
শেষ আপডেট: 14 April 2022 18:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৮৩৭ থেকে ১৯০১। ইউরোপের মাটিতে এই সময়টুকুর নাম ভিক্টোরিয়ান এজ (Victorian Age)। শিল্প, স্থাপত্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, অর্থ- সব ক্ষেত্রে এই সময় দারুণ উন্নয়নের মুখোমুখি হয়েছিল ইউরোপ (Europe)। তবে ইউরোপের সেই সোনায় মোড়া ভিক্টোরিয় যুগে কিছু কলঙ্কের ছিটেও ছিল বৈকি! তার মধ্যে অন্যতম যক্ষ্মা (Tuberculosis)।
আরও পড়ুন: আর্টিসন অ্যাগ্রোটেক: বিশ্বের প্রথম 'ইঞ্জিনিয়ারড ব্যাম্বু বোর্ড'
কঠিন এই রোগ ইউরোপে মাথা চারা দিয়ে উঠেছিল ভিক্টোরিয় যুগেই। আজকাল টিবি হলে নিমেষেই তা সেরেও যায়। কিন্তু সে যুগে টিউবারকিউলোসিসের (Tuberculosis) নাম শুনলেই মানুষ আঁতকে উঠত। মারণ এই রোগে সারা পৃথিবীতে নানা সময়ে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ইউরোপে ভিক্টোরিয় যুগে যক্ষ্মা বা টিবির দাপট ছিল মারাত্মক।

তবে খুব অদ্ভুতভাবে এই রোগের অন্য প্রভাব পড়েছিল ইউরোপে। একদিকে যেমন প্রচুর প্রাণহানি হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই ভিক্টোরিয় যুগে ইউরোপের ফ্যাশনকে প্রভাবিত করেছে টিবি। রোগের ছোঁয়ায় বদল এসেছে প্রচলিত ট্রেন্ডে। ইউরোপের নারী পুরুষের পোশাকের ধাঁচ গেছে বদলে।
টিবি আক্রান্ত রোগীদের চেহারায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছিল রোগ। রোগের প্রভাবে রোগীর শরীর দিন দিন ফ্যাকাশে হয়ে আসত। চেহারা খারাপ হয়ে যেত নিমেষেই। টিবি আক্রান্তরা খুব সহজেই রোগা হয়ে যেতেন। মেয়েদের কোমর সরু হয়ে আসত। আর তাৎপর্যপূর্ণভাবে রোগের প্রভাবে পাওয়া এই নতুন শারীরিক গঠন ভাল লাগত রোগীদের। রোগা আর ফ্যাকাশে অর্থাৎ আগের চেয়ে ফর্সা হয়ে যাওয়া তাঁরা উপভোগ করতেন!

দেখা গিয়েছিল টিবিতে ছেলেদের চেয়েও বেশি করে আক্রান্ত হচ্ছেন মেয়েরা। মেয়েদের কোমর সরু হয়ে এসেছিল এই রোগের জন্য। আর সেই থেকে লম্বা গাউনের পরিবর্তে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল ছোট স্কার্ট। মেয়েরা আগে পায়ের জুতো ঢাকা জামা পরতেন। টিবির পর থেকে ডাক্তাররাও মেয়েদের লম্বা পোশাক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিতেন, কারণ ওই ধরনের পোশাকে রাস্তার ধুলো ময়লা ঘরে এসে উঠতে পারে সহজেই। ফলে ছোট হয়ে গেছিল তাদের পোশাকের দৈর্ঘ্য, পায়ের জুতো এরপর থেকে দেখা যেত স্পষ্টই।
টিবি হলে শুধু চামড়ার রঙ ফ্যাকাশে হত না, দীর্ঘস্থায়ী জ্বরের ফলে গাল হয়ে উঠত লালচে। ঠোঁটেও রক্তিম আভা দেখা দিত। বলা বাহুল্য, এই নতুন রূপ পছন্দই করতেন রোগীরা।

থুথু থেকে ছড়িয়ে পড়ছিল টিবি, ডাক্তাররা ছেলেদের লম্বা দাড়ি কেটে ফেলার পরামর্শ দিতেন এই সময়। ফলে ছেলেদের লুকেও বদল এল অবশ্যম্ভাবী। ছোট দাড়ি ও চুলে ভিক্টোরিয় যুগের ছেলেরা পেল আরও গম্ভীর আর আকর্ষণীয় একটা লুক।
টিবি ফ্যাশন দিয়ে হয়তো রোগীদের মন ভোলাতে পেরেছিল, কিন্তু আসলে এই রোগের মারণ ক্ষমতা ছিল মারাত্মক। একটু একটু করে রোগীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিত টিউবারকিউলোসিস।