হিমালয়ের পাদদেশে ছবির মতো সুন্দর ছিমছাম এই ক্ষুদ্ররাষ্ট্রের সড়কে এখন সেনাবাহিনী ঘুরে বেড়াচ্ছে। তা সত্ত্বেও বিক্ষিপ্ত প্রতিবাদ হিংসাত্মক রূপ নিচ্ছে বহু জায়গাতেই।

‘জেন জি’ গোষ্ঠীর দাবি, গত দুদিন ধরে যে ভাঙচুর, অগ্নিকাণ্ড, লুটতরাজসহ ধ্বংসাত্মক কাজ চলছে তার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কোনও সম্পর্ক নেই।
শেষ আপডেট: 10 September 2025 13:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ৩৬ ঘণ্টার জেন জি (Gen Z) আন্দোলনে নেপালে সরকারের পালাবদলের পর হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের দায় এড়াল নবীন প্রজন্ম। হিমালয়ের পাদদেশে ছবির মতো সুন্দর ছিমছাম এই ক্ষুদ্ররাষ্ট্রের সড়কে এখন সেনাবাহিনী ঘুরে বেড়াচ্ছে। তা সত্ত্বেও বিক্ষিপ্ত প্রতিবাদ হিংসাত্মক রূপ নিচ্ছে বহু জায়গাতেই। এত কিছু সত্ত্বেও ‘জেন জি’ গোষ্ঠীর দাবি, গত দুদিন ধরে যে ভাঙচুর, অগ্নিকাণ্ড, লুটতরাজসহ ধ্বংসাত্মক কাজ চলছে তার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কোনও সম্পর্ক নেই। তাদের অভিযোগ, আন্দোলনে বাইরে থেকে ঢুকে পড়া সুবিধাবাদী শ্রেণির লোকজন জেন জি-র মুখে কাদা মাখাতে এসব হিংসা ও ধ্বংস চালাচ্ছে।
বুধবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু শহরের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। যদিও বাড়ি ও গাড়িগুলি থেকে নিভন্ত আগুনের ধোঁয়া এখনও শহরের আকাশ ঢেকে রেখেছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেনাবাহিনী কার্ফু জারি করেছে। হিংসা ও ভাঙচুরের জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। লুট করা আগ্নেয়াস্ত্র অবিলম্বে ফেরত দিতে বলা হয়েছে আন্দোলনকারীদের। এত কিছুর মধ্যেও প্রতিবাদকারীদের দাবি, এর মধ্যে ঢুকে পড়েছে বাইরের লোকজন।
প্রতিবাদকারীরা এদিন একটি বিবৃতিতে বলেছে, নেপালের জেনারেশন জি এই আন্দোলন সংঘটিত করেছিল। আমাদের দাবি ছিল, স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্য সরকার গঠন ও দুর্নীতির অবসান। আমাদের আন্দোলন ছিল অহিংস এবং শান্তিপূর্ণ নাগরিক আচরণের নীতি-আদর্শমাফিক প্রতিবাদ প্রদর্শন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা খুবই দায়িত্বশীলভাবে পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, নাগরিকদের সুরক্ষা বজায় থাকে এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি না হয়, তার দিকে নজর রেখেছিলাম।
গোষ্ঠীর তরফে বলা হয়েছে, বুধবার আর কোনও কর্মসূচি নেই। এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশ ইচ্ছেমতো কার্ফু জারি করতে পারে। সেনাবাহিনীও তাদের বক্তব্যকে মান্যতা দিয়ে বলেছে, বিভিন্ন লোকজন ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী শক্তি আন্দোলনের ভিতর ঢুকে পড়েছিল। যারা সরকারি সম্পত্তি হানি, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, অস্ত্র লুট করেছে।
প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর নয়া সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার মুখেই নেপালের জেন জি বিক্ষোভকারীরা বেশ কিছু রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দাবিদাওয়া তুলে ধরেছে বিবৃতিতে। যার মধ্যে প্রথম হল, গত তিন দশক ধরে রাজনীতিকরা দেশের যে সম্পদ ও অর্থ লুট করেছে, তার সুবিচার। আন্দোলনে নিহতদের শহিদ ঘোষণা করতে হবে। মৃতদের পরিবারের হাতে রাষ্ট্রীয় সম্মান ও স্বীকৃতি তুলে দিতে হবে। বেকারি, পরিযায়ী নেপালি রোখা ও সামাজিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আন্দোলন কোনও দল বা ব্যক্তির নয়। গোটা নবীন প্রজন্ম এবং দেশের ভবিষ্যতের জন্য। প্রথমেই জরুরি শান্তি বজায় রাখা। তা একমাত্র সম্ভব নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভিত রচনার মধ্য দিয়ে। তাদের মূল দাবিগুলি হল-