
শেষ আপডেট: 19 January 2024 21:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিস্ট কথাটা শুনলেই অধিকাংশ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়। কিন্তু সব সময়ে সিস্ট মানেই খারাপ নয়। মেয়েদের ডিম্বাশয়ে সিস্টের কথা বেশি শোনা গেলেও স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে শরীরের বিভিন্ন জায়গাতেই সিস্ট হতে পারে। সিস্ট ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই বিনাইন অর্থাৎ ক্যানসারহীন। তবে সিস্ট হলে সংশ্লিষ্ট অংশে ব্যথা-যন্ত্রণা হতে পারে। ওই অঙ্গের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, ইদানীংকালে ফুসফুসে সিস্ট বেশি হচ্ছে। ডাক্তারবাবুরা একে বলছেন, সিস্টিক লাং ডিজিজ। লাগাতার শুকনো কাশি, ওষুধ খেয়েও কাশি না কমা এবং শ্বাসকষ্ট বেশি হলে সাবধান হতে হবে।
ফুসফুসের সিস্ট আসলে বায়ু ভর্তি সিস্ট। এই সিস্টের ভিতর তরল পদার্থ কিছু থাকে না। সাধারণত ফুসফুসে সিস্ট হলে প্রথমে কোনও লক্ষণ বোঝা যায় না। তবে কোনও কোনও ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট বা কাশি হতে পারে। লাং ফাংশন টেস্ট করলে বা সিটি স্ক্যান করালে তখন সিস্ট ধরা পড়ে।
ফুসফুসে সিস্ট কাদের হতে পারে?
ফুসফুসের যে অসুখে ফুসফুসের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও ধীরে ধীরে স্থূল ও শক্ত হয়ে গিয়ে শ্বাসকার্যে বাধা তৈরি করে তাকে বলে পালমোনারি ফাইব্রোসিস। শক্ত হয়ে যাওয়া কোষের কারণে ফুসফুস স্বাভাবিক ভাবে কাজ করতে পারে না। তখনই শুরু হয় শ্বাস নেওয়ার সমস্যা। পরবর্তী সময়ে এর থেকে সিস্ট তৈরি হতে পারে ফুসফুসে। শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক, ধূমপায়ীরা, এখন ধূমপান ত্যাগ করলেও আগে ধূমপানের অভ্যেস থাকলে তাঁরাও বিভিন্ন কারণে আক্রান্ত হতে পারেন।
সিওপিডির রোগী বা ফুসফুসে আগে সংক্রমণ হয়েছে এমন রোগীদের সিস্টের ঝুঁকি বেশি থাকে। কোভিড পরবর্তী সময়ে ফুসফুসে এমন সিস্ট হতে দেখা যাচ্ছে অনেকেরই। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, সিস্টের আকারের উপর নির্ভর করে বিপদ কতটা। যদি সিস্টের আকার বাড়তে থাকে এবং গোটা ফুসফুস জুড়ে সিস্ট ছড়িয়ে পড়ে তাহলে বিপদ বেশি। তখন শ্বাস নিতে সমস্যা হবে, ফুসফুস তার স্বাভাবিক কাজ করতে পারবে না। পুরুষ ও মহিলার ক্ষেত্রে এই সিস্টের ধরনের তফাত থাকে।
চিকিৎসকরা বলছেন, কিছুক্ষেত্রে পিরিয়ড চলাকালীন ইস্ট্রোজেন হরমোনের তারতম্যের কারণে মেয়েদের এই ধরনের সিস্ট হতে পারে। জিনগত কারণেও সিস্ট হতে পারে ফুসফুসে। আবার ভাইরাস সংক্রমণের কারণে, অতিরিক্ত ধূমপানের কারণেও সিস্ট তৈরি হতে পারে।
ফুসফুসের সমস্ত সংক্রমণই ঠিক ভাবে চিকিৎসা না হলে শেষ পর্যন্ত ফাইব্রোসিসে পরিণত হয়। আমাদের ত্বকে কেটে গেলে যেমন স্কার হয়, তেমনই শরীরের ভিতরের প্রত্যঙ্গগুলিতে, বিশেষ করে ফুসফুসে সংক্রমণ হলে সেই অংশগুলি নষ্ট হয়ে গিয়ে স্কার টিসু তৈরি হয়। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, এই স্কার টিসুগুলি বাতাস ও ফুসফুসের অ্যালভিওলাইয়ের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। ফলে, রক্তপ্রবাহে অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে না। কার্বন ডাই অক্সাইডও বেরোতে পারে না। ফলে তৈরি হয় সমস্যা। তাই সিস্ট ধরা না পড়লে তা ধীরে ধীরে ফুসফুসের ক্ষতির কারণ হয়ে ওঠে।