
শেষ আপডেট: 14 September 2022 15:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৬ হাজার ফুট উচ্চতা। চারদিকে বাদামি পাহাড়, বেশিরভাগই বরফে ঢাকা। ঠিক তার মাঝখানে আশমানি-নীল স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ জলের হ্রদ (Virgin lake)! হিমেল হওয়ার ধোঁয়ায় ঢেকেছে তার উপরিতল। এতখানি নয়নাভিরাম সে দৃশ্য, যে একবার দেখেছে, সে আমৃত্যু স্মৃতিতে রেখে দেবে তা। চারপাশে কোথাও জনমানব নেই। থাকার কথাও নয়, এর আগে মানুষের পা পড়েনি যে সেখানে! হ্যাঁ, এতদিন অবধি অনাবিষ্কৃতই রয়ে গিয়েছিল উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) রুদ্রপ্রয়াগের এই হ্রদ। সম্প্রতি ৬ জন তরুণ অভিযাত্রীর (trekkers) উৎসাহে সন্ধান মিলেছে (discover) সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের।
গাড়োয়াল হিমালয়ের কোলে অপরূপ নৈসর্গিক দৃশ্যের সেই হ্রদ আবিষ্কারের কৃতিত্ব মধ্য-কুড়ির ছয় তরুণের। অভিষেক পানওয়ার, আকাশ, বিনয় ললিত মোহন, অরবিন্দ এবং দীপক নামে ৬ বন্ধু গত ১ সেপ্টেম্বর হ্রদটির সন্ধান পেয়েছেন। অভিষেক ছিলেন এই ট্রেকের গাইড। তিনি জানিয়েছেন, গত বছর জুলাই মাসে কোভিডের কারণে গৃহবন্দি থাকার সময় একঘেয়েমি কাটাতে ইন্টারনেটে মজার এবং নতুন নতুন তথ্য খোঁজা শুরু করেন ছয় বন্ধু। সেভাবেই একদিন গুগল আর্থে হঠাৎই সেই হ্রদটির হদিশ মেলে। চমৎকৃত হয়ে ওঠেন সকলে। আরও খোঁজ খবর করে দেখা যায়, এর আগে কোনও মানুষের পা পড়েনি ওই হ্রদের আশেপাশে। ব্যস, তারপরেই ঠিক হয়ে যায়, যেতেই হবে সেখানে।
রুট ম্যাপ জেনে নিয়ে অভিষেকের নেতৃত্বে শুরু হয় অভিযান। খাড়া পাহাড়ে ১১ কিলোমিটার ট্রেক করে মদমহেশ্বর পৌঁছায় দলটি। সেটিকেই বেস ক্যাম্প হিসাবে ধরে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা হাওয়ার মধ্যে দিয়ে ট্রেক করে ১ সেপ্টেম্বর সকালে হ্রদটিতে গিয়ে পৌঁছান ৬ জন। মোট ৬ দিন লেগেছে তাঁদের এই পুরো অভিযানটি শেষ করতে। ফেরার আগে আধ ঘণ্টা সেখানে কাটিয়েছেন ছয় বন্ধু। তারপর ইচ্ছে মতো ছবি, ভিডিও তুলে তবেই পা বাড়িয়েছেন বাড়ির পথে। তাঁদের আবিষ্কারের কথা জানার পরেই হ্রদটির ব্যাপারে বিশদে খোঁজ করতে শুরু করেছে উত্তরাখণ্ডের পর্যটন বিভাগের আধিকারিকরা।
‘ডোন্ট টাচ মাই বডি’, বিধানসভায় শুভেন্দুকে ঘিরে ধরবেন তৃণমূলের জুন–লাভলিরা!