Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
Weather: পয়লা বৈশাখে ঘামঝরা আবহাওয়া! দক্ষিণবঙ্গে তাপপ্রবাহের হলুদ সতর্কতা, আবার কবে বৃষ্টি?হরমুজ ঘিরে ফেলল মার্কিন সেনা! ইরানের 'শ্বাসরোধ' করতে ঝুঁকির মুখে আমেরিকাও, চাপে বিশ্ব অর্থনীতি'ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করা যাবে না', আইপ্যাক ডিরেক্টরের গ্রেফতারিতে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি অভিষেকেরভোটের মুখে ইডির বড় পদক্ষেপ! কয়লা পাচার মামলায় গ্রেফতার আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলমহাকাশে হবে ক্যানসারের চিকিৎসা! ল্যাবের সরঞ্জাম নিয়ে পাড়ি দিল নাসার ‘সিগনাস এক্সএল’সঞ্জু-রোহিতদের পেছনে ফেলে শীর্ষে অভিষেক! রেকর্ড গড়েও কেন মন খারাপ হায়দ্রাবাদ শিবিরের?আইপিএল ২০২৬-এর সূচিতে হঠাৎ বদল! নির্বাচনের কারণে এই ম্যাচের ভেন্যু বদলে দিল বিসিসিআইWest Bengal Election 2026 | হার-জিত ভাবিনা, তামান্না তো ফিরবেনা!সুস্থ সমাজ গড়াই লক্ষ্য: শহর ও মফস্বলে স্বাস্থ্য শিবিরের মাধ্যমে সাধারণের পাশে ডিসান হাসপাতালWest Bengal Election 2026 | আবেগের বশেই ‘হুমকি’ দিই শুভেন্দু ‘অপেরা’ করলে পারত!

Special Intensive Revision: নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন হোক পদ্ধতি মেনে

ভোটার কার্ড বা আধার কার্ডকে মান্যতা দিচ্ছে না কমিশন, কিন্তু এই দুই কার্ডের মাধ্যমে বানানো নথিকে মান্যতা দিচ্ছে। এর চেয়ে হাস্যকর আর কোনও পদক্ষেপ হতে পারে কি? 

Special Intensive Revision: নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন হোক পদ্ধতি মেনে

নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন।

শেষ আপডেট: 31 July 2025 13:42

অংশুমান কর 

নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজের তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবাংলায়। তৃণমূল কংগ্রেস সর্বতোভাবে বিরোধিতা করছে এই সংশোধনের। এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের সমালোচনা করলেও যেভাবে এই সংশোধন হচ্ছেসেই প্রক্রিয়া নিয়ে সুর চড়িয়েছে বাম দলগুলিও। প্রশ্ন হলনিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে এতখানি আতঙ্কের সত্যিই কোনো কারণ আছে কি

বিহারে নির্বাচনের ঠিক আগে এই নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে যা হয়েছেআতঙ্ক ছড়িয়েছে সেই বাস্তবতা থেকেই। ১ আগস্ট যে-সংশোধিত তালিকা প্রকাশ পেতে চলেছেসেই তালিকায় ৮মানে প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এই তালিকা প্রকাশের পরেও একটি মাস সময় দেওয়া হবে উপযুক্ত নথি দাখিল করে নাম নথিভুক্ত করার

নির্বাচন কমিশন সূত্রে যা জানা গেছেএখনও পর্যন্ত তালিকা থেকে বাদ যাওয়া নামগুলির অধিকাংশই মৃত ভোটারেরএকই জায়গায় নাম থাকা একাধিক ভোটারেরবা যাদের খোঁজই পাওয়া যায়নি সেরকম ভোটারের। যে-প্রক্রিয়াতে এই নাম বাদ দেওয়া হচ্ছেতা নিয়ে একটি মামলাও চলছে সুপ্রিম কোর্টেআজ অর্থাৎ ২৯ জুলাই আর একটি হিয়ারিং এর সম্ভাবনা আছে এই মামলারনিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের ওপর স্থগিতাদেশ না দিলেও ইতিমধ্যেই এই মামলা নিয়ে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে কিছু পরামর্শও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই পরামর্শগুলি একেবারে ফেলে দেওয়ার নয়

কী বলেছে সুপ্রিম কোর্টপ্রথমে সুপ্রিম কোর্ট পরামর্শ দিয়েছিল যেভোটার কার্ড, আধার কার্ড এবং রেশন কার্ডকে যেন ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তকরনের প্রামাণ্য নথি হিসেবে স্বীকার করা হয়। এই নথিগুলিকে কেন কমিশন ভোটারের পরিচয়ের প্রামাণ্য নথি হিসেবে গ্রহণ করবে নাতা জানিয়ে সুপ্রিমকোর্টে একটি হলফনামা জমা দেয় নির্বাচন কমিশন। এই হলফনামা জমা পড়ার পরেও কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বলেছে আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ডকে কমিশন যেন ভোটারের নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে স্বীকৃতি দেয়। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে যেরেশন কার্ড নকল করা সহজ হলেওভোটার কার্ড এবং আধার কার্ডের আমাদের দেশে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কাজেই কমিশন কেন এই দুটি পরিচয় পত্রকে স্বীকৃতি দেবে না?

খুব সঙ্গত কারণেই সুপ্রিম কোর্ট এই প্রশ্ন তুলেছে। প্রথম কথা, ভোটার কার্ড যদি নকল হয়ে থাকে তার প্রাথমিক দায় বর্তায় নির্বাচন কমিশনের উপরেই। যে-পরিচয়পত্র নির্বাচন কমিশনই ভোটারের হাতে তুলে দিয়েছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা কমিশন যদি নিজেই প্রশ্ন করেতাহলে আসলে কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে পড়ে। এর মানে কিন্তু এই নয় যেভোটার কার্ড নকল করা সম্ভব নয়। কিন্তু একটি ভোটার কার্ড নকল কি না তা বিচার করার দায়িত্ব কমিশনকেই নিতে হবে। কিছু ভোটার কার্ড নকল হয়েছে বলে সমস্ত ভোটার কার্ডকেই বাতিল করে দেওয়া কোনো যুক্তিতেই মেনে নেওয়া যায় না

সুপ্রিম কোর্ট তার পরামর্শে বলেনিকিন্তু এই প্রসঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন উঠে যায়। আধার কার্ড, ভোটার কার্ডকে বাতিল করলেও কমিশন ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রামাণ্য নথি হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে ব্যাঙ্কের পাস বই এবং এলআইসির নথিকেব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে একজন ভারতীয় নাগরিকের কী কী নথি জমা করতে হয়ভোটার কার্ডআধার কার্ড এবং প্যান কার্ড। এলআইসির ক্ষেত্রেও নিয়মটা একইঅর্থাৎ ব্যাপারটা দাঁড়াল এই যে, ভোটার কার্ড বা আধার কার্ডকে মান্যতা দিচ্ছে না কমিশনকিন্তু এই দুই কার্ডের মাধ্যমে বানানো নথিকে মান্যতা দিচ্ছে। এর চেয়ে হাস্যকর আর কোনো পদক্ষেপ হতে পারে কি

আপাতদৃষ্টিতে হাস্যকর মনে হলেও এইরকম একটি সিদ্ধান্তের পেছনে একটি গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করে থাকতে পারেএই আশঙ্কা যদি সত্যি না হয় তাহলেই খুশি হবকিন্তুকমিশনের কাজকর্ম দেখে এই আশঙ্কা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট এই প্রশ্নও তুলেছে কিন্তু যেকীভাবে কমিশন নিশ্চিত হচ্ছে যে আধার এবং ভোটার কার্ড নকল করা হলে অন্য ১১টি নথিও নকল করা সম্ভব নয়?

যেমন, ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে যে, বিহারে ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছে কিন্তু সে-রাজ্যে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়ে গিয়েছে একটি কুকুরের নামেকমিশনের কাজকর্মে নানা অসঙ্গতির কারণেই মনে হচ্ছে যেনিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে আসলে গরিব মানুষপরিযায়ী শ্রমিকদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে না তো? এ দেশে এমন গরিব মানুষের সংখ্যা এখনও কয়েক কোটি যাদের আজও একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা এলআইসির পলিসি নেইকিন্তু একটি ভোটার কার্ড বা আধার কার্ড আছেএই মানুষগুলির ভোটার কার্ড বা আধার কার্ডকে কমিশন প্রামাণ্য নথি হিসেবে গ্রহণ না-করলেএই সমস্ত মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া অনিবার্য। 

একইভাবে, যে-সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকেরা নিজের রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে কাজ করতে গেছেভোটার তালিকা সংশোধনের সময় তাদের নিজেদের বাড়িতে না পাওয়ার সম্ভাবনাই শতকরা ১০০%বাড়িতে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের না পাওয়া গেলেই তাদের দাগিয়ে দেওয়া সম্ভব নিখোঁজ ভোটার হিসেবে। বলা হচ্ছে যে, একজন ব্যক্তিকে তার বাড়িতে পাওয়া না গেলে প্রতিবেশীদের জানিয়ে দেওয়া হবে যেতিনি যেন কমিশনের প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের পক্ষে এত সহজে দূর রাজ্য থেকে ছুটি পেয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজের গ্রাম বা শহরে ফিরে আসা আদৌ সম্ভব কি

সমস্ত প্রক্রিয়াটি প্রেক্ষিতে আরও একটি প্রশ্নও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ প্রতিবছরই নিয়মমাফিক কমিশন করে থাকে। এত এত ভুয়া ভোটারমৃত ভোটারের নাম কমিশনের তালিকায় থেকে গেল কী করে, যদি নিয়মিত ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণের কাজ সঠিকভাবেই করা হয়ে থাকেভোটার তালিকায় এত এত ত্রুটি থাকার দায় কি আদতে নির্বাচন কমিশনেরই নয়ধারাবাহিকভাবে যে-প্রক্রিয়াটি জারি রেখে তালিকাকে শুদ্ধ করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনেরসেই কাজ তড়িঘড়ি করে অতি দ্রুত সম্পন্ন করতে চাইলে এই প্রশ্ন উঠবেই যেনির্বাচন কমিশন আদৌ একটি স্বায়ত্তশাসিতনিরপেক্ষ সংস্থা হিসেবে কাজ করছে তো

এরপরেও বলতেই হয় যেভারতবর্ষের একজন নাগরিক হিসেবে অবশ্যই চাইব ভোটার তালিকার সংশোধন হোক। ভোটার তালিকায় থাকা বহু নাম ব্যবহার করে ছাপ্পা ভোট দেওয়া বন্ধ হোক কিন্তু নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতিটি নির্বাচন কমিশনের পুনর্বিবেচনা করা অবশ্য কর্তব্য। আশা করা যায় যেসুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে যথাযথ নির্দেশিকা জারি করবে। 


```