এই রাস্তাতেই আজ থেকে সাত মাস আগে পাওয়া গিয়েছিল এক মহিলার কাটা মাথাও। কেউ ভয়ে যেতই না এলাকায়। টালিগঞ্জের এক্কেবারে কাছে গা ঘেঁষেই এই রাস্তা রয়েছে।

Walking lane
শেষ আপডেট: 1 July 2025 19:55
কলকাতা তুমিও হেঁটে দেখো...। হেঁটে প্রেম করা থেকে আড্ডা শেষে বাড়ি ফেরা। স্কুল কাট করে খালি পকেটে ঘুরে বেড়ানো থেকে কলেজের বিকেলগুলো, তিলোত্তমার বুকে এই হেঁটে ঘুরে বেড়ানোর কত স্মৃতি। কিন্তু দিন বদলের সঙ্গে রাস্তায় হাঁটার জায়গা কমেছে। দুর্ঘটনার ভয়ে অনেক লেনেই আজ আর সেভাবে হাঁটা সম্ভব হয় না। ফলে কোথাও যেন হারিয়ে যাচ্ছে এই অভ্যাস।
আগের মতন পরিষ্কার, ঝকঝকে রাস্তাও তো সেভাবে চোখে পড়ে না। যাঁরা হাঁটতে ভালবাসেন, কিন্তু সেভাবে হেঁটে ঘুরে বেড়াতে পারেন না, তাঁদের জন্যই এক নতুন রাস্তার সন্ধান নিয়ে এল দ্য ওয়াল। যেখানে গেলেই ইচ্ছে করবে একটু হেঁটে নিই। মানুষ যাতে ভালভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন তার জন্য ও হাঁটাই সুস্থ থাকার পথ, এই বার্তা দিতে রাস্তার আগমন।
টালিগঞ্জের এক্কেবারে কাছে গা ঘেঁষেই এই রাস্তা রয়েছে। অফিসিয়াল অ্যাড্রেস, টালিগঞ্জের কাছে গ্রাহাম রোড। পোশাকী নাম 'ওয়াকিং লেন।'
এই রাস্তায় হেঁটে দেখতে পৌঁছে গেছিল দ্য ওয়াল। গিয়েই দেখা গেল সবুজ রঙের দু'পাশে উঁচু পাঁচিল। আর তার মাঝে রাস্তা। পরিষ্কার, সুন্দর, ঝকঝকে! কোথাও কোনও আবর্জনা নেই। লোকজন হাঁটছেন নিজের ছন্দে। বাচ্চারাও খেলছে মনের খুশিতে। এই রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে দেখা মিলেছে পুলিশের কিয়স্ক। বোঝাই যাচ্ছে রাস্তাটি নিরাপত্তা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। একই সঙ্গে রাস্তাটির দু'পাশের দেওয়ালজুড়ে লেখা রয়েছে, ' জীবনে সুস্থ থাকতে হলে, হাঁটার উপর কোনও ঔষধ নেই।'
এই রাস্তাতেই দেখা হয় দু'জনের সঙ্গে। জানা যায় ইতিহাস। এই ওয়াকিং লেন না কি আগে ছিল অপরাধের আঁতুড়ঘর। এই রাস্তাটিকে কয়েক মাস আগেও নরকের সঙ্গে তুলনা করতেন স্থানীয়রা। রাস্তায় না ছিল আলো, না নিরাপত্তা। মেয়েদের জন্য প্রতি পদে অপেক্ষা করত অঘটন। এই রাস্তাতেই আজ থেকে সাত মাস আগে পাওয়া গিয়েছিল এক মহিলার কাটা মাথাও। কেউ ভয়ে যেতই না এলাকায়। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ছিল রোজকার বিষয়।
কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে এই রাস্তার অভাবনীয় পরিবর্তন হয়, যা দেখে খুশি বাসিন্দারা। তাঁদের চোখে-মুখেও স্বস্তির ছাপ স্পষ্ট।
এই সব শুনে আপনাদেরও যেতে ইচ্ছা করছে? তাহলে দেরি না করে পৌঁছে যান টালিগঞ্জের ওয়াকিং লেনে।