জানা গিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলতি বছর শেষের দিকে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করেছেন।

শেষ আপডেট: 8 August 2025 08:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন ভারতে নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং। X-এ (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, “Give the bully an inch, he will take a mile” — অর্থাৎ, ‘অত্যাচারী’কে এক ইঞ্চি ছাড় দিলে সে এক মাইল এগিয়ে যাবে।
শু ফেইহং তাঁর পোস্টে আরও একটি উদ্ধৃতি শেয়ার করেন, যা এসেছে চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলার প্রধান উপদেষ্টা সেলসো আমোরিমের মধ্যে হওয়া বৈঠক থেকে। উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, “অন্য দেশকে দমিয়ে রাখার জন্য শুল্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা জাতিসংঘ সনদ ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) নিয়ম ভঙ্গ করে এবং এটি জনপ্রিয় বা টেকসই কোনও নীতি নয়।”
ভারত ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে প্রথম দিকেই বাণিজ্য চুক্তি করবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু পাঁচ দফা আলোচনা সত্ত্বেও কৃষি ও দুগ্ধ খাতের বাজার খুলে দেওয়া এবং রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধের বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে আলোচনা ভেস্তে যায়।
চিনা রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের উপরও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিচ্ছেন, রাশিয়ার সঙ্গে তাদের তেল বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “এটা হতে পারে, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না, আমরা ভারতের ক্ষেত্রে করেছি, আর হয়তো আরও কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে করব, যার মধ্যে একটি হতে পারে চিন।”
বিশ্বের শীর্ষ তিন রাশিয়ান তেল আমদানিকারক দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত, চিন ও তুরস্ক। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, শুক্রবারের মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ না হলে এই দেশগুলির উপর "secondary tariffs" আরোপ করা হবে।
এ বছরের শুরুতে চিন-মার্কিন শুল্কযুদ্ধে আমেরিকা ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বাড়ালেও, চিন সেটি ১২৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখে। চিনের দাবি, “আমেরিকা যতই শুল্ক বাড়াক না কেন, তা অর্থনৈতিকভাবে অর্থহীন হয়ে পড়বে এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে এক হাস্যকর দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলতি বছর শেষের দিকে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করেছেন, যাতে একটি বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা তৈরি করা যায়।