রবিবার ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছে, “খুনিদের” শাস্তি দিতেই শুরু হতে চলেছে ইসলামিক রিপাবলিকের সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে “সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণাত্মক অভিযান” (Iran ferocious operation after Khamenei death)।

শেষ আপডেট: 1 March 2026 09:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei)-র মৃত্যুর পর আরব দুনিয়ায় 'যুদ্ধ পরিস্থিতি' আরও তীব্র আকার নিল। রবিবার ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছে, “খুনিদের” শাস্তি দিতেই শুরু হতে চলেছে ইসলামিক রিপাবলিকের সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে “সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণাত্মক অভিযান” (Iran ferocious operation after Khamenei death)।
টেলিগ্রামে পোস্ট করা বার্তায় রেভলিউশনারি গার্ড জানায়, “যেকোনও মুহূর্তে শুরু হবে সবচেয়ে ভয়ংকর অভিযান।”
প্রতিরোধের শপথ
ইজরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলি শামখানি (Ali Shamkhani) এবং ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের প্রধান জেনারেল মহম্মদ পাকপোর (Mohammad Pakpour)-ও নিহত হয়েছেন। তবে সব শীর্ষ নেতৃত্ব শেষ হয়ে যায়নি। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি (Ali Larijani) বেঁচে আছেন এবং কড়া ভাষায় পাল্টা বার্তা দিয়েছেন।
তাঁর বক্তব্য, “ইরানের সাহসী সেনা ও মহান জাতি আন্তর্জাতিক অত্যাচারীদের এমন শিক্ষা দেবে, যা তারা কোনওদিন ভুলতে পারবে না।”
রবিবার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। তার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ৮৬ বছর বয়সি এই নেতার নিহত হওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তাঁকে “ইতিহাসের অন্যতম খারাপ মানুষ” বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
মার্কিন-ইজরায়েলি হামলা ও বিস্তার
খবর অনুযায়ী, শনিবার সকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বিশাল আকারের যৌথ হামলার প্রথম দফাতেই খামেনেই নিহত হন। রবিবারও সেই হামলা দ্বিতীয় দিনে গড়ায়। লক্ষ্য, ইসলামিক রিপাবলিকের পতন ঘটানো।
হামলার কয়েক সপ্তাহ আগেই ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ দমন করে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। তারই প্রেক্ষাপটে এই সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও বিস্ফোরক করে তুলেছে।
রবিবার ভোরে ফের তেহরানে প্রবল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইসলামিক রিপাবলিকের পতন না হওয়া পর্যন্ত হামলা থামবে না। একইসঙ্গে ইরানের নিরাপত্তাবাহিনীকে অস্ত্র নামিয়ে রাখার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, “ইরানের মানুষের নিজের দেশ ফিরে পাওয়ার এটাই সবচেয়ে বড় সুযোগ।”
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)-ও ইরানিদের উদ্দেশে বলেন, “এটাই তোমাদের সময়, একজোট হয়ে শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করো, ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করো।”
পাল্টা হামলায় কাঁপল আরব দুনিয়া
মার্কিন-ইজরায়েলি অভিযানের জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় আরব দুনিয়ার বিভিন্ন অংশে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাজধানী আবু ধাবি (Abu Dhabi)-তে অন্তত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে তেল আভিভ (Tel Aviv)-এ একজন নিহত হন। উপসাগরীয় আরব রাজতন্ত্রগুলির শহরগুলিতে বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়ায়।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, খামেনেইয়ের মেয়ে, জামাই এবং তাঁদের সন্তানও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দোরগোড়ায়
১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা খামেনেইয়ের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ইরান এক নতুন অধ্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে। পশ্চিমবিরোধী অবস্থান, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার, কঠোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ - সব মিলিয়ে তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ইসলামিক রিপাবলিক এখন অস্তিত্বের লড়াইয়ে।