পাহলভির কথায়, “গণতান্ত্রিক ইরান সেই সব দেশের সঙ্গেই সর্বোত্তম সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়, যারা একই মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে অংশীদার হতে পারে।” তাঁর মতে, ভারত সেই তালিকায় স্বাভাবিক ভাবেই একেবারে প্রথম সারিতে।
_0.jpeg.webp)
ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি।
শেষ আপডেট: 17 January 2026 07:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে তাঁরা আগ্রহী, এই বার্তাই দিলেন ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি (Democratic Iran Would Seek Closer Ties With India': Exiled Prince Reza Pahlavi)। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে ভারতকে ভবিষ্যৎ ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে তাঁর শিবির।
পাহলভির কথায়, “গণতান্ত্রিক ইরান সেই সব দেশের সঙ্গেই সর্বোত্তম সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়, যারা একই মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে অংশীদার হতে পারে।” তাঁর মতে, ভারত সেই তালিকায় স্বাভাবিক ভাবেই একেবারে প্রথম সারিতে।
ইরান–ভারত সম্পর্কের দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন নির্বাসিত যুবরাজ। তিনি স্মরণ করেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁধীর ইরান সফরের কথা, “তখন আমি খুবই ছোট ছিলাম। কিন্তু সেই সফরই প্রমাণ করে, দুই দেশের সম্পর্ক কতটা পুরনো এবং গভীর।”
ভারতের সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভূয়সী প্রশংসা করে পাহলভি বলেন, দুই দেশই নিজেদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব করতে পারে। তাঁর মতে, “ভারতের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আমাদের কাছে অনুপ্রেরণার। এই ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মিল থেকেই গভীর বন্ধন ও সহযোগিতার স্বাভাবিক পথ তৈরি হতে পারে।”
বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সংকটের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। শক্তি সংকট, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও জলসঙ্কটের মতো সমস্যার মোকাবিলায় ভারতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন পাহলভি। তাঁর কথায়, “আমাদের গ্রহে আজ বহু চ্যালেঞ্জ—শক্তির ঘাটতি রয়েছে, জলসঙ্কট রয়েছে। এই সব ক্ষেত্রে ভারতের মতো দেশের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।”
প্রযুক্তি ও দক্ষতার ক্ষেত্রেও ভারতের অগ্রণী ভূমিকার কথা স্বীকার করেন তিনি। নবায়নযোগ্য শক্তি ও নতুন শিল্পক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনার দিকেও ইঙ্গিত দেন পাহলভি। তাঁর কথায়, “একবার আমরা মুক্ত হলে, তখনই ইরান ও ভারতের সম্পর্কে সম্পূর্ণ নতুন একটি অধ্যায় শুরু করা সম্ভব হবে।”
উল্লেখ্য, সাহিত্য, ভাষা ও বাণিজ্যের সূত্রে ইরান ও ভারতের সম্পর্ক শতাব্দীপ্রাচীন। বিশ শতকের বড় অংশ জুড়ে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় ছিল। তবে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সেই সম্পর্কে পরিবর্তন আসে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আঞ্চলিক রাজনীতি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি সমীকরণের প্রভাবেই সম্পর্ক নতুন রূপ নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রেজা পাহলভির মন্তব্যকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।