বসন্তের রঙ মাখছে জোহানেসবার্গ। বেগুনি জ্যাকারান্ডায় ছেয়েছে শহর। কাশফুল নেই, শিউলি ফুল নেই, তাতে কী! জ্যাকারান্ডা ফুটলেই শহরের বাঙালিরা বুঝতে পারেন মায়ের আসার সময় হল।

বসন্তের রঙ মাখছে জোহানেসবার্গ।
শেষ আপডেট: 25 September 2025 19:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বসন্তের রঙ মাখছে জোহানেসবার্গ। বেগুনি জ্যাকারান্ডায় ছেয়েছে শহর। কাশফুল নেই, শিউলি ফুল নেই, তাতে কী! জ্যাকারান্ডা ফুটলেই শহরের বাঙালিরা বুঝতে পারেন মায়ের আসার সময় হল।
সোনার রাজধানী হিসেবে গোটা বিশ্বে জোহানেসবার্গের পরিচিতি। ১৮৮৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার এই অঞ্চলে প্রথম সোনার খনির হদিস মিলেছিল। তখন থেকে এটি সোনার রাজধানী হিসাবে পরিচিত। সেখানেই আরও সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে দেবী আসেন প্রতিবছর। জোহানেসবার্গ ছাড়াও দুর্গাপুজো হয় দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরেও। তবে জোহানেসবার্গেই শুরু হয়েছিল প্রথম বারোয়ারি দুর্গাপুজো। কর্মসূত্রে এই শহরে জড়ো হওয়া বাঙালিরা ২০০৫ সালে শুরু করেছিলেন দুর্গাপুজো। তারপর থেকেই চলে আসছে বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনের এই পুজো। এবার পুজোর ২০ বছর। তাই জাঁকজমকও নজরকাড়া। প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল মাস পাঁচেক আগেই। এখন পুজোর আনন্দে মেতে ওঠার জন্য সময় গুনছেন তাঁরা। এ যেন শিকড়ের কাছাকাছি হওয়ার অনুভব।
পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য অন্নপূর্ণা হাজরা ঘোষ জানালেন, একেবারে প্রথম থেকেই কলকাতার কুমোরটুলি থেকে মায়ের মূর্তি আসে। পুরোহিতও আসেন কলকাতা থেকেই। বর্তমান পুরোহিত তাপস মুখার্জি ২০০৮ সাল থেকে তাঁদের বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনের পুজো করছেন। এবারও তিনিই পুজো করবেন। শুধু দুর্গা পুজো নয়, লক্ষ্মী পুজো-কালীপুজো সেরে একেবারে দেশে ফিরবেন তিনি। এটাই তাঁদের নিয়ম।
শহর কলকাতায় পুজোর ঢাক বেজে উঠেছে ইতিমধ্যে। আজ বৃহস্পতিবার চতুর্থীতেই মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেছে। তবে জোহানেসবার্গে বোধনের ঢাক বাজবে পরের উইকএন্ড অর্থাৎ অক্টোবরের ৩ তারিখ। সেদিনই একইসঙ্গে সারা হবে ষষ্ঠীর বোধন ও সপ্তমীর নবপত্রিকা স্নান। অষ্টমী ও সন্ধিপুজো পরের দিন শনিবার। রবিবার নবমীর পুজো শেষে দশমীর সিঁদুরখেলা। প্রবাসের পুজো, তাই কর্মস্থল সামলেই আয়োজন করতে হয় পুজোর। তাই দিনক্ষণ হয়তো মানা সম্ভব হয় না, কিন্তু নিয়মনিষ্ঠায় এদিক ওদিক হওয়ার জো নেই।
অন্নপূর্ণা জানান, প্রত্যেক বছর মার্লবোরো কমিউনিটি হলে পুজো হলেও এবার হবে মার্লবোরোর রাধে শ্যাম মন্দিরে। মন্দির চত্বরে যেহেতু পুজো হচ্ছে, তাই এবার খাওয়াদাওয়াও পুরো নিরামিষ। তিনি বলেন, "প্রত্যেক বছর পুজোর দিনগুলিতে সন্ধেবেলা আমাদের আনন্দমেলা হয়। সেখানে আমিষ-নিরামিষ নানারকম খাবার দাবার রান্না করে আনি আমরা। দেদার খাওয়া দাওয়া হয়। পুজোর দিনগুলিতে এটাও একটা বড় পাওনা। কিন্তু এবার যেহেতু মন্দির চত্বরে পুজোর আয়োজন হচ্ছে তাই এবার আর আনন্দমেলা হবে না।" দশমীর দিন পাত পেড়ে যে মাংস-বাতের আয়োজন হয়, সেখানেও এবার নিয়ন্ত্রণ।
আনন্দমেলা না হোক, মায়ের আগমনে আনন্দের কমতি নেই। সারা সপ্তাহের হাড়ভাঙা খাটনির ফাঁকেই এখন চলছে জোরদার অনুশীলন। কেউ করবেন শ্রুতি নাটক, কেউ গাইবেন আগমনী গান। ছোটরাও দারুন ব্যস্ত রিহার্সালে। নাচ-গান-কবিতায় জমে উঠবে পুজোর প্রাঙ্গন। আরেকটা কথা, সপ্তমী ও নবমীর দিন মহাভোগে সবার আমন্ত্রণ। যাবেন নাকি জ্যাকারান্ডার দেশে, প্রবাসে দেবীদর্শনে।