ইংল্যান্ডে ধরা পড়লেন ঝিমিন কিয়ান। ১.২৮ লাখ বিনিয়োগকারীকে ঠকিয়ে ৬.৭ বিলিয়ন ডলার বিটকয়েন জালিয়াতির দায়ে দোষী প্রমাণিত।

শেষ আপডেট: 30 September 2025 13:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিটকয়েন জালিয়াতির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হলেন চিনের এক মহিলা। ৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা) অবৈধ লেনদেন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে ইংল্যান্ডে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন ঝিমিন কিয়ান (Zhimin Qian)। তিনি ইয়াদি ঝাং নামেও পরিচিত। বিবিসির রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪৭ বছর বয়সি এই মহিলা সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে দোষ স্বীকার করেছেন।
২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে চীনের অন্তত ১ লক্ষ ২৮ হাজার বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেন কিয়ান। তাকে ‘ধনদেবী’ বা “গডেস অব ওয়েলথ” বলে ডাকত অনেকেই। মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণায় অর্জিত সেই বিপুল অঙ্কের অর্থ তিনি গোপন করতে রূপান্তর করেন বিটকয়েনে। মোট ৬১ হাজারেরও বেশি বিটকয়েন কিনেছিলেন তিনি, যার বর্তমান মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।
চিন থেকে জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে পালিয়ে ইংল্যান্ডে আশ্রয় নেন কিয়ান। লন্ডনে এসে বিলাসবহুল বাড়ি কেনা থেকে শুরু করে নানা সম্পত্তি কেনার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছায় সন্দেহজনক ক্রিপ্টো লেনদেনের তথ্য। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ তদন্ত।
সাত বছর ধরে চলা এই আন্তর্জাতিক তদন্ত ছিল অত্যন্ত জটিল। বহু দেশ থেকে প্রমাণ সংগ্রহ, হাজার হাজার নথি খতিয়ে দেখা— সবকিছু মিলিয়ে সময় লেগেছে দীর্ঘ। অবশেষে পাঁচ বছর ধরে পালিয়ে থাকার পর কিয়ানকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত নেতৃত্ব দেন মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা সার্জেন্ট ইসাবেলা গ্রোটো। তিনি বলেন, “এটি ছিল বহু বছরের পরিশ্রমের ফল। আমাদের টিম নিরলসভাবে কাজ করেছে।”
এই মামলায় কিয়ানের সহযোগী জিয়ান ওয়েন (Jian Wen) একসময় দোকানে কাজ করতেন। তিনি ইতিমধ্যেই ছ'বছর আট মাসের কারাদণ্ড পেয়েছেন। ওয়েনের জীবনযাত্রায়ও নাটকীয় পরিবর্তন এসেছিল। উত্তর লন্ডনে বহু কোটি পাউন্ডের ভাড়া-বাড়ি, দুবাইয়ে দুটি প্রপার্টি কেনা— সবই হয়েছিল চুরি করা ক্রিপ্টো অর্থ দিয়ে।
পরে ওয়েন দাবি করেন, তিনি এসব কিনেছেন এক চিনা অফিসারের হয়ে, কিন্তু অর্থের উৎসের কোনও প্রমাণ দিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তার কাছ থেকে ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।
এই মামলার মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিটকয়েন বাজেয়াপ্ত করার রেকর্ড গড়েছে লন্ডন পুলিশ। ঘটনাটি কেবল আধুনক প্রতারণার ভয়াবহতা নয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্তের জটিলতাকেও স্পষ্ট করে তুলেছে।