
শেষ আপডেট: 6 January 2024 17:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই ওষুধ ঢক করে গিলে ফেলেলই তার কেরামতি শুরু হয়ে যাবে। পাকস্থলীতে গিয়ে থরথর করে কাঁপবে ক্যাপসুল। ৩০ মিনিট ধরে এমন কম্পন হবে যে পেটের নাদুসনুদুস ভুঁড়িও চর্বি গলাতে শুরু করবে। এই ক্যাপসুল আবার ব্রেনেও প্রভাব খাটাবে। খাই খাই ভাবনাটা একেবারে উধাও হবে। খাওয়ার পরিমাণও কমবে। অতি বড় পেটুকও তখন নামমাত্র খেয়ে পেট ভরাবে। ফ্যাট কমাতে এমন আজব ওষুধই আসতে চলেছে বাজারে।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গবেষকরা ওবেসিটি কমাতে এমন ওষুধ তৈরি করেছেন যা অনবদ্য। ইঁদুরের উপর বহুবার পরীক্ষা করে দেখা গেছে এই ওষুধ একদম সঠিকভাবেই নাকি কাজ করে। অতি দ্রুত ফ্যাট কমাতে পারে বলে দাবি গবেষকদের। ওবেসিটিতে যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের জন্য এই ওষুধ দারুণ কার্যকরী হবে বলেই দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।

খুব আনন্দ হলে যেমন ভালমন্দ খেতে মন চায়, তেমনই খুব দুঃখ হলেও মনে হয় চট করে একটা আইসক্রিম খেয়ে নিই। স্ট্রেস কমাতে চিপস আর কোল্ড ড্রিঙ্কসে ভরসা রাখেন অনেকেই। মাথা ঝিমঝিম করলে সিগারেট ফুঁকে বেশি হাল্কা লাগে। আবার রাত যদি জাগতে হয়, তাহলে তো কথাই নেই! ভরপুর ডিনার করার পরেও মন উশখুশ, খিদে খিদে ভাব। সে খিদে না পেলেও কিছু যেন একটা খাই খাই করে মন। এই যে যখন তখন যেখানে সেখানে খাওয়ার ইচ্ছেটা চাগাড় দিয়ে ওঠে, তাকেই বলে বিঞ্জ ইটিং ডিসঅর্ডার (Binge Eating Disorder )। গোটা বিশ্বের তরুণ প্রজন্ম এই অসুখে ভুগছে। তবে শুধু তরুণ প্রজন্ম নয়, এখন দেখা যাচ্ছে, বয়স্করাও দিনভর এই খাই খাই সিনড্রোমে ভুগছেন। ডায়াবেটিসের রোগীও ডায়েট ভুলে দেদার মিষ্টি খেয়ে ফেলছেন। বিশেষ করে করোনা লকডাউনের সময় থেকে এই খাই খাই সিনড্রোমটা সবথেকে বেশি চাগাড় দিয়েছে। তাই জেন এক্স-জেন ওয়াইদের মধ্যে ওবেসিটিও বাড়ছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বিঞ্জ ইটিং ব্যাপারটা যতটা না পেটের, ততটাই বেশি মনের। আসলে খিদের ইচ্ছেটা হচ্ছে মনে। মনের খিদে মেটাতে তখন স্যালাড নয়, বার্গারই হাতে উঠে আসে। নানা কারণে মন উচাটন হলে কর্টিসল নামে এক ধরনের হরমোন বের হয়। এই কর্টিসল ঝাল, মিষ্টি, মুখরোচক খাবারের ইচ্ছা বাড়িয়ে দেয়। তখনই মন খাই খাই শুরু করে। এই হরমোনের ক্ষরণ বাড়লে খিদেটাও চাগাড় দেয় বেশি। নতুন ক্যাপসুল এই হরমোনকেই নিয়ন্ত্রণ করবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
ক্যাপসুলে সিলভার অক্সাইড ব্যাটারি লাগানো আছে। পাকস্থলীতে গিয়ে সেটি ৩০ মিনিট ধরে কাঁপবে। একই সময়ে হরমোন নিঃসরণকেও কন্ট্রোল করবে। গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডের ক্ষরণকে নিয়ন্ত্রণ করবে। ভেগাস নার্ভের মাধ্যমে বার্তা পাঠাবে। ফলে খাই খাই ভাবনাটা মন ও মস্তিষ্ক থেকে ধীরে ধীরে উধাও হবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ইঁদুরদের উপর এই ক্যাপসুলের পরীক্ষা হয়েছিল। খাবার দেওয়ার ২০ মিনিট আগে এই ক্যাপসুল খাইয়ে দেওয়া হয় ইঁদুরদের। দেখা যায়, ৪০ শতাংশ কম খাবার খেয়েছে সেই ইঁদুররা।
ওবেসিটি হার্ট অ্যাটাকের কারণ। মোটা হয়ে যাওয়ার পিছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। ফাস্ট ফুড, ঠাণ্ডা পানীয় বা অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে শুরু করে, শারীরিক পরিশ্রম না করা কিংবা কোনও ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। ছোটবেলায় দেখা যায় হঠাৎ করে মেদ জমতে শুরু করেছে। বুক, পেট, কোমর চওড়া হচ্ছে। শরীরে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমছে। হাত-পায়ের তুলনায় পেট ফুলে যাচ্ছে। তখন সতর্ক হতে হবে। রক্তের পরীক্ষা করাতে হবে। ট্রাঙ্কাল ওবেসিটিতে বেশি ভোগে বাচ্চারা। ভুঁড়ি বাড়তে থাকে। পেট ও তলপেটে মেদ বাড়ে। কোমর চওড়া এবং পেটে মেদ জমে ফুলতে শুরু করে। এই দশাকেই বল ট্রাঙ্কাল বা অ্যাবডমিনাল ওবেসিটি। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই ওষুধ ওবেসিটি তো বটেই, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের পরিমাণও কমাবে।