Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
শয়তান বা কালু বলে আর ডাকা যাবে না! স্কুলের খাতায় পড়ুয়াদের নতুন পরিচয় দিচ্ছে রাজস্থান সরকার‘পাশে মোল্লা আছে, সাবধান!’ এবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ তৃণমূলেরWest Bengal Election 2026: বাম অফিসে গেরুয়া পতাকা! মানিকচকে চরম উত্তেজনা, থানায় বিক্ষোভ বামেদেরপয়লা বৈশাখে শুটিং শুরু, যিশুর কামব্যাক—‘বহুরূপী ২’ কি ভাঙবে সব রেকর্ড?‘কেকেআরের পাওয়ার কোচ রাসেল ২৫ কোটির গ্রিনের থেকে ভাল!’ আক্রমণে টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন তারকাবিহারে আজ থেকে বিজেপি শাসন, রাজনীতির যে‌ অঙ্কে পদ্মের মুখ্যমন্ত্রী আসলে নীতীশেরই প্রথম পছন্দঅশোক মিত্তলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইডি, ক'দিন আগেই রাজ্যসভায় রাঘব চাড্ডার পদ পেয়েছেন এই আপ সাংসদ West Bengal Election 2026: প্রথম দফায় ২,৪০৭ কোম্পানি বাহিনী! কোন জেলায় কত ফোর্স?IPL 2026: ভাগ্যিস আইপিএলে অবনমন নেই! নয়তো এতক্ষণে রেলিগেশন ঠেকানোর প্রস্তুতি নিত কেকেআর TCS Scandal: যৌন হেনস্থা, ধর্মান্তরে চাপ! নাসিকের টিসিএসকাণ্ডে মালয়েশিয়া-যোগে আরও ঘনাল রহস্য

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিটকয়েন কেলেঙ্কারি! ৬৭০ কোটি ডলার পাচার করে ধরা পড়লেন চিনের মহিলা

ইংল্যান্ডে ধরা পড়লেন ঝিমিন কিয়ান। ১.২৮ লাখ বিনিয়োগকারীকে ঠকিয়ে ৬.৭ বিলিয়ন ডলার বিটকয়েন জালিয়াতির দায়ে দোষী প্রমাণিত।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিটকয়েন কেলেঙ্কারি! ৬৭০ কোটি ডলার পাচার করে ধরা পড়লেন চিনের মহিলা

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 30 September 2025 13:15

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিটকয়েন জালিয়াতির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হলেন চিনের এক মহিলা। ৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা) অবৈধ লেনদেন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে ইংল্যান্ডে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন ঝিমিন কিয়ান (Zhimin Qian)। তিনি ইয়াদি ঝাং নামেও পরিচিত। বিবিসির রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪৭ বছর বয়সি এই মহিলা সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে দোষ স্বীকার করেছেন।

কীভাবে শুরু হল প্রতারণা

২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে চীনের অন্তত ১ লক্ষ ২৮ হাজার বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেন কিয়ান। তাকে ‘ধনদেবী’ বা “গডেস অব ওয়েলথ” বলে ডাকত অনেকেই। মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণায় অর্জিত সেই বিপুল অঙ্কের অর্থ তিনি গোপন করতে রূপান্তর করেন বিটকয়েনে। মোট ৬১ হাজারেরও বেশি বিটকয়েন কিনেছিলেন তিনি, যার বর্তমান মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।

পালিয়ে লন্ডনে, বিলাসিতার আশ্রয়

চিন থেকে জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে পালিয়ে ইংল্যান্ডে আশ্রয় নেন কিয়ান। লন্ডনে এসে বিলাসবহুল বাড়ি কেনা থেকে শুরু করে নানা সম্পত্তি কেনার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছায় সন্দেহজনক ক্রিপ্টো লেনদেনের তথ্য। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ তদন্ত।

জটিল তদন্ত ও গ্রেফতার

সাত বছর ধরে চলা এই আন্তর্জাতিক তদন্ত ছিল অত্যন্ত জটিল। বহু দেশ থেকে প্রমাণ সংগ্রহ, হাজার হাজার নথি খতিয়ে দেখা— সবকিছু মিলিয়ে সময় লেগেছে দীর্ঘ। অবশেষে পাঁচ বছর ধরে পালিয়ে থাকার পর কিয়ানকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত নেতৃত্ব দেন মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা সার্জেন্ট ইসাবেলা গ্রোটো। তিনি বলেন, “এটি ছিল বহু বছরের পরিশ্রমের ফল। আমাদের টিম নিরলসভাবে কাজ করেছে।”

সহযোগীর সাজা

এই মামলায় কিয়ানের সহযোগী জিয়ান ওয়েন (Jian Wen) একসময় দোকানে কাজ করতেন। তিনি ইতিমধ্যেই ছ'বছর আট মাসের কারাদণ্ড পেয়েছেন। ওয়েনের জীবনযাত্রায়ও নাটকীয় পরিবর্তন এসেছিল। উত্তর লন্ডনে বহু কোটি পাউন্ডের ভাড়া-বাড়ি, দুবাইয়ে দুটি প্রপার্টি কেনা— সবই হয়েছিল চুরি করা ক্রিপ্টো অর্থ দিয়ে।

পরে ওয়েন দাবি করেন, তিনি এসব কিনেছেন এক চিনা অফিসারের হয়ে, কিন্তু অর্থের উৎসের কোনও প্রমাণ দিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তার কাছ থেকে ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।

এই মামলার মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিটকয়েন বাজেয়াপ্ত করার রেকর্ড গড়েছে লন্ডন পুলিশ। ঘটনাটি কেবল আধুনক প্রতারণার ভয়াবহতা নয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্তের জটিলতাকেও স্পষ্ট করে তুলেছে।


```