
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 12 October 2024 10:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হামাসের সঙ্গে সংঘাতের পর বর্তমানে লেবাননে ক্রমাগত হামলা করে চলেছে ইজরায়েল। লক্ষ্য হিজবুল্লাকে নির্মূল করা। এয়ারস্ট্রাইকের পাশাপাশি সার্জিক্যাল স্ট্রাইকও করা হয়েছে। লেবাননের পাশে দাঁড়িয়ে আবার ইজরায়েলে পাল্টা হামলা করেছে ইরান। এবার তাঁরা আরব দুনিয়া এবং আমেরিকার 'বন্ধু' একাধিক দেশকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখল।
ইজরায়েলে রকেট হামলা করেছিল ইরান। সেই হামলার প্রত্যাঘাত করা হবে বলে জানিয়েছিল বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশ। ইরানও কার্যত সম্পূর্ণভাবে আরব দুনিয়ার 'যুদ্ধে' সামিল হল। তাঁদের তরফে হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, 'ইজরায়েলকে যেন কেউ সাহায্য করতে না এগিয়ে আসে। তাহলে ফল খারাপ হবে।' সৌদি আরব থেকে শুরু করে কাতার, জর্ডনের মতো দেশকে সতর্ক করে দিয়েছে ইরান। সতর্ক করা হয়েছে আমেরিকার 'বন্ধু' হিসেবে পরিচিত অন্যান্য একাধিক দেশকেও।
আন্তর্জাতিক একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই সমস্ত দেশই আমেরিকাকে আরব দুনিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে 'আপডেট' দিচ্ছে। তাঁরা গোটা বিষয় নিয়ে চিন্তিত। কিন্তু ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, ইজরায়েল তাঁদের ওপর যে হামলা করেছে তার পর তাঁরা চুপ থাকবে না। পাল্টা দেবে। ওদিকে নেতানিয়াহুর দেশও অনড়। তাঁরাও হিজবুল্লা সহ অন্যান্য 'শত্রু'দের শিকড় থেকে নির্মূল করতে উদ্যত। এই পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের হুঁশিয়ারি যে আগুনে ঘি ঢালল, তা স্পষ্ট।
আসলে এইসব দেশগুলি জ্বালানির ওপর বিরাটভাবে নির্ভর করে। কিন্তু বিগত কয়েক মাস ধরে যে পরিস্থিতি চলছে তাতে আগামী দিন বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ 'যুদ্ধ' লাগলে তেল বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে সরবরাহ করতেই সমস্যা হবে। তাই ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের মধ্যে আরব দুনিয়ার অন্যান্য দেশ ঢুকতেই চাইছে না।
বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে লেবাননে টানা এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছে ইজরায়েল। হিজবুল্লার প্রায় সব শীর্ষ নেতাকে তাঁরা খতম করেছে বলেই দাবি। এরই মধ্যে তাদের ওপর হামলা চালায় ইরান এবং ইয়েমেন! হিজবুল্লাও নতুন করে হামলা করে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশে। তার পাল্টা হিসেবে ৬০ মিনিটের মধ্যে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহদের ১২০টি ঘাঁটিতে মিসাইল অভিযান চালিয়েছিল ইজরায়েলের সেনাবাহিনী।
হিজবুল্লা প্রধান হাসান নাসরাল্লাকে মারার পর মনে করা হয়েছিল আইডিএফ কিছুটা শান্ত হবে। কিন্তু তেমনটা হয়নি। বরং হামলার ঝাঁজ আরও বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আক্রমণ বন্ধ রাখার প্রস্তাব এসেছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ফোন করে শান্তির বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু কারও কথারই গুরুত্ব দেননি ইজরায়েল প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।