
জওহারলাল নেহেরু এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 16 April 2024 13:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরোধীদের অভিযোগ, তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হলে সংবিধানটাই বদলে দেবেন নরেন্দ্র মোদী।
বিরোধী নেতা-নেত্রীরাই শুধু নন, কর্নাটকের বিজেপির এক প্রবীণ সাংসদও ক’দিন আগে বলেন, চারশো আসনে জিতে আসার পর নরেন্দ্র মোদীর প্রথম কাজ হবে সংবিধান বদলে দেওয়া। কারণ ভারতের আদর্শের সঙ্গে বর্তমান সংবিধান মানানসই নয়।
এই অভিযোগ অবশ্য মানছে না বিজেপি। কর্নাটকের সাংসদকে শো-কজ করার পাশাপাশি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন। এই বিষয়েও প্রচারে নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
দু’দিন আগে রাজস্থানের সভা মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী জোর গলায় বলেছেন, ‘এই অভিযোগ মিথ্যা। সংবিধান আমার কাছে গীতা, কোরান, বাইবেল। তা বদলে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’
মঙ্গলবার বিহারের গয়ার সভা থেকেও প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন, ‘সংবিধান যেমন আছে তেমনই থাকবে। এমনকী স্বয়ং বাবা সাহেব আম্বেদকর এসে বললেও বদলানো হবে না।’ প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘এই সংবিধানের জন্যই তো নরেন্দ্র মোদীর মতো একজন সাধারণ মানুষ দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছেন। কী করে তা বদলে দেওয়া সম্ভব?’
আম্বেদকরকে সংবিধান প্রণেতা হিসাবে সম্মান করে থাকে দেশ। কারণ তিনিই ছিলেন সংবিধানের খসড়া তৈরির কাজে নিয়োজিত কমিটির সভাপতি। যদিও সেই কাজ সম্পূর্ণ করতে ১৩টি কমিটি তৈরি করতে হয়েছিল রাজনীতি ও সমাজের বিশিষ্টদের নিয়ে। এমন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির প্রধান ছিলেন প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। কমিটিগুলির একটি ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা বিষয়ে, একটির কাজ ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের কাঠামো সংক্রান্ত বিষয়ে সুপারিশ করা। তৃতীয় কমিটি কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে সম্পর্ক ও বোঝাপড়া গড়ে তোলা সংক্রান্ত বিষয়ে সুপারিশ করে। এছাড়া সংবিধান সভায় ১৯৪৬-এর ১৩ ডিসেম্বর নেহরু প্রস্তাবনা পেশ করেন। যা সর্বসম্মতভাবে সংবিধানের প্রস্তাবনা হিসাবে গৃহীত হয়।
আশ্চর্যের হল প্রধানমন্ত্রী রাজস্থান ও বিহারের সভায় সংবিধান নিয়ে তাঁর লম্বা ভাষণে আম্বেদকরের পাশাপাশি রাজেন্দ্র প্রসাদের নাম করেছেন। দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদও একাধিক কমিটির প্রধান ছিলেন। যদিও অনেকেই একবাক্যে মানেন, একেবারে গোড়ায় প্রস্তাবনায় ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতান্ত্রিক শব্দ দুটি না থাকলেও দেশকে সে পথে চালিত করার লক্ষ্যে সংবিধান রচনায় বিশেষ ভূমিকা ছিল প্রথম প্রধানমন্ত্রীর। অথচ, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সংবিধান বিষয়ে ভাষণে প্রাক্তনীর নাম মুখে আনেননি। যদিও বিজেপি প্রকাশ্যে বলে থাকে সংবিধানে উল্লেখিত ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতান্ত্রিক শব্দ দুটি তারা মানে না। কিন্তু শব্দ দুটি বাদ দেওয়ার কথা এখনও ঘোষণা করেনি তারা।
সেই সংবিধান নিয়ে বিতর্কের জবাবে মোদী প্রাক্তনীর নাম মুখে না আনাতে বিস্ময়ের কিছু নেই। তিনি শুধু নেহরুর কট্টর সমালোচক নন, প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নানা ভাবে দেশের ক্ষতি করেছেন বলে নরেন্দ্র মোদী অভিযোগ করে থাকেন। সংসদে, সংসদের বাইরে প্রয়াত প্রাক্তনীকে বারে বারে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি।