ভারতীয় সময় অনুসারে শুক্রবার গভীর রাতে আলাস্কার এলমেনডর্ফ এয়ার ফোর্স বেসে বৈঠক শুরু হওয়ার কথা। এটাই যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শেষ আপডেট: 15 August 2025 21:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলাস্কার বরফঢাকা আকাশে তখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান এগিয়ে চলেছে। ভেতরে বসে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ঘোষণা করছেন, “আমি ইউক্রেনের (Ukraine) হয়ে চুক্তি করতে যাচ্ছি না, আমি যাচ্ছি পুতিনকে টেবিলে আনতে।”
ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তাল প্রেক্ষাপটে রুশ প্রেসিডেন্ট ভলাদিমির পুতিনের (Putin) সঙ্গে তাঁর এই মুখোমুখি বৈঠককে ওয়াশিংটন যেমন ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়েছে, তেমনই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে ইউরোপ, কিয়েভ আর মস্কো। কয়েক মিনিটেই শেষ হয়ে যেতে পারে এই সাক্ষাৎ, আবার এখান থেকেই শুরু হতে পারে শান্তির নতুন দিশা, সম্ভাবনার দোলাচলে দাঁড়িয়ে বিশ্ব।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন— তিনি ইউক্রেনের হয়ে কোনও চুক্তি করতে যাচ্ছেন না। বরং তাঁর লক্ষ্য পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনা। তাঁর কথায়, “পুতিন মনে করেন অব্যাহত হামলা তাঁকে আলোচনায় শক্তি দিচ্ছে, কিন্তু আমি মনে করি সেটা তাঁর ক্ষতি করছে। আমরা কিছু না কিছু ফল আনতে পারব। রাশিয়া যদি সমঝোতায় না আসে, ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
তিনি জানান, জমি বিনিময়ের প্রসঙ্গ আলোচনায় আসতে পারে, তবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ইউক্রেনেরই থাকবে।
ট্রাম্প আলাস্কার পথে থাকাকালীনই ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোশ্যাল মিডিয়ায় আহ্বান জানান— মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেন রাশিয়াকে ‘আক্রমণ’ বন্ধে রাজি করান। “যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে, আর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে রাশিয়াকেই। আমরা আমেরিকার উপর ভরসা করছি”, লিখেছেন জেলেনস্কি।
ট্রাম্পের সঙ্গে আলাস্কায় গিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ-সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক।
যদিও পুতিনের অনুরোধে ট্রাম্প আমন্ত্রণ পাঠিয়েছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন বলছেন— পুতিন যদি আপস না করেন, বৈঠক কয়েক মিনিটেই শেষ হয়ে যেতে পারে। ইউক্রেনকে চাপে ফেলে জমি ছাড়াতে চাওয়ার অভিযোগ তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, কোনও চূড়ান্ত চুক্তি হলে তা হবে ইউক্রেন প্রেসিডেন্টকে সঙ্গে নিয়ে তিন পক্ষের বৈঠকে।
ভারতীয় সময় অনুসারে শুক্রবার গভীর রাতে আলাস্কার এলমেনডর্ফ এয়ার ফোর্স বেসে বৈঠক শুরু হওয়ার কথা। এটাই যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি, শীতল যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন নজরদারির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। ১৮৬৭ সালে আমেরিকা রাশিয়ার কাছ থেকে আলাস্কা কিনেছিল— সেই চুক্তি এখন মস্কো জমি বিনিময়ের বৈধতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করছে।
আঙ্কোরেজে ট্রাম্প-পুতিন মুখোমুখি বৈঠক শুধু ইউক্রেন যুদ্ধ নয়, বিশ্ব কূটনীতির পালাবদলেরও ইঙ্গিত দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এখন দেখার, কী হয়।