধ বিরতিতে সায় দিয়ে মোদী পাকিস্তানের সুবিধা করে দিয়েছেন।

হিন্দুত্ববাদী, আদানিবাদী বিদেশনীতির জেরে ক্রমে নির্বান্ধব মোদীর বিপদ ঘরেও

ছবিতে নরেন্দ্র মোদী ও জেপি নাড্ডা

অরণ্যা দত্ত

শেষ আপডেট: 11 August 2025 09:49

অমল সরকার

নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছিলেন দেশবাসীকে ‘অচ্ছে দিন’ উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। কিছুদিনের মধ্যেই দেশবাসী টের পেয়েছিল, সেটা বিজেপির মস্তবড় ধাপ্পা ছিল। কালো টাকা উদ্ধার করে বিলনো দূরে থাক, উল্টে গত এগারো বছরে আমাদের কষ্টার্জিত কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে গেছে।

সেই নরেন্দ্র মোদী এখন এক বিশ্ব ধাপ্পাবাজের পাল্লায় পড়ে বিশ্রী দিন পাড় করছেন। তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বে এত খারাপ সময় এর আগে আর আসেনি। দিন কয়েক আগে তিনি প্রধানমন্ত্রিত্বের ইনিংসে ইন্দিরা গান্ধীকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। আর এমন সাফল্য অর্জনের সময়েই একের পর এক বিপর্যের খবরে জেরবার প্রধানমন্ত্রী। ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ভারতীয় পণ্যের উপর এমন চড়া হারে শুল্ক আরোপ করে তাঁকে বেইজ্জত করবেন, বোঝাই যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদী তাঁর সর্বশেষ আমেরিকা সফরেও আঁচ করতে পারেননি।

একই সময়ে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে সংসদের বিতর্কে বিরোধীদের তোলা প্রশ্নে তাঁর সরকার জেরবার। রাহুল গান্ধী বড় অভিযোগ তুলেছেন, ট্রাম্পের কথায় যুদ্ধ বিরতিতে সায় দিয়ে মোদী পাকিস্তানের সুবিধা করে দিয়েছেন। যুদ্ধে নামিয়েও সেনাবাহিনীর হাত-পা বেঁধে রেখেছিলেন। সুযোগ পেয়েও পাকিস্তানকে সমুচিত জবাব দেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে রাহুন গান্ধী গত লোকসভা নির্বাচনে কমিশন ও বিজেপির যোগসাজসে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে হইচই ফেলে দিয়েছে। একই সময় ভোটার তালিকায় নাম টিকিয়ে রাখতে নাগরিকত্বকে প্রাথমিক শর্ত করা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কড়া প্রশ্নের মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের সিদ্ধান্তে সায় দিয়ে বিপাকে পড়েছে বিজেপিও।

আগামী মাসে মোদী ৭৫ পেরোবেন। বিজেপিতে লালষ্ণ আদবানি-সহ অতীতে বহু নেতাকে এই বয়সের গুরু দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হয়েছে। মোদীর ব্যতিক্রম হওয়াটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে চলতি পরিস্থিতির কারণে। ভোটার তালিকা নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত শীর্ষ আদালত অনুমোদন না করলে বিহার, বাংলায় বিজেপির ভাল ফলের আশা কম। তামিলনাড়ু, কেরলে তো প্রশ্নই নেই। বিপদ আছে অসমেও। ওই সব রাজ্যে দলকে জেতাতে না পারলে মোদীকেও দল প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি ছাড়ার বার্তা দিতে পারে। মোদী যে আর শেষ কথা নন, দলের সভাপতি নির্বাচন মাসের পর মাস করতে না পারাও তার প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের লোককে মানছে না দল ও আরএসএসের একাংশই।

ফিরে যাই আ্মেরিকার প্রসঙ্গে। দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার অল্পদিনের মধ্যে যে রাষ্ট্রনেতাদের হোয়াইট হাউসে ডেকে ট্রাম্প ভোজ খাইয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁদের অন্যতম। সেই ট্রাম্প কিনা যা নয় তাই বলছেন সেদিনের বন্ধু সম্পর্কে। এই বিবাদে বাড়তি কৌতূহল ও কৌতুকের বিষয় হল এমন দু’জনের মধ্যে বিবাদ বেঁধেছে যারা নিজ নিজেরা ‘পারসোনক্র্যাসি’ বা ‘ব্যক্তিতান্ত্রিক’। ‘মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’ মোদীর গ্যারান্টি’ শব্দগুলি নিজের সম্পর্কে প্রচারে সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ট্রাম্প যেমন কথায় কথায় বলেন, ‘আমার কিছু যায় আসে না,’ ‘আমি কারও পরোয়া করি না’ ইত্যাদি। আমেরিকা, মার্কিন প্রশাসন তাঁর কাছে গৌন।

অবশ্য পরিস্থিতিটা এমন যে মোদীর রাজনৈতিক বিরোধীরাও এই পরিস্থিতিতে তাঁর পাশে থাকতে বাধ্য কারণ শুল্ক বিবাদে দেশের স্বার্থ জড়িয়ে আছে। এমন পরিস্থিতি এই প্রথম এল তা নয়। নতুনত্ব হল, ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দুর্বল চিত্ত ও নেতৃত্ব। মোদী যে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীকে কথায় কথায় দেশের বারোটা বাজিয়েছেন বলে দায়ী করেন, সেই ইন্দিরা গান্ধীর সাহসিকতার কিছুমাত্র আজকের প্রধানমন্ত্রীর থাকলে খড়কুটোর মতো উড়ে যেত ট্রাম্প। ১৯৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামকে সামনে রেখে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন এবং বিদেশ সচিব হেনরি কিসিঞ্জারকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাঁদের পাকিস্তান প্রেম নিয়ে খোদ হোয়াইট হাউসের বৈঠকে যে ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী উচিত সাহস সঞ্চয়ে উত্তরসূরির সেই কথাগুলি একবার শুনে নেওয়া।

আজ আমাদের বড় ব্যর্থতা, সংকট যে আমরা ট্রাম্পের বেয়াদপির মোক্ষম জবাব দিতে পারছি না এক দুর্বল চিত্ত, দিশাহীন প্রধানমন্ত্রীর ভুল নীতির কারণে। তবু দেশের স্বার্থে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকতে হবে, এ নিয়ে দ্বিতীয় কোনও ভাবনার অবকাশ নেই। একই সঙ্গে এই প্রশ্নের গভীর কাঁটাছেড়া প্রয়োজন নরেন্দ্র মোদীর হাতে দেশ কতটা নিরাপদ?

রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল কেনায় ট্রাম্প প্রশাসন যেদিন ভারতের উপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপায় সেদিনই নয়াদিল্লির বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছেন, মাসের শেষে চিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিতে দু’দিনের সফরে চিন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এসসিও-র বিগত দুটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় গোয়া ও ইসলামাবাদে। দেশে আয়োজিত সম্মেলনেও প্রধানমন্ত্রী যাননি। ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে ট্রাম্পের সাজা ঘোষণার মুখে মোদীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল মস্কো সফরে গিয়ে পুতিনের ভারত সফর নিয়ে কথা বলেছেন। বছরের শেষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের ভারত সফরে আসার পরিকল্পনা নতুন নয়। আমেরিকার সঙ্গে বিবাদের সময় ভারতের চিন ও রাশিয়া কেন্দ্রীক তৎপরতার কারও নজর এড়ায়নি।

চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ভারত ও চিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর উদযাপন শুরু হয়েছে। যুদ্ধ উন্মাদনা আর সন্দেহের চাদর সরিয়ে এই দুই দেশ বোঝাপড়া করে চললে কোনও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা হত না ভারতকে চোখ রাখায়। বেজিং-দিল্লি বোঝাপড়া তাই জরুরি। তবে মনে রাখা দরকার চিন কখনই পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের কৌশলগত সম্পর্ক বিসর্জন দিয়ে ভারতের পাশে দাঁড়াবে না। বছর পঁচিশ আগে অটল বিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজ বলেছিলেন, পাকিস্তান নয়, ভারতের প্রধান প্রতিপক্ষ চিন। এতদিনে সেই বক্তব্য আরও বেশি জোরদার হয়েছে। অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তান যে টুকু যা প্রত্যাঘাত করল তা চিনের ভারসায়। দূর্ভাগ্যের হল বিপদ জেনেও বিগত আড়াই দশকে আমরা চিন ও পাকিস্তানের কৌশলগত বোঝাপড়া ভাঙতে পারিনি। সেভাবে ভাবা হয়েছিল কি না সন্দেহ আছে তা নিয়েও। উল্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশকে চিন আরও একটা পাকিস্তান হিসাবে পেয়ে গিয়েছে। চিন যখন সে দেশের ‘পিপল টু পিপল’ সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী তখন আমরা মেডিক্যাল ভিসা, স্টুডেন্টস ভিসা পর্যন্ত কার্যত না দিয়ে সে দেশের নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। অথচ যাদের প্রবেশ আটকানো জরুরি সেই উগ্রবাদী শক্তি, জঙ্গির অনুপ্রবেশ কিন্তু চলছেই।

চিনকে নিউট্রালাইজ করতে ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানকে কাজে লাগাবে, এটা কে না বোঝে। অন্যদিকে, পাকিস্তান একই সঙ্গে চিন ও আমেরিকার সঙ্গে বন্ধুত্ব রক্ষা করে কূটনীতিতে অনন্য দক্ষতার পরিচয় দিয়ে চলেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ট্রাম্প পাকিস্তানের উপর সবচেয়ে কম শুল্ক চাপিয়ে দেশটির আর্থিক পরিস্থিতি উন্নত করার সুযোগ করে দিয়েছেন। বিনিময়ে পাকিস্তান নব উদ্যোগে হিন্দুস্থানকে বিব্রত করে যাবে, এটাই মার্কিন প্রত্যাশা।

অপারেশন সিঁদুরে আমরা আমাদের সামরিক শক্তির সক্ষমতা প্রমাণ করেছি। কিন্তু কাশ্মীরে পাকিস্তানের জঙ্গি সন্ত্রাসের মদত নিয়ে একটি দেশকে দিয়েও আমরা নিন্দা করাতে পারিনি। কূটনীতিতে বাংলাদেশও আমাদের মাঝে মধ্যে গোল দেয়। ঝড়-ঝঞ্জার পর দুর্গতদের উদ্ধার করার মতো করে শেখ হাসিনাকে কয়েক ঘণ্টার নোটিসে ঢাকা থেকে নয়া দিল্লি এনে আশ্রয় দিতে হয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা, সুরক্ষা, কূটনৈতিক বিশারদেরা নাকি কিছুই জানতেন না। আমরা শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপালের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করছি। প্রতিবেশী দেশগুলি রাতারাতি চিনের খপ্পরে পড়েনি। কী করছিলেন জয়শঙ্কর বাহিনী?

নরেন্দ্র মোদী অবশ্য বারে বারে এই টিমকে বাহবা দিয়ে ‘বিশ্বগুরু’ হওয়ার বাসনা ব্যক্ত করেছেন। তাঁর দল এবং হিন্দুত্ববাদী শক্তিগুলির প্রচার থেকে বোঝার উপায় ছিল না, মোদী, নাকি দেশ, বিশ্বগুরু কে? পাত্তা না পেয়ে শেষে ‘বিশ্বমিত্র’ শব্দটি আমদানি করা হয়েছে। চলতি পরিস্থিতিতে বলতেই হয় ‘বিশ্বমিত্র’ মোদীও ক্রমে নির্বান্ধব হয়ে পড়ছেন। ভারতকে নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, বেয়াদপিতে চিন, রাশিয়াও কিন্তু রা কাড়েনি।

এই পরিস্থিতির নানা কারণের দুটি বিশেষ দিক হল, নরেন্দ্র মোদীর শাসনে ভারতের বিদেশনীতি বিপন্ন হয়েছে হিন্দুত্ববাদী ও আদানিবাদী নীতির কারণে। প্রধানমন্ত্রী মোদী হিন্দুত্বকে সামনে রেখে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে ব্রতী হয়েছেন। রাষ্ট্রনেতাদের আলিঙ্গন সেই কূটনীতির বাহ্যিক রূপ। অন্তর্বেদী দিকটি হল বিদেশে ভারতীয় মিশনগুলির কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতকে হিন্দু সংস্কৃতি প্রধান রাষ্ট্র হিসাবে তুলে ধরা। ফলে কূটনীতির আসল ব্যকরণ বইটি পাশে রেখে তাঁরা সরকারের তালে তাল মেলাচ্ছেন। দেশের মতো বিদেশেও প্রধানমন্ত্রীর সফরের অংশ মন্দির দর্শন, নতুন মন্দিরের শিলান্যাস, উদ্বোধন। ২০২১-এ বাংলায় বিধানসভা ভোট চলার সময় বাংলাদেশ সফরে গিয়ে যশোরে যশরেশ্বরী কালী মন্দির এবং মতুয়া মন্দির দর্শন করেন। কূটনৈতিক সম্পর্ক, বিদেশ নীতিকে তাঁর মতো করে কেউ এভাবে দলীয় স্বার্থে কাজে লাগাননি। আমাদের বিদেশনীতি ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে। বলাই বাহুল্য, হিন্দুত্ববাদী এই বিদেশনীতি খ্রিস্টান প্রভাবিত ইওরোপ এবং আরব ও ইসলামিক দূনিয়া বেশিদিন বরদাস্ত করবে না। বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদীর সরকারের সময়ে যখন একই সঙ্গে দেশে সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগ আছে।

দ্বিতীয় কারণটি বিদেশনীতি, কূটনৈতিক সম্পর্ককে কতিপয় শিল্পপতি, ব্যবসায়ীর স্বার্থে বাণিজ্যমুখী করে তোলা। বিগত এগারো বছরে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আদানি, আম্বানিদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সেখানে কূটনীতির বহুমুখিতা অপেক্ষিত হয়েছে। সম্পর্ক স্থাপনে বাণিজ্যকে প্রাধান্য দেওয়ার নীতি সব দেশ মানবে না। আবার বহু দেশ বুঝেছে কিছু শিল্পপতিকে খুশি করলেই ভারতের সঙ্গে  কাজ চালানোর সম্পর্ক গড়ে তোলা সহজ। হয়তো সেই কারণে ভারত বিরোধিতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার শত অনটনের মধ্যেও মোদী ঘনিষ্ঠ এক শিল্পপতির বিদ্যুতের বকেয়া বিল দ্রুত মিটিয়ে দিয়েছে। যদিও হাসিনা আমলে হওয়া বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিটি নিয়ে তাদের বিস্তর অভিযোগ আছে।


```