
শেষ আপডেট: 4 March 2024 17:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক টানেতে যেমন তেমন দু’টানেতে রুগি...
না, তিন টানে আর রাজা-উজির হওয়ার জো নেই। কারণ টান যত বাড়বে ‘সুখী’ হওয়ার চেয়ে অসুখীই হতে হবে বেশি। মাটি ছেড়ে শূন্যে ওঠার ইচ্ছায় যদি গাঁজার ছিলিমে টান দিতে থাকেন, তাহলে আর ‘আকাশে ভেসে’ থাকতে হবে না, একেবারে পৃথিবী ছেড়েই উঠে যেতে হবে। কারণ ডাক্তাররা বলছেন, গাঁজায় মোটেও মজা নেই, আছে সর্বনাশ। গাঁজা টানলে হার্টের রোগ নাকি অবধারিত, উপরি পাওনা স্ট্রোক, স্কিৎজ়োফ্রেনিয়া। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, গাঁজা খেয়ে শিব মহাযোগী হয়েছেন কিনা জানা নেই, তবে এখনকার ছেলেমেয়েরা বেশি গাঁজা টানলে হৃদরোগটি হতে বাধ্য। সেই সঙ্গে নানা অসুখবিসুখও হানা দিতে দেরি করবে না।
আমেরিকার হার্ট অ্যাসোসিয়েশন মেডিক্যাল জার্নাল গাঁজার ভয়ঙ্কর সব প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছে। আমেরিকা-সহ বিভিন্ন দেশে ব্যথা কমানোর ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করা হয় গাঁজা। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, নিয়মিত গাঁজা খেলে অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, হার্ট ফেলের ঝুঁকি ৩৪ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। ইদানীংকালে দেখা যাচ্ছে, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সি পুরুষদের মধ্যে স্কিৎজ়োফ্রেনিয়ার মতো অসুখ বেশি দেখা দিচ্ছে। এর অন্যতম কারণই নাকি গাঁজা সেবন। গবেষণা জানাচ্ছে, ১৬ থেকে ৪৯ বছর বয়সি পুরুষদের ক্ষেত্রে এই রোগের নেপথ্য কারণ নাকি গাঁজাই। প্রতি দশ জন গাঁজার নেশারুর তিন জনের তো এই রোগ হবেই। সেই সঙ্গেই তালগোল পাকিয়ে যাবে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ সব হরমোন। সেরোটোনিনের পরিবর্তন, ডোপামিন এবং হিস্টামিনের পরিবর্তন ধীরে ধীরে নানা জটিল রোগের কারণ হয়ে উঠবে।
গবেষকরা বলছেন, নিয়মিত গাঁজা টানলে করোনারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। হার্টে পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত সরবরাহ করতে না পারলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে। শুধু হার্টের রোগ নয়, উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবিটিস, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যারও কারণ হতে পারে গাঁজা। স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে গাঁজা। সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিয়মিত গাঁজা টানলে ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়বে ৪২ শতাংশ।
গাঁজার জয়েন্টে সিগারেটের থেকেও বেশি রাসায়নিক থাকে বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা। ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটালের চিকিৎসক-গবেষকর ডা. অ্যাবরা জেফারস বলছেন, গাঁজায় থাকে পলিসাইক্লিক অ্যারোমাটিক হাইড্রোকার্বন (PAHs) যা হার্টের রোগের পাশাপাশি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়। এটি যখন শরীরে ঢোকে, তখন আর্টারির ভিতরে যে এন্ডোথেলিয়াম থাকে, সেটি ড্যামেজ করে। এন্ডোথেলিয়াম হল শরীরে আর্টারিগুলির ভিতরের গায়ে থাকা একটি পাতলা স্তর, যার কারণে রক্তচলাচল মসৃণ হয়। এই রাসায়নিক সেই স্তরটিকে নষ্ট করে ফেলে, যে কারণে রক্ত চলাচল বাধা পায়। প্ল্যাক জমতে থাকে। ফলে রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনা থাকে। এন্ডোথেলিয়াম বেশি রাফ হয়ে গেলে ব্লকেজ হওয়ারও ঝুঁকি বাড়ে। এই রাসায়নিক শরীরে ঢুকলে অনেক ফ্রি র্যাডিক্যাল জেনারেট করে, যা শরীরের বিভিন্ন কোষেরও ক্ষতি করে। আসলে শরীরের যেখানেই রক্তবাহী ধমনী রয়েছে, সেখানেই অ্যাটাক করে এই রাসায়নিক। নানা রকম পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজের সম্ভাবনা বাড়ে।