
বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস
শেষ আপডেট: 24 March 2024 18:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যক্ষ্মা (Tuberculosis) নিয়ে একটা সময় আতঙ্ক ছিল। এখন চিকিৎসাপদ্ধতি অনেক উন্নত, কাজেই যক্ষ্মা বা টিউবারকিউলোসিসের ভয় তেমনভাবে নেই। কিন্তু যক্ষ্মা নিয়ে সচেতনতার অভাব ও অবহেলাই বিপদ ডেকে আনতে পারে। সমীক্ষা বলছে ৪০ল শতাংশ ভারতীয় ভুগছে এই রোগে। মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকুলোসিস নামক একটি ব্যাক্টেরিয়া মানবদেহে যক্ষ্মা বা টিবি রোগ তৈরি করে। ভারতে প্রতি বছর বহু মানুষের মৃত্যু হয় এই রোগে। প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে ফুসফুসে এই সংক্রমণ হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে যে কোনও অঙ্গেই হতে পারে যক্ষ্মা।
পিডি হিন্দুজা হাসপাতাল অ্যান্ড মেডিক্যাল রিসার্চের কনসালট্যান্ট পালমোনোলজিস্ট ডা. ল্যান্সলট পিন্টো বলছেন, ভারতীয়দের মধ্যে যক্ষ্মার প্রকোপ খুব বেশি। সরকারের তরফ থেকে ২০২৫ সালের মধ্য ভারত থেকে এই রোগ নির্মূল করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সম্প্রতি এই ব্যাকটেরিয়া এমন একটি রূপ দেখা দিয়েছে যা কাবু হচ্ছে না ওষুধে। হাঁচি-কাশির মধ্যে দিয়ে বাতাসে ছোট ছোট কণার আকারে এই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে বাতাসে। কাজেই রোগীর কাছাকাছি থাকলে অনেকটাই বেড়ে যায় এই রোগের ঝুঁকি। শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে ঢুকে গেলে হতে পারে রোগ সংক্রমণ। ফলে যক্ষ্মা রোগীর বাড়ির লোক এবং চিকিৎসক ও নার্সদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে অনেকটাই।
যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ মারা যান। সমীক্ষা বলছে, ২০২১ সালে গোটা দেশে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়েছেন ২১ লক্ষ ৪০ হাজার জন। ২০২০ সালের থেকে ১৮ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালের মধ্যে দেশ থেকে যক্ষ্মা নির্মূল করার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। করোনার দু'বছরে যক্ষ্মা অনেকটা কমে গেলেও, ইদানীংকালে ফের বাড়তে শুরু করেছে। আর উপসর্গ সঠিকভাবে চেনা না থাকায়, রোগ হলেও তা বুঝতে পারছেন না অনেকে। ফলে রোগ তলে তলে বাড়তে থাকছে শরীরে।
করোনার মতোই হাঁচি-কাশির মধ্যে দিয়ে বাতাসে ছোট ছোট কণার আকারে যক্ষ্মার জীবাণু শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। কাজেই রোগীর কাছাকাছি থাকলে অনেকটাই বেড়ে যায় এই রোগের ঝুঁকি। শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে ঢুকে গেলে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। যক্ষ্মা রোগীর থেকে সংক্রমণ আরও অনেকের মধ্যে ছড়াতে পারে। তাই সতর্ক থাকতেই হবে। ডায়াবেটিস ও কিডনির অসুখ থাকলে এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এমনিতেই এইসব অসুখ থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাছাড়া বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতে রোগের ঝুঁকি বাড়ে। ঘিঞ্জি ও অপরিষ্কার জায়গায় বসবাস করলে ও পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা থেকে যায়। তাছাড়া পরিবেশ দূষণ, সিগারেট-মাদকের নেশা, অপুষ্টিও যক্ষ্মার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমজোর, তাঁদের ক্ষেত্রে অনেকটাই বেড়ে যায় যক্ষ্মার আশঙ্কা। শুধু ফুসফুস নয়, ফুসফুসের আবরণী, লসিকাগ্রন্থি, যকৃত, বৃক্ক, মস্তিষ্ক, অন্ত্র, হাড় এমনকি ত্বকেও হতে পারে যক্ষ্মা। তবে ফুসফুসে যক্ষ্মা সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। যেহেতু এই জীবাণুর সংক্রমণ ক্ষমতা খুব বেশি, তাই ঘিঞ্জি ও অপরিষ্কার স্থানে বসবাস করলে ও পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে বাড়ে রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা।