নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্কে কূটনৈতিক চাপের সময়েই ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া।

ভারতের পাশে রয়েছে রাশিয়া
শেষ আপডেট: 8 August 2025 09:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য আমেরিকার আরোপিত ‘শুল্ক-শাস্তি’র জেরে নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্কে কী আঁচ পড়তে চলেছে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন, ভারতের আচরণ তাঁর কাছে ‘বন্ধুসুলভ’ নয়। এই কূটনৈতিক চাপের সময়েই ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। শুধু তাই নয়, শিগগিরই ভারত সফরে আসছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বর্তমানে মস্কো সফরে থাকা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।
ডোভাল জানিয়েছেন, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সফরের দিনক্ষণ নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্ভাবনা রয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে পুতিন দিল্লি পৌঁছবেন। তাঁর ভাষায়, “ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক বহুদিনের এবং দুই দেশের কাছেই একে অপরের গুরুত্ব অপরিসীম।”
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফর দুই দেশের জন্যই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে রাশিয়ার উপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প। তবে পুতিনকে সরাসরি চাপে আনতে ব্যর্থ হয়ে এবার ভারতকে লক্ষ্য করছেন তিনি। আমেরিকার অভিযোগ, ভারত রাশিয়ার সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা, এবং এই তেলের আয়ের মাধ্যমেই মস্কো যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তাই ট্রাম্প উচ্চ শুল্ক আরোপ করে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্যে অন্তরায় তৈরি করতে চাইছেন।
এছাড়া, কূটনীতিকদের একাংশ মনে করছেন, ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে, তাহলে আমেরিকার কোম্পানিগুলির কাছ থেকেই তেল কিনতে হবে দিল্লিকে, যা আমেরিকার অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। অর্থাৎ, ট্রাম্প এক সিদ্ধান্তে দ্বিগুণ লাভের চেষ্টা করছেন। শুধু ভারত নয়, রাশিয়ার তেল ক্রয়কারী অন্য দেশগুলিকেও একইভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
তবে ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক বহু দশকের পুরনো। সামরিক সহযোগিতা থেকে শুরু করে কৌশলগত মিত্রতা, সবক্ষেত্রেই মস্কো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে তৃতীয় কোনও দেশের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। রাশিয়াও একই সুরে বলেছে, ভারতের সার্বভৌমত্বে এমন হস্তক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য।
ফলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা, পুতিনের এই সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করবে না, বরং ট্রাম্পের উদ্দেশে একটি সরাসরি রাজনৈতিক বার্তাও বয়ে আনবে। শিগগির ট্রাম্পের সঙ্গেও বৈঠকে বসার কথা রয়েছে পুতিনের, যদিও সেই বৈঠকের দিনক্ষণ এখনও নির্ধারিত হয়নি।