বিভিন্ন দেশের জেলে রয়েছে ‘সঙ্গম কক্ষ’। বন্দিরা সঙ্গীর সঙ্গে ২ ঘণ্টা একান্তে সময় কাটাতে পারেন। জানুন বিস্তারিত।

শেষ আপডেট: 4 April 2026 16:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কারাগার মানেই কড়া নজরদারি, নিয়ন্ত্রিত জীবন আর ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অভাব। এই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করেছে ইতালি। ইউরোপের এই দেশে এই প্রথম জেলের ভিতরে চালু হল বিশেষ ‘সঙ্গম কক্ষ’, যেখানে বন্দিরা তাঁদের সঙ্গীর সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে পারবেন। নিরাপত্তারক্ষীর সরাসরি উপস্থিতি ছাড়াই।
ইতালির জন্য এটি নতুন হলেও ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে এই ব্যবস্থা বহুদিন ধরেই চালু রয়েছে। ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস এবং সুইডেনের কারাগারগুলিতে বন্দিদের জন্য ‘পারিবারিক সাক্ষাৎ কক্ষ’ বা ‘ইন্টিমেসি রুম’ আগে থেকেই রয়েছে।
শুনতে বিতর্কিত লাগলেও, প্রশাসনের দাবি, এটি কেবল সুবিধা নয়, বরং বন্দিদের মৌলিক মানবাধিকারের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে ইতালির টেরনি শহরের একটি সংশোধনাগারে পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। আদালতের নির্দেশ মেনেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট অনুমতি পাওয়া বন্দিরা তাঁদের স্বামী, স্ত্রী বা দীর্ঘমেয়াদি সঙ্গীর সঙ্গে একটি আলাদা কক্ষে নিরিবিলি সময় কাটাতে পারবেন। এই সময়সীমা অন্তত দুই ঘণ্টা।
এই বিশেষ কক্ষগুলিকে সাধারণ জেল সেলের মতো রাখা হয়নি। সেখানে রয়েছে খাট, বিছানা, বালিশ এবং একটি সংলগ্ন শৌচাগার, বন্দিরা কিছুটা হলেও স্বাভাবিক জীবনের অনুভূতি পান।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই সময়ের মধ্যে কোনও নিরাপত্তারক্ষী ঘরের ভিতরে থাকবেন না। তবে নিরাপত্তার কারণে দরজা সম্পূর্ণ বন্ধ করা যাবে না এবং প্রয়োজনে বাইরে থেকে নজরদারি থাকবে। জরুরি পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপও করতে পারবে।
ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে এক বন্দি এই সুবিধা ব্যবহার করেছেন এবং গোটা প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে সব বন্দির জন্য এই সুবিধা থাকবে না। শুধুমাত্র যাঁরা বিশেষ অনুমতি পাবেন, তাঁরাই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই কক্ষে সময় কাটাতে পারবেন। বন্দির আচরণ, অপরাধের ধরন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনা করেই এই অনুমতি দেওয়া হবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যৌনতা মানুষের একটি স্বাভাবিক ও মৌলিক চাহিদা। কারাবাসের কারণে সেই চাহিদাকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা মানবাধিকারের পরিপন্থী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে পারে। দীর্ঘদিন পরিবার ও সঙ্গীর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে যে হতাশা, আগ্রাসন বা মানসিক চাপ তৈরি হয়, তা অনেকটাই কমতে পারে।
কিছু বিশ্লেষকের মতে, এর ফলে জেলের ভিতরে হিংসার ঘটনাও কমতে পারে। কারণ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ বন্দিদের মানসিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কও শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, জেল শাস্তির জায়গা, সেখানে এই ধরনের সুবিধা দেওয়া কি যুক্তিযুক্ত? আবার অন্যদের যুক্তি, শাস্তি মানে মানবিক মর্যাদা কেড়ে নেওয়া নয়।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, কারাগারের সংজ্ঞা কি বদলাচ্ছে? শাস্তি আর মানবাধিকারের সীমারেখা কোথায় টানা উচিত, সেটাই ভাবিয়েছে ইতালির এই পদক্ষেপ।
বন্দিদের জন্য এই ‘দু’ঘণ্টার ব্যক্তিগত সময়’ হয়তো কেবল একটি সুযোগ নয়, বরং সমাজের চোখে শাস্তি ও মানবিকতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে ভাবার দরজা খুলে দিল।