কুকার বার্স্ট করার নজির থেকে সেফটি ভালভের নানা দিক নিয়ে সচেতনতা থাকলেও বাকি আরও অনেক কিছুই নজর এড়িয়ে যায় অনেকরই।

শেষ আপডেট: 4 July 2025 14:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যাচেলরের এককামরা থেকে শুরু করে মডিউলার কিচেন, ভারতীয় বাড়ির রান্নাঘরে প্রেশার কুকারের বিকল্প প্রায় নেই বললেই চলে। চটপট মুশকিল আসান হিসেবে বছরের পর বছর ধরেএর ওপরই ভরসা করেন অনেকেই। কুকার বার্স্ট করার নজির থেকে সেফটি ভালভের নানা দিক নিয়ে সচেতনতা থাকলেও বাকি আরও অনেক কিছুই নজর এড়িয়ে যায় অনেকরই। তারই মাশুল দিতে হল মুম্বইয়ের এক ব্যক্তিকে।
সম্প্রতি মুম্বইয়ের এক ৫০ বছর বয়সি ব্যক্তি গুরুতর সীসা বিষক্রিয়ায় (lead poisoning) আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসক বিশাল গাবালে এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে জানান, মূল কারণ ছিল বাড়ির রান্নাঘরে ব্যবহার হওয়া পুরনো অ্যালুমিনিয়ামের প্রেশার কুকার। ২০ বছর ধরে প্রতিদিন রান্না হচ্ছিল একই কুকারে।
ভুলে যাওয়া, চরম ক্লান্তি, পায়ের ব্যথা ও ঝিনঝিনে অনুভূতির মতো উপসর্গ নিয়ে ওই ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসার শুরুতে সব রিপোর্ট প্রায় স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু শারীরিক সমস্যার কোনও কারণ পাওয়া যায়নি।
চিকিৎসকেরা শেষমেশ শরীরে কোনও ভারী ধাতুর সংক্রমণ হয়েছে কিনা জানতে হেভি মেটাল স্ক্রিনিং (heavy metal screening) করান। তখনই দেখা যায়, রোগীর রক্তে সীসার মাত্রা ২২ মাইক্রোগ্রাম/ডেসিলিটার — যা স্পষ্টতই ক্রনিক সীসা বিষক্রিয়ার (Chronic lead poisoning) লক্ষণ।
রোগীকে এরপর চিলেশন থেরাপি (chelation therapy) দেওয়া হয়, এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।
ডা. বিশাল গাবালে জানান, ‘পুরনো এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া অ্যালুমিনিয়ামের কুকার যখন টক বা অ্যাসিডিক খাবারের সংস্পর্শে আসে, তখন সীসা ও অ্যালুমিনিয়ামের কণাগুলি খাবারে মিশে যায়। এই অতিরিক্ত সীসা স্নায়ুতে ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লক করে ও ব্রেনের পুরো সিগন্যাল সিস্টেমকে স্লো করে দেয়।’
সীসা বিষক্রিয়া (Lead Poisoning) কী?
সীসা বিষক্রিয়া তখনই হয়, যখন শরীরে উচ্চমাত্রায় সীসা জমে যায়। এটি সাধারণত খাবার, জল বা রান্নার পাত্রের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে, তবে স্পর্শ বা শ্বাসের মাধ্যমেও ঘটতে পারে। এই বিষ ব্রেন থেকে শুরু করে ডাইজেস্টিভ সিস্টেম, কিডনি, রিপ্রোডাক্টিভ সিস্টেমের (প্রজনন ক্ষমতা) বড়সড় ক্ষতি করে।
অনেক সময় শরীর আপাতভাবে সুস্থ দেখালেও ভিতরে ভিতরে বিষক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। পেটব্যথা, অতিরিক্ত চঞ্চলতা বা অস্থিরতা, (বাচ্চাদের ক্ষেত্রে) পড়াশোনা বা শেখার সমস্যা, মাথাব্যথা, বমি, ক্লান্তিভাব, রক্তাল্পতা, পা ও পায়ের পাতায় অবশভাব বা ঝিনঝিনি, যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া, বন্ধ্যাত্ব, কিডনি সমস্যা লক্ষণ হিসেবে দেখা যায়। সংক্রমণের উপসর্গ খুবই সাধারণ হওয়ায় বুঝতে বেশ সময় লেগে যায়, আসলে কী সমস্যা হয়েছে।
বন্ধ্যাত্ব বা কিডনির সমস্যার মতো কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে সংক্রমণ থেকে মুক্তি না-ও হতে পারে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক সময়ে ধরা পড়লে বিষক্রিয়ার প্রভাব কমানো যায়।
উচ্চমাত্রার সীসা থাকলে ব্যবহার করা হয় চিলেটিং এজেন্ট (Chelating agent), যা রক্তে ভেসে বেড়ানো মুক্ত সীসার সঙ্গে কেমিক্যাল বন্ডিং তৈরি করে শরীর থেকে তা বার করে দিতে সাহায্য করে।
কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় Whole-Bowel Irrigation, যেখানে মুখে বা নল দিয়ে এক বিশেষ লিকুইড (পলিইথিলিন গ্লাইকোল) দিয়ে স্টমাক (পাকস্থলী) ও ইনটেস্টাইন (অন্ত্র) পরিষ্কার করা হয়, যদি এক্স রে-তে সীসাযুক্ত কোনও পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়ে।