
শেষ আপডেট: 16 January 2024 17:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুদ্ধ চলছে পৃথিবীতে। যুদ্ধ মহাকাশেও। সে এক মহাযুদ্ধ। থরথর করে কাঁপছে রণাঙ্গন। দুই দানব গ্যালাক্সি মল্লযুদ্ধ শুরু করছে।
তারায়-তারায় যুদ্ধ নতুন ব্যাপার নয়। কিন্তু এ যে দুই গ্যালাক্সির লড়াই। এক একটি গ্যালাক্সি মানে তাতে লাখ লাখ, কোটি কোটি নক্ষত্র বাসা বেঁধে থাকে। এমনই দুটি বিশালাকার গ্যালাক্সি পরস্পরকে যেন সাঁপের মতো পেঁচিয়ে ধরছে। একবার পাকিয়ে ধরছে, একবার ছাড়ছে। দুই গ্যালাক্সির কোটি কোটি তারা পরস্পরকে ধাক্কাধাক্কি করছে। দুই দানবের লড়াইয়ে মুর্হুমুর্হু মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ছে গামা রশ্মির স্রোত। যেন ভয়ানক বিস্ফোরণ হচ্ছে মহাকাশে।
নাসার হাবল টেলিস্কোপ দুই গ্যালাক্সির লড়াইয়ের ছবি তুলে পাঠিয়েছে পৃথিবীর গ্রাউন্ড স্টেশনে। পৃথিবী থেকে ৫৭০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে এই যুদ্ধ চলছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ঠিক পথিবীর দুই দেশ যেমন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, দুই গ্যালাক্সিও তেমনই একে অপরকে দেখে হুঙ্কার দিচ্ছে। মহাকাশ যেন কুরুক্ষেত্র।
অর্ধবৃত্তাকার এনজিসি ৬০৪১এইচ গ্যালাক্সির সঙ্গে লড়াই বেঁধেছে এআরপি ১২২ গ্যালাক্সির। সে লড়াই থামার নাম নেই। একে অন্যকে পেঁচিয়ে ধরছে। একটি অন্যটির মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, গ্যালাক্সি সাধারণত হয় গায়েগতরে মোটাসোটা। চেহারায় দৈত্যের মতো। এই দুই গ্যালাক্সিও তাই। কিন্তু যুদ্ধ করতে করতে তারা শরীরের শরীরের সব হাড়, মজ্জা, মাংস খোয়াতে বসেছে। কোনও গ্যালাক্সির ঝাঁক বা মহাঝাঁকের (সুপার ক্লাস্টার) জোরালো অভিকর্ষ বলের টানে যে কোনও গ্যালাক্সিরই যে এমন দশা হতে পারে, তাত্ত্বিক ভাবে তা আগেই জানা ছিল। কিন্তু এর আগে এই ভাবে গ্যালাক্সিদের ঝাঁক বা মহাঝাঁকে কোনও গ্যালাক্সিকে ডুবে যেতে দেখা যায়নি, সর্বহারা হয়ে।
নাসা জানাচ্ছে, এই ব্রহ্মাণ্ডে আমাদের পাড়া মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সিরভাগ্য ভাল। তার কাছেপিঠে নেই দৈত্যাকার কোনও গ্যালাক্সির ঝাঁক (ক্লাস্টার) বা মহাঝাঁক (সুপার ক্লাস্টার)। থাকলে তার হাড়, মাংস, মজ্জা, নাড়িভুড়ি কবেই উড়ে যেত কাছেপিঠে থাকা গ্যালাক্সি-ঝাঁকের জোরালো অভিকর্ষ বলের টানে।
আরও একটা মহাজাগতিক ঘটনা লক্ষ্য করেছেন গবেষকরা। দেখেছেন, দুই বিশাল গ্যালাক্সি সব খুইয়ে একে অন্যের মধ্যে তলিয়ে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তাদের শরীর ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা লেজটির বিভিন্ন অংশ জ্বলজ্বল করছে। সেই লেজে ছড়িয়ে, ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য তারা। যার মানে, সেই লেজে ‘প্রাণ’ রয়েছে। কারণ, সেখানে নতুন নতুন তারার জন্ম হচ্ছে এখনও।