সারা বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ৬ কোটিরও বেশি মানুষ হার্ট ফেলিওরের সমস্যায় ভুগছেন। এই অবস্থায় হৃদপিণ্ড শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পাম্প করতে পারে না। চিকিৎসকদের মতে, রোগটি হওয়ার আগেই যদি সতর্ক সংকেত পাওয়া যায়, তবে রোগীর জীবন বাঁচানো এবং দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি রোধ করা অনেক সহজ হবে।

এআই (AI) বলে দেবে ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক হবে কিনা।
শেষ আপডেট: 11 April 2026 15:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের হাত ধরে হৃদরোগের চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটে গেল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-কে কাজে লাগিয়ে এবার হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি আগাম বোঝা সম্ভব হবে। তাও আবার রোগ বাসা বাঁধার অন্তত পাঁচ বছর আগেই! সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অক্সফোর্ড টিমের তৈরি এই নতুন প্রযুক্তি ইংল্যান্ডের ৭২ হাজার রোগীর ওপর পরীক্ষা করে প্রায় ৮৬ শতাংশ নির্ভুল ফলাফল দিয়েছে।
কী এই নতুন আবিষ্কার?
সারা বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ৬ কোটিরও বেশি মানুষ হার্ট ফেলিওরের সমস্যায় ভুগছেন। এই অবস্থায় হৃদপিণ্ড শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পাম্প করতে পারে না। চিকিৎসকদের মতে, রোগটি হওয়ার আগেই যদি সতর্ক সংকেত পাওয়া যায়, তবে রোগীর জীবন বাঁচানো এবং দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি রোধ করা অনেক সহজ হবে। অক্সফোর্ডের এই এআই টুলটি মূলত মানুষের হৃদপিণ্ডের চারপাশের ফ্যাটের বা চর্বির গঠন বিশ্লেষণ করে। এই চর্বির স্তরের ভেতরে এমন কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ লুকিয়ে থাকে যা মানুষের চোখের ধরা পড়ে না, কিন্তু এআই সেই সংকেতগুলি ধরে ফেলে বুঝতে পারে হৃদপিণ্ড প্রদাহজনক (Inflamed) বা অস্বাস্থ্যকর কি না।
গবেষণার নেপথ্যে থাকা পরিসংখ্যান
জার্নাল অফ দ্য আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজিতে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রটি বলছে, ইংল্যান্ডের ন’টি এনএইচএস (NHS) ট্রাস্টের ৭২ হাজার রোগীর ওপর ১০ বছর ধরে নজরদারি চালানো হয়েছে। গবেষকরা দেখেছেন, এই এআই টুলটি যাঁদের 'হাই রিস্ক' বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল, তাঁদের আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে হার্ট ফেলিওর হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণের তুলনায় ২০ গুণ বেশি। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এই ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর প্রতি চারজন রোগীর মধ্যে একজনের পাঁচ বছরের মধ্যে হার্ট ফেলিওর হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
চিকিৎসায় কীভাবে বদল আনবে এই প্রযুক্তি?
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওভাসকুলার মেডিসিনের অধ্যাপক চারালাম্বোস আন্তোনিয়াডেস, যিনি এই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন, তিনি জানিয়েছেন, "বায়োসায়েন্স এবং কম্পিউটিং-এর মেলবন্ধনে হৃদরোগের চিকিৎসায় এটি একটি বিরাট পদক্ষেপ। আমাদের তৈরি এআই টুলটি মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সিটি স্ক্যান (CT Scan) ডেটা থেকে প্রতিটি রোগীর জন্য একটি নির্দিষ্ট 'রিস্ক স্কোর' তৈরি করতে পারে।"
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে শুধুমাত্র কার্ডিয়াক সিটি স্ক্যানের ওপর ভিত্তি করে কাজ করা হলেও, আগামী দিনে বুকের যেকোনও সাধারণ সিটি স্ক্যান থেকেও হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি বোঝার চেষ্টা চলছে। এতে চিকিৎসকরা আগেভাগেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কোন রোগীর জন্য কতটা নিবিড় চিকিৎসা বা পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডাঃ সোনিয়া বাবু-নারায়ণ বলেন, "হার্ট ফেলিওর শনাক্ত করতে প্রায়ই অনেক দেরি হয়ে যায়। অনেক সময় রোগটি ধরা পড়ে যখন রোগী গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। ততক্ষণে হৃদপিণ্ডের পেশির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়। এই এআই টুলটি আগেভাগে ঝুঁকি চিহ্নিত করে রোগীদের সুস্থভাবে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেবে।"
অক্সফোর্ড টিম বর্তমানে এই প্রযুক্তিটি এনএইচএস-সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তারা চায়, হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগে রুটিন সিটি স্ক্যান বিশ্লেষণের সঙ্গেই এই এআই টুলটি যুক্ত করে দেওয়া হোক।
তবে সচেতনতাই শেষ কথা। প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, চিকিৎসকরা কিন্তু জীবনযাত্রার ওপর জোর দিচ্ছেন। হার্ট ভাল রাখতে প্রচুর পরিমাণে ফল ও শাকসবজি খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান বর্জন এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার কোনও বিকল্প নেই বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
সচেতনতা ও উপযুক্ত এআই টুলের সহযোগীতায় আচমকা হার্ট অ্যাটাক অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.