মায়েরা কখনও নিজের জন্য দামি কিছু কেনেন না, সন্তানের ভবিষ্যৎই তাঁদের একমাত্র বিলাসিতা (Mother Child Bond)। কিন্তু যখন সেই সন্তান বড় হয়ে নিজে হাতে মায়ের জন্য কিছু দিতে চায়, তখনও অনেক মা সহজে সেটা নিতে চান না।

ছবি- এআই
শেষ আপডেট: 2 April 2026 16:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মায়েরা কখনও নিজের জন্য দামি কিছু কেনেন না, সন্তানের ভবিষ্যৎই তাঁদের একমাত্র বিলাসিতা (Mother Child Bond)। কিন্তু যখন সেই সন্তান বড় হয়ে নিজে হাতে মায়ের জন্য কিছু দিতে চায়, তখনও অনেক মা সহজে সেটা নিতে চান না। ঠিক এমনই এক মায়া, জেদ, ভালবাসার মিশেল ভরা বাস্তব অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social media) নেটিজেনদের নজর কেড়েছে। এক তরুণ উদ্যোক্তা মায়ের জন্য প্রায় এক লক্ষ টাকার চশমা কিনে দিতে চাইলেন, আর সেই উপহার (Son buys gift for mother) নিতে রাজি করাতে তাঁর লেগে গেল পুরো আধঘণ্টা। মুহূর্তটি যেমন বাস্তব, তেমনই হৃদয়ছোঁয়া- আর সেই কারণেই গল্পটি ছড়িয়ে পড়েছে হাজারো মানুষের মনে।
এই গল্পটি শেয়ার করেছেন সাহিল রাজ কুমার (Sahil Raj Kumar story), পেশায় VedicCraft সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর। তিনি জানান, তাঁর মা সেদিন চশমার দোকানে ঘুরছিলেন এবং ভিডিও কলে তাঁকে দেখাচ্ছিলেন কোন কোন ফ্রেম তিনি চেষ্টা করছেন। তিনি আর্থিক দিক থেকে স্বচ্ছল কিন্তু নিজের জন্য কখনও বাড়তি খরচ করতে চান না।
😭😭 my mom doesn’t exactly know how much I make.
She is well off but never splurges on luxuries for herself.
Today she went to buy some glasses, and she VC’d me to show some of the pairs.
She liked one of them and it was like $1,200 and went like hell nah.
I told her to…— Sahil (@vedictrades) April 1, 2026
মা একটি ডিজাইনার চশমা (designer glasses) পছন্দ করলেও দাম শুনেই পিছিয়ে যান- ১ হাজার ২০০ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। সঙ্গে সঙ্গেই জানিয়ে দেন, এত দামের চশমা তিনি কখনও কিনবেন না। তখনই ছেলে বলেন, উপহার হিসেবে তিনিই দাম দেবেন। কিন্তু মা তাতেও রাজি নন। তাঁর দাবি, ছেলে যখন মাসে পাঁচ-ছয় লক্ষ টাকা (প্রায় চার-পাঁচ হাজার ডলার) উপার্জন করবে, তখনই এমন উপহার নেবেন।
এরপর শুরু হয় ছেলের নতুন লড়াই- মাকে বিশ্বাস করানো যে তিনি ইতিমধ্যেই ওই পরিমাণ টাকা উপার্জন করেন। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে বোঝানোর পর মা অবশেষে বিশ্বাস করেন এবং মেনে নেন উপহারটি। পরে এই অভিজ্ঞতাকে তিনি বর্ণনা করেন, “একেবারে পরিপূর্ণ, আনন্দের একটি দিন।”
এই পোস্ট এক্স–এ ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকে লেখেন, এই গল্প দক্ষিণ এশিয়ার পরিবারে খুব পরিচিত, মা–বাবারা সন্তানদের সাফল্যে খুশি হলেও তাদের টাকা খরচ করতে চান না, বরং নিজেরাই যতটা সম্ভব নিজের খরচ নিজেরাই সামলাতে ভালবাসেন। সেই আবেগই ছুঁয়ে যায় হাজারো ইউজারকে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ লিখেছেন, “মা–বাবার ভালবাসার মূল্য কখনও টাকায় মাপা যায় না, এই গল্প সেই কথাই আবার মনে করিয়ে দিল।” আর একজন বলেন, “সফল হওয়ার পরও মাকে প্রথম উপহার দিতে গিয়ে এভাবে চেষ্টা করতে হয়- এটাই ভারতীয় পরিবারের আসল আবেগ।”
মানুষের মন জয় করা এই গল্প আবারও মনে করিয়ে দিল, মা–বাবার প্রতি সন্তানের ভালবাসা যতটাই সরল, সেটিকে গ্রহণ করতেও কখনও কখনও প্রয়োজন অনেকটা মানানোর।