দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০ বছর আগে আমেরিকা (usa) তথা দুনিয়া কাঁপানো জোড়া জঙ্গি বিমান হামলা মহাকাশ থেকে দেখেছিলেন ফ্র্যাঙ্ক কুলবারস্টন। কে তিনি? নাসার মহাকাশচারী (nasa astronat)। সেদিন যখন আল কায়েদার (al qaeda) আত্মঘাতী বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার (wtc), ওয়াশিংটন ডিসির পেন্টাগনে (pentagon) আঘাত করেছিল, পেনসিলভ্যানিয়ার মাঠে আছড়ে পড়েছিল, সেই ভয়াবহ ছবি মহাকাশের বুকে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের (আইএসএস) কক্ষপথ থেকে দেখেছিলেন ফ্র্যাঙ্ক।
বলা হয়, সেদিনের সেই নজিরবিহীন সন্ত্রাসবাদী হামলার সময় তিনিই একমাত্র মার্কিন নাগরিক যিনি পৃথিবীতে ছিলেন না। ফ্যাঙ্ক বলছেন, মনে হচ্ছিল, ধোঁয়ার ফুল দেখছি। ওরকম সুবিধাজনক জায়গায় বসে নিজের দেশের শরীরের ক্ষতস্থান থেকে ধোঁয়া বেরতে দেখার দৃশ্যটা ভয়াবহ। মাটির পৃথিবীতে জীবনের সমৃদ্ধির জন্য নিবেদিত মহাকাশযানে বসে এমন স্বেচ্ছায় ঘটানো সন্ত্রাসবাদী হামলায় জীবনকে ধ্বংস হতে দেখার বৈপরীত্য যেন চেতনায় জোর ধাক্কা দিয়ে যায়, লিখেছেন তিনি। সেদিন ফ্র্যাঙ্ক ছিলেন ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০০ কিমি ওপরে আইএসএসের ভিতর। তখনও সেই কেন্দ্রের নির্মাণ চলছে। সঙ্গী ছিলেন দুুই রুশ মহাকাশচারী মিখাইল তুরিন ও ভ্লাদিমির দেঝুরভ। ফ্র্যাঙ্ক লোয়ার ম্যানহাটন থেকে ধোঁয়ার কুন্ডলী পাকিয়ে ওপরে উঠতে দেখেন। সেখানেই টুইন টাওয়ারে বিমান ধাক্কা মেরেছিল। তিনি নাসার জন্য সেখান থেকেই ছবি, ভিডিও সব তোলেন। আর স্যাটেলাইটেও কক্ষপথ থেকে হামলার গতিপথ চিহ্নিত করা হয়।
১৯ আল কায়েদা জঙ্গি চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করে আমেরিকার ওপর হামলা করে। দুটি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের জোড়া টাওয়ারে ধাক্কা মারে, তৃতীয় একটি বিমান আছড়ে পড়ে পেন্টাগনের ওপর। চতুর্থ বিমানের ক্রু, যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের পেনসিলভ্যানিয়ার খোলা মাঠে নামাতে বাধ্য করে। ২৯৭৭ জন মারা যান। আমেরিকার মাটিতে বিদেশি হামলায় সবচেয়ে বেশি লোক মরেছিল সেদিন।
ফ্র্যাঙ্ক বলেছেন, হ্যাঁ, এটা ঠিক দুনিয়া বদলে গিয়েছে। আমাদের দেশের সঙ্গে যা ঘটেছে, তার গুরুত্বের কাছে আমরা যা বলছি বা করছি, তা নেহাত্ সামান্য আজ। কারা সেদিন হামলা চালায়! সবাই জানে, সন্ত্রাসবাদীরা। কাকে আমাদের রাগ, ভয়ের নিশানা করব, জানা কঠিন।