
শেষ আপডেট: 27 August 2022 12:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিটি সন্তানের কাছেই প্রথম আশ্রয় বাবা-মা। একমাত্র এই সম্পর্কই যেন আনন্দ, দুঃখ ও জীবনের নানা অনুভূতি ও পরিস্থিতিতে পাশে থাকে। কিন্তু প্রথম বাবা-মা হওয়ার পরে অনেক বাবা-মাই বুঝে উঠতে পারেন না, সন্তানকে ঠিক কীভাবে গড়ে তুলবেন। হয়তো অজান্তেই তাঁরা এমন কিছু ভুল করে বসেন, যা ভবিষ্যতে সন্তানেরই সমস্যার কারণ হয় (Parenting Tips)।
আইএএস অফিসার দিব্যা মিত্তল (IAS Officer Divya Mittal), সম্প্রতি টুইটারে পেরেন্টিং নিয়ে বিশেষ কিছু মতামত দিয়েছেন। যা ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল (Viral) হয়েছে।
দিব্যা নিজে দুই সন্তানের মা। তিনি ছোট থেকে বড় হয়েছেন তিন ভাই-বোনের মধ্যে। ছোট থেকে তাঁর মাকে যেভাবে তাঁদের মানুষ করতে দেখেছেন সেই কথাই তিনি টুইটারে তুলে ধরেছেন। তিনি আরও বলেছেন, সেই পথ অনুসরণ করেই তিনি তাঁর সন্তানদের মানুষ করছেন। অন্যান্যদের জন্যও সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।
১) সন্তানদের বলুন তারা সবকিছু করতে পারে
সন্তানদের মধ্যে সংকল্প ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা খুব জরুরি। তাই তাদের সবসময় এটাই বিশ্বাস করাতে হবে যে, তারা কারও থেকে কম নয়, তারা সব কিছু করতে পারে। যদি সন্তানের মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে, তাহলে ভবিষ্যতে কোনও কাজ করতে গিয়ে পিছু হটবে না তারা।
২) নিজের থেকে শিখতে দিন
সন্তানকে কিছু হাতে ধরে শেখানোর চেয়ে ভাল, তাদের নিজের থেকে শিখতে দিন। তাতে যদি তারা আঘাত পায়, তাতেও ভয় পাবেন না। আপনি তাদের জীবনের প্রতিটি বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারবেন না। তবে তারা নিজেরা যাতে সেই বিপদ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে পায়, সেই ভাবে তাদের তৈরি করতে পারবেন। তাই সব কিছুতে সাহায্য না করে, সন্তানদের নিজে থেকে কিছু করার সাহস জোগান।
৩) সন্তানের মধ্যে প্রতিযোগী মনোভাব গড়ে তুলুন
প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে উৎসাহিত করুন। যদি তারা হেরেও যায়, তবু তাদের উৎসাহিত করুন। জেতা হারা সব প্রতিযোগিতার অংশ, কিন্তু হেরে গিয়ে প্রতিযোগিতায় না লড়ার মনোভাব তৈরি হওয়া খুবই খারাপ। জীবনে তাদের ব্যর্থতার সঙ্গে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে।
৪) ঝুঁকি নিতে দিন সন্তানকে
জীবনে ঝুঁকি নেওয়ার মনোভাব গড়ে তুলুন। ছোট থেকেই সন্তানদের মধ্যে সেই মনোভাব গড়ে উঠলে তা খুবই ইতিবাচক। ছোট থেকেই অ্যাডভেঞ্চার মনোভাবাপন্ন করে তুলুন তাদের। ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা আপনার সন্তানকে দায়িত্বশীল করে তুলবে।
৫) প্রাচুর্যের হিসেব নিকেশ
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আপনি জীবনে যা পেয়েছেন আপনার সন্তানেরা তার থেকে বেশি পায়। তা বলে বারবার সেই কথা মনে করিয়ে দেওয়া উচিত নয়। সন্তান অনেক পেয়েছে, এমন ধারণা সারাক্ষণ তার উপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।
৬) সন্তানের কাছে আদর্শ হয়ে উঠুন
সব সন্তানের কাছেই তাদের বাবা-মা আদর্শ। সেই পরিসরটা বাড়ান। আপনি যেটা ঠিক মনে করেন, সেটাই তাদের সামনে করুন, দেখবেন সন্তানের ওপরও তারই প্রভাব পড়বে। সন্তানরা যদি বুঝতে পারে যে, আপনি যেটা বলে বেড়ান মোটেই আপনি তেমন নন, তা হলে সন্তানের ওপর খারাপ প্রভাব পড়বে।
৭) খারাপ আচরণ এড়িয়ে চলুন
আপনি যদি খারাপ আচরণ এড়িয়ে যান, দেখবেন আপনার সন্তানও সেই পথ অনুসরণ করছে। এমন যেন কখনও না হয় যে, আপনার সন্তান কোনও ভুল করলে সেটাতে আপনার প্রশ্রয় থাকবে। সন্তানের ব্যবহার বা কাজকর্ম সংশোধন করার চেষ্টা করুন।
৮) সন্তানদের বিশ্বাস করুন
সবার আগে আপনি আপনার সন্তানদের বিশ্বাস করুন। আপনার সন্তানদের যেন কখনও মনে না হয় যে তার বাবা-মা তাকে বিশ্বাস করে না। যদি আপনার সন্তানরা বোঝে যে, তার বাবা মা তাকে বিশ্বাস করছে, তাহলে আপনার থেকে কিছু লুকোবে না, আপনাকে সব সত্যিই বলবে।
৯) সন্তানকে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখে ফেলুন
আপনার সন্তানকে কীভাবে জীবনে লড়াইয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবেন সেটা আপনি ঠিক করবেন। সবসময় সন্তানকে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার স্বাদ দিন। যত অভিজ্ঞতা পাবে, আপনার সন্তান তত বেশি সমৃদ্ধ হবে।
১০) সন্তানের কথা শুনুন
সন্তানের কথা শুনুন। সবসময় নিজের মতামত চাপিয়ে দেবেন না। সন্তানরা কী বলতে চাইছে তা শুনে বোঝার চেষ্টা করুন। তার পর নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে বিচার করে সঠিক পরামর্শ দিন।
১১) কখনও তুলনা করবেন না
বেশিরভাগ বাবা-মায়েদের মধ্যেই এই প্রবণতা দেখা যায়। সর্বদাই নিজের সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। যা একেবারেই উচিত নয়। সব মানুষেরই নিজস্বতা থাকে।
১২) সন্তানের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হয়ে উঠুন
সব বাবা-মায়েদেরই উচিত সন্তানের কাছে বটবৃক্ষ হয়ে ওঠা। যাতে সন্তানরা আপনার কাছে নিরাপদ মনে করে। অর্থাৎ তারা যেন যে কোনও বিপদে আপনার কোলে নির্ভয়ে আশ্রয় নিতে পারে। যেখানে কোনও সন্তান কিছু না পারলেও যেন ভালবাসা পায়।
১০০ বছর পর ভারতের এই রাজ্যে পেল দ্বিতীয় রেলস্টেশন, ঐতিহাসিক দিন