‘জাগ বসন্ত’ থেকে ‘নন্দা দেবী’—এলপিজি জাহাজের নামকরণে রয়েছে বিশেষ নিয়ম। কীভাবে ঠিক হয় এই নাম, কারা এর দায়িত্বে রয়েছে?

কারা দেয় এই জাহাজগুলির নাম?
শেষ আপডেট: 5 April 2026 17:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার হরমুজ পেরিয়েছে ভারতের এলপিজি ট্যাঙ্কার 'গ্রিন আশা'। এটা নবম। এর আগে ‘বিডব্লিউ টায়র’ (BW TYR) ও ‘বিডব্লিউ এল্ম’ (BW ELM) প্রায় ৯৪,০০০ টন তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস নিয়ে দেশে এসেছে। ‘পাইন গ্যাস’ (Pine Gas) ও ‘জাগ বসন্ত’ (Jag Vasant) ২৬ থেকে ২৮ মার্চের মধ্যে প্রায় ৯২,৬১২ টন এলপিজি সরবরাহ করেছে। ‘এমটি শিবালিক’ (MT Shivalik) ও ‘এমটি নন্দা দেবী’ (MT Nanda Devi) ১৬-১৭ মার্চ গুজরাতের (Gujarat) মুন্দ্রা (Mundra) ও কান্ডলা (Kandla) বন্দরে প্রায় ৯২,৭১২ টন এলপিজি পৌঁছেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশে এলপিজি নিয়ে হাহাকারের মাঝে এই খবর হাতে গরম। সকলের কাছে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় এখন এটাই তাই এলপিজি ট্যাঙ্কার দেশে আসছে মানেই সাজো সাজো রব। সকলেই ভাবছেন, এই বুঝি গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমা কমল। খাবার দোকানিরাও আশায় বুক বাঁধছেন রোজ। এই পরিস্থিতিতে এই সব ট্যাঙ্কারের নাম চা দোকান থেকে তাসের আড্ডা, লোকের মুখে মুখে ঘুরছে।
জানেন এই ট্যাঙ্কারগুলোর নাম কারা দেয়? ‘জগ বসন্ত’, ‘এমটি শিবালিক’- এমন নাম কেন এই সব জাহাজের? এই নামকরণের নেপথ্যে কি বিশেষ কোনও কারণ আছে?
তথ্য বলছে, ভারতীয় তেলবাহী জাহাজের নামকরণ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে হয়। সরকারি সংস্থা শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (Shipping Corporation of India বা SCI) ঠিক করে কোনটার কী নাম হবে।
ভারত সরকারের পাবলিক সেক্টর সংস্থা (Public Sector Undertaking) SCI তাদের জাহাজের নামকরণে কঠোর থিম্যাটিক নিয়ম (Thematic Naming Convention) মেনে চলে। উদ্দেশ্য একটাই, আন্তর্জাতিক জলপথে (International Waters) দেশের ঐতিহ্য ও ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট তুলে ধরা।
বিশেষ করে ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার (Crude Oil Tanker) বা সুয়েজম্যাক্স (Suezmax) ও ভিএলসিসি (VLCC) ধরনের বড় জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে SCI দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় বা পর্বতমালার (Mountain Naming Convention) নাম ব্যবহার করে আসছে। যেমন ‘এমটি শিবালিক’ (MT Shivalik) নামটি এসেছে হিমালয়ের (Himalayas) বাইরের শিবালিক পর্বতমালা (Shivalik Hills) থেকে। আবার ‘এমটি নন্দা দেবী’ (MT Nanda Devi)-র নাম রাখা হয়েছে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ নন্দা দেবীর (Nanda Devi) নাম অনুসারে।
শুধু এই দুই জাহাজই নয়, একই ধারা মেনে আরও একাধিক ট্যাঙ্কারের নাম রাখা হয়েছে যেমন‘এমটি কাঞ্চনজঙ্ঘা’ (MT Kanchenjunga), ‘এমটি এভারেস্ট’ (MT Everest), ‘এমটি অন্নপূর্ণা’ (MT Annapurna)। সবকটিই ভারতের বা দক্ষিণ এশিয়ার বিখ্যাত পর্বতের নামে।
তবে সব জাহাজের নাম এক নিয়মে হয় না। জাহাজের ধরন অনুযায়ী নামের থিম বদলায়। প্রোডাক্ট ট্যাঙ্কারের (Product Tanker) ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় ভারতীয় রাজ্য (Indian States) বা জাতীয় নেতাদের (National Leaders) নাম—যেমন ‘এমটি মহারাষ্ট্র’ (MT Maharashtra), ‘এমটি গুরু গোবিন্দ সিং’ (MT Guru Gobind Singh)।
বাল্ক ক্যারিয়ারের (Bulk Carrier) নামকরণে থাকে প্রাচীন রাজবংশ (Ancient Dynasties) বা ঐতিহাসিক স্থানের (Historical Places) ছাপ—যেমন ‘এমভি চোলা’ (MV Chola), ‘এমভি কৃষ্ণদেবরায়’ (MV Krishnadevaraya), ‘এমভি বিশ্ব আনন্দ’ (MV Vishva Anand)।
এলপিজি বা অ্যামোনিয়া ক্যারিয়ারের (LPG/Ammonia Carrier) ক্ষেত্রে বিজ্ঞানী (Scientists) বা নদীর (Rivers) নাম ব্যবহার করা হয়। যেমন ‘এমটি হোমি ভাবা’ (MT Homi Bhabha), ‘এমটি বরুণা’ (MT Varuna)। আর অফশোর সাপ্লাই ভেসেলের (Offshore Supply Vessel) ক্ষেত্রে উচ্চমানের গুণ বা উপাদানের (Qualities/Elements) নাম—যেমন ‘সিন্ধু’ (Sindhu), ‘সাগর’ (Sagar)।
নাম একটা রেখে দিলাম, এমনটা এক্ষেত্রে হয় না। প্রথমে SCI নামের প্রস্তাব করে, পরে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক (Ministry of Ports, Shipping and Waterways)।
সুতরাং, এই যে এত জাহাজ আসছে দেশে তেল বা এলপিজি নিয়ে, প্রত্যেকটির নামকরণের পিছনে কারণ রয়েছে।