ভারতের দিক থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ একেবার কমিয়ে দেওয়ায় চন্দ্রভাগা নদীতেও জল ঢুকছে তুলনায় অনেক কম।

ঝিলম নদীর মঙ্গলা এবং সিন্ধু নদীর বুকে টারবেলা বাঁধের জল শুকিয়ে এসেছে।
শেষ আপডেট: 2 June 2025 10:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পহলগাম কাণ্ডের জেরে সিন্ধু জলচুক্তি রদ করে রাখায় পাকিস্তানে খরিফ মরশুমের বীজ রোপণের কাজ মারাত্মক ক্ষতির মুখে। ঝিলম নদীর মঙ্গলা এবং সিন্ধু নদীর বুকে টারবেলা বাঁধের জল শুকিয়ে এসেছে। ফলে গ্রীষ্মকালে নদীগুলি ধুঁকছে এবং জলসেচের কাজ একেবারে বিপন্ন হয়ে পড়েছে। ভারতের দিক থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ একেবার কমিয়ে দেওয়ায় চন্দ্রভাগা নদীতেও জল ঢুকছে তুলনায় অনেক কম।
এই পরিস্থিতিতে চলতি মাসে অবস্থা আরও করুণ হতে পারে। কারণ, এই সময়েই খরিফ শস্যের বীজচারা পোঁতার কথা। জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের অধিকাংশ জমি সেচের অভাবে শুকিয়ে কাঠ হয়ে রয়েছে। খরিফ শস্যের চারা রোপণের কাজ পিছিয়ে গেলে কিংবা জলের অভাবে বন্ধ হয়ে থাকলে দেশের অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব পড়বে।
সেটা আঁচ করেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গত সপ্তাহের শেষে তাজিকিস্তানে হিমবাহ সংরক্ষণের একটি সম্মেলনে এই উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। ভারতের সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল করে রাখা নিয়ে শরিফ আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।
পাকিস্তানের সিন্ধু নদীর জল বণ্টন কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক অনুমান বলছে, দেশে ইতিমধ্যেই সর্বমোট ২১ শতাংশ জল ঘাটতি চলছে। দুটি প্রধান বাঁধে অন্তত ৫০ শতাংশ জল সঙ্কট রয়েছে। এই দুটি বাঁধই পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশের জলসেচের মুখ্য ভূমিকা নিয়ে থাকে এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল উৎস।
তারা দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেছে, সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খরিফ মরশুমের বীজচারা রোপণের কাজ গভীর উদ্বেগের হয়ে দেখা দিয়েছে। তার প্রধান কারণ হচ্ছে, ভারত থেকে অত্যন্ত কম জল ছাড়ায় চন্দ্রভাগা নদীর জলস্তর এতটাই কমে গিয়েছে, যাতে মারালায় প্রচণ্ড ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে যতক্ষণ না বর্ষার প্রবেশ ঘটছে ততদিন বীজচারা রোপণের কাজ পিছিয়ে যেতে পারে এবং জলের ঘাটতি পুষিয়ে দিতে পারে ভালো পরিমাণে বৃষ্টিপাত। তার জন্যও আগামী মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে পাকিস্তানি চাষিদের।