আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইড (UCR)-এর গবেষকরা তৈরি করেছেন এমন এক জেল, যা ক্ষতের গভীরে অক্সিজেন পৌঁছে দিয়ে দ্রুত সারিয়ে তুলতে পারে ক্ষত। গবেষকদের দাবি, এই জেল ভবিষ্যতে ক্রনিক উন্ডস চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

শেষ আপডেট: 7 April 2026 20:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছোট্ট একটি কাটা-ছেঁড়া যদি মাসের পর মাস না-সারে, তখনই তা হয়ে ওঠে ‘দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত’ বা Chronic wounds। বয়স বাড়া, ডায়াবেটিস—এই দুই কারণেই বিশ্বজুড়ে এই সমস্যার প্রকোপ বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়ায় অঙ্গচ্ছেদ। কিন্তু এবার সেই ভয়াবহতার হাত থেকে রেহাই দিতে পারে নতুন এক ‘অক্সিজেন জেল’।
আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইড (UCR)-এর গবেষকরা তৈরি করেছেন এমন এক জেল, যা ক্ষতের গভীরে অক্সিজেন পৌঁছে দিয়ে দ্রুত সারিয়ে তুলতে পারে ক্ষত। গবেষকদের দাবি, এই জেল ভবিষ্যতে ক্রনিক উন্ডস চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
কেন সারে না দীর্ঘদিনের ক্ষত?
চিকিৎসকদের মতে, কোনও ক্ষত এক মাসের বেশি সময় ধরে না-সারলে তাকে ক্রনিক উন্ডস বলা হয়। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১.২ কোটি মানুষ এই সমস্যায় ভোগেন। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ রোগীর শেষ পর্যন্ত অঙ্গচ্ছেদ করতে হয়।
এই ধরনের ক্ষতের মূল সমস্যা হল ‘হাইপোক্সিয়া’—অর্থাৎ ক্ষতস্থানের গভীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছানো। ফলে ক্ষত বারবার প্রদাহের পর্যায়ে আটকে থাকে, ব্যাকটিরিয়া বাড়ে, আর টিস্যু মেরামত হওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
কীভাবে কাজ করে এই নতুন জেল?
গবেষকদের তৈরি জেলটি নরম, নমনীয় এবং সম্পূর্ণ বায়োকম্প্যাটিবল। এটি ক্ষতের আকৃতি অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে এবং গভীর অংশেও পৌঁছে যায়। একটি ছোট ব্যাটারির সাহায্যে জেলটি জলকে ভেঙে ধীরে ধীরে অক্সিজেন তৈরি করে—যা দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষতে সরবরাহ হয়।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এই অক্সিজেন সরবরাহ একটানা চলতে পারে প্রায় এক মাস পর্যন্ত। কারণ নতুন রক্তনালী তৈরি হতে সময় লাগে, আর অল্প সময়ের অক্সিজেন দিয়ে কাজ হয় না।
পরীক্ষায় কী ফল মিলেছে?
ডায়াবেটিস ও বয়সজনিত সমস্যাযুক্ত ইঁদুরের উপর এই জেল পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, যেসব ক্ষতে চিকিৎসা করা হয়নি, সেগুলি অনেক ক্ষেত্রে সারেনি। কিন্তু জেল ব্যবহার করলে প্রায় ২৩ দিনের মধ্যে ক্ষত বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রাণীরাও সুস্থ থাকে।
শুধু অক্সিজেন নয়, কমায় প্রদাহও
এই জেলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল ‘কোলিন’। এটি শরীরের ইমিউন প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং অতিরিক্ত প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ফলে ক্ষতস্থানে একদিকে যেমন প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছয়, তেমনই ক্ষতিকর প্রদাহও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ভবিষ্যতে কী সম্ভাবনা?
গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি শুধু ক্ষত সারানোর ক্ষেত্রেই নয়, ভবিষ্যতে অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা নতুন টিস্যু তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। কারণ বড় টিস্যু বা অঙ্গ তৈরি করার সময় অক্সিজেন সরবরাহই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে গবেষকরা এও বলছেন, শুধু প্রযুক্তি দিয়ে সব সমস্যার সমাধান হবে না। ডায়াবেটিস, বয়স, জীবনযাত্রা—এই সব কারণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তবু এই নতুন আবিষ্কার নিঃসন্দেহে এক বড় আশার আলো—যেখানে অঙ্গচ্ছেদের ভয় কমিয়ে, শরীরকে নিজে থেকেই সুস্থ হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে একটি ছোট্ট জেল।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.