এর আগে একই দিনে দক্ষিণ লেবাননের সাইদা শহরের উপকণ্ঠে আইন আল-হিলওয়ে শিবিরেও হামলার ঘটনা ঘটে। এটি দেশের বৃহত্তম প্যালেস্টাইন শরণার্থী শিবির। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের প্রাথমিক হিসেবে সেখানে অন্তত দু’জন নিহত হন। সরকারি সংবাদ সংস্থার দাবি, একটি ইজরায়েলি ড্রোন শিবিরের হিত্তিন পাড়া লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 February 2026 15:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি (Ceasefire Violation) কার্যত উপেক্ষা করে পূর্ব ও দক্ষিণ লেবাননে একাধিক হামলা চালাল ইজরায়েল (Lebanon Israel Conflict)। সরকারি সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন বহু মানুষ। পরিস্থিতি ঘিরে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে সমগ্র অঞ্চলে।
লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশের পূর্বাংশে বেকা উপত্যকায় বিমান হামলায় প্রথমে ছয় জনের মৃত্যুর খবর মেলে। পরে রিয়াক শহরের একটি ভবনে আঘাত হানার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দশের বেশি হয় এবং আহতের সংখ্যা তিরিশ ছাড়ায়। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে আছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখতে এখনও তল্লাশি চলছে।
ইজরায়েলের সেনাবাহিনীর দাবি, বালবেক অঞ্চলে হিজবুল্লার একাধিক কমান্ড কেন্দ্রকে লক্ষ্য করেই এই আঘাত। অপরদিকে হিজবুল্লার এক সূত্র জানিয়েছে, তাদের এক সামরিক নেতা নিহতদের মধ্যে রয়েছেন।
এর আগে একই দিনে দক্ষিণ লেবাননের সাইদা শহরের উপকণ্ঠে আইন আল-হিলওয়ে শিবিরেও হামলার ঘটনা ঘটে। এটি দেশের বৃহত্তম প্যালেস্টাইন শরণার্থী শিবির। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের প্রাথমিক হিসেবে সেখানে অন্তত দু’জন নিহত হন। সরকারি সংবাদ সংস্থার দাবি, একটি ইজরায়েলি ড্রোন শিবিরের হিত্তিন পাড়া লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
ইজরায়েলি বাহিনী বিবৃতিতে জানিয়েছে, বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে হামাসের একটি কমান্ড কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে। তবে হামাস এই হামলার তীব্র নিন্দা করে বলেছে, এতে নিরীহ সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে ভবনে হামলা হয়েছে, সেটি একসময় শিবিরের নিরাপত্তা দেখভাল করা যৌথ প্যালেস্টাইন বাহিনীর দফতর হিসেবে ব্যবহৃত হত। বর্তমানে সেখানে এক ব্যক্তি ভাড়া নিয়ে খাদ্য সহায়তা বিতরণের রান্নাঘর চালাতেন। হামলায় ভবনটির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরেও আইন আল-হিলওয়ে শিবিরে বড়সড় অভিযানে ১৩ জন নিহত হন, যাঁদের মধ্যে ১১ জনই শিশু ছিল বলে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতর জানিয়েছিল। সাম্প্রতিক হামলায় সেই আতঙ্কই যেন আবার ফিরে এল লেবাননে।