.jpeg)
গ্রাফিক্স- শুভ্র শর্ভিন।
শেষ আপডেট: 18 December 2024 15:15
দেবাশিস গুছাইত
একসময় চিঠিই ছিল মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। ইন্টারনেট তো দূরে থাক, তখনও মানুষের হাতে হাতে মোবাইল আসেনি। হাতে গোনা কিছু মানুষের বাড়িতে দেখা যেত ল্যান্ড ফোন। সেই যুগে দুর দুরান্তের আত্মীয়র সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি!
আর চিঠি মানেই পোস্ট অফিস বা ডাকঘর! সাইকেলে চড়ে চিঠি পৌঁছে দিতে বাড়িতে বাড়িতে যেতে দেখা যেত ডাক বিভাগের কর্মীদের। সে সব দৃশ্য এখন কষ্ট কল্পনা!
ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোনের দাপটে আগের প্রজন্ম যেমন চিঠি লেখার অভ্যস্ততা হারিয়ে ফেলেছে তেমনই চিঠি কী জিনিস, তা জানেই না নব প্রজন্মের অনেকেই।
হোয়াটস অ্যাপ, মেসেঞ্জারের চ্যাটবক্সে মুখগুজে থাকা প্রজন্মকে তাই ডাকঘর সম্পর্কে জানাতে, চিঠি লেখার অভ্যস্ততা গড়ে তুলতে সম্প্রতি অভিনব উদ্যোগ নিয়েছিল ডাক বিভাগ।
ডাক বিভাগের হাওড়া জেলার উদ্যোগে স্কুলের কচিকাঁচাদের নিয়ে চিঠি লেখার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। সাঁকরাইলের কান্দুয়া মহাকালি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে 'জয় অফ রাইটিং' প্রতিযোগিতায় ১১টি প্রাথমিক ও ৬টি হাইস্কুলের এক হাজারা পড়ুয়া অংশ নিয়েছিল। এবং মোবাইল থেকে মুখ সরিয়ে বন্ধু বা আত্মীয়কে চিঠি লিখল তারা। সাদা কাগজে পেনের কালিতে লিখল তাঁদের মনে কথা। ডাক বিভাগের এমন আয়োজনে খুশি অভিভাবকরাও।
অভিভাবিকা ঋতু পাত্রর কথায়, "এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। ওরা তো চিঠির বিষয়ে কিছুই জানে না। এর জন্য অবশ্য আমরাও দায়ী। কারণ, আমরাও তো আর চিঠি লিখি না।"
আর এক অভিভাবিকা ফাল্গুনী সর্দার বলেন, "পোস্ট অফিস আমাদের পুরনো স্মৃতি ফিরিয়ে দিল! সত্যিই তো, একসময় মানুষের যোগোযাগের অন্যতম মাধ্যম ছিল এই চিঠি। তখন ৩-৪ দিন পরে চিঠি পৌঁছলেও তা মানুষের মনে দাগ কেটে যেত।"
ডাক বিভাগের এমন আয়োজনে খুশি কচিকাঁচারাও। স্কুল ছাত্রী প্রীতি খাতুন, সৌরীশা পাত্র বলে, "প্রথমবার চিঠি লিখলাম। বেশ ভাল লাগল। এখন থেকে মাঝে মধ্যে চিঠি লিখব!"
ডাক বিভাগের হাওড়ার সুপারিনটেন্ড গীতা বার্লা বলেন, "শুধু চিঠি লেখাই নয়, ডাক বিভাগ সম্পর্কে পড়ুয়াদের ধারণা দিতেও এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। বেশ ভাল সাড়া মিলল।"
কিন্তু মোবাইলের দাপটে চিঠির সেই সাদা-কালো দিন কি আর আদৌ ফিরবে? 'সম্ভবত ফিরবে না' জানিয়েও আগের প্রজন্মের আক্ষেপ, "সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনকে স্বাগত জানাতেই হয়। কিন্তু চিঠি লেখার মধ্যে যে আলাদা একটা অনুভূতি ছিল, মনে যে আলাদা করে ডাক কেটে যেত, সেই স্বাদ কোনওদিনই পারবে না হোয়াটস অ্যাপ, মেসেঞ্জারের চ্যাটবক্স!"