Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
হরমুজ ঘিরে ফেলল মার্কিন সেনা! ইরানের 'শ্বাসরোধ' করতে ঝুঁকির মুখে আমেরিকাও, চাপে বিশ্ব অর্থনীতি'ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করা যাবে না', আইপ্যাক ডিরেক্টরের গ্রেফতারিতে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি অভিষেকেরভোটের মুখে ইডির বড় পদক্ষেপ! কয়লা পাচার মামলায় গ্রেফতার আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলমহাকাশে হবে ক্যানসারের চিকিৎসা! ল্যাবের সরঞ্জাম নিয়ে পাড়ি দিল নাসার ‘সিগনাস এক্সএল’সঞ্জু-রোহিতদের পেছনে ফেলে শীর্ষে অভিষেক! রেকর্ড গড়েও কেন মন খারাপ হায়দ্রাবাদ শিবিরের?আইপিএল ২০২৬-এর সূচিতে হঠাৎ বদল! নির্বাচনের কারণে এই ম্যাচের ভেন্যু বদলে দিল বিসিসিআইWest Bengal Election 2026 | হার-জিত ভাবিনা, তামান্না তো ফিরবেনা!সুস্থ সমাজ গড়াই লক্ষ্য: শহর ও মফস্বলে স্বাস্থ্য শিবিরের মাধ্যমে সাধারণের পাশে ডিসান হাসপাতালWest Bengal Election 2026 | আবেগের বশেই ‘হুমকি’ দিই শুভেন্দু ‘অপেরা’ করলে পারত!উত্তর কলকাতার অর্ধেক বুথই ‘অতি স্পর্শকাতর’, থাকছে ১০০টি মহিলা বুথও

অটিজম আক্রান্তদের আজীবন পাশে থাকার অঙ্গীকার, কলকাতায় গড়ে উঠছে বিশেষ আবাসন ‘সমাবেশ’

এই আলোচনা সভায় মূল ফোকাস ছিল অটিজম আক্রান্তদের শুধুমাত্র শৈশবে নয়, বরং সারাজীবন কীভাবে সঠিক যত্ন এবং পরিকাঠামোর মধ্যে রাখা যায়। সংস্থার লক্ষ্য হলো ‘সমাবেশ’ (Samaavesh) নামে ভারতের বৃহত্তম লাইফলং রেসিডেন্সিয়াল কেয়ার ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, যেখানে অটিজম আক্রান্তরা বড় হওয়ার পরও মর্যাদার সাথে স্বাধীনভাবে থাকতে পারবেন।

 

অটিজম আক্রান্তদের আজীবন পাশে থাকার অঙ্গীকার, কলকাতায় গড়ে উঠছে বিশেষ আবাসন ‘সমাবেশ’

জিনিয়া সরকার

শেষ আপডেট: 11 April 2026 20:10

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ব অটিজম সচেতনতা মাস উপলক্ষে কলকাতায় এক বিশেষ উদ্যোগ নিল ‘ইন্ডিয়া অটিজম সেন্টার’ (IAC)। অটিজম এবং নিউরো-ডাইভারসিটি নিয়ে কাজ করা এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি আয়োজন করেছিল ‘অটিজম ইন প্র্যাক্টিস’ (Autism in Practice)— যেখানে অটিজম আক্রান্তদের অভিভাবক এবং চিকিৎসা জগতের বিশেষজ্ঞদের এক ছাতার তলায় আনা হয়। এমনকী পরবর্তীকালে বিশেষ সুবিধা দিতে এই শিশুদের জন্য আবাসন গড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সংস্থাটির।  

মূল লক্ষ্য কী ছিল?

শনিবারের এই আলোচনা সভায় মূল ফোকাস ছিল অটিজম আক্রান্তদের শুধুমাত্র শৈশবে নয়, বরং সারাজীবন কীভাবে সঠিক যত্ন এবং পরিকাঠামোর মধ্যে রাখা যায়। সংস্থার লক্ষ্য হলো ‘সমাবেশ’ (Samaavesh) নামে ভারতের বৃহত্তম লাইফলং রেসিডেন্সিয়াল কেয়ার ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, যেখানে অটিজম আক্রান্তরা বড় হওয়ার পরও মর্যাদার সাথে স্বাধীনভাবে থাকতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ সুদীপ সাহা, ডাঃ অরিজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ডাঃ  যশোধরা চৌধুরী সহ শহরের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা। তাঁদের মতে, অটিজম ম্যানেজমেন্টে শুধুমাত্র ওষুধ নয়, বরং আচরণগত থেরাপি এবং সঠিক ইন্টারভেশনের মেলবন্ধন প্রয়োজন। দরকার মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি অ্যাপ্রোচ। অর্থাৎ এক ছাদের তলায় সবরকম থেরাপির সুবিধা ও এই বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন শিশুদের ভাল রাখার সব রকম ব্যবস্থা করা।

এসেছিলেন সেন্টার ফর চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড থেরাপি সেন্টার ‘সোচ’, গুরগাঁও-এর ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডাঃ মনীশ সামনানি। তিনি দেখান, কীভাবে প্রাত্যহিক জীবনের ছোট ছোট কৌশল অটিজম আক্রান্ত শিশুদের স্বনির্ভর হতে সাহায্য করতে পারে। এই ধরনের শিশুদের সুস্থতার জন্য খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে ব্যাপারেই আলোকপাত করলেন  বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ কল্পনা দত্ত। খাবারের প্রতি অনীহা বা বিশেষ খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করেন তিনি। আলোচনায় উঠে আসে প্রি-টিন ও কিশোর বয়সের অটিজম আক্রান্তদের মানসিক আবেগ এবং সামাজিক মেলামেশার কৌশল কীভাবে শেখানো দরকার সেগুলি, এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন রঞ্জনা চক্রবর্তী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশুরা এবং তাঁদের অভিভাবকেরা। কেউ অসাধারণ ছবি আঁকে, কেউ অঙ্কে দারুণ, আবার কেউ নিজের বিশেষ প্রতিভা দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করে। এসব কথা শুনলে অনেকেরই গল্প বলে মনে হতে পারে, কিন্তু চোখের সামনে দেখলে বোঝা যায়—এই শিশুরা যথাযথ সহায়তা, যত্ন ও সুযোগ পেলে খুব ভালভাবেই জীবন কাটাতে পারে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া। বিশেষ করে নীলাঞ্জনা রামোথু এবং সুমিত্রা পাল বক্সীর মতো অভিভাবক-প্রবক্তারা তাঁদের সন্তানের বেড়ে ওঠার পথচলার লড়াই, চ্যালেঞ্জ এবং সাফল্যের গল্প তুলে ধরেন। তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা শুধু উপস্থিত অন্য মা-বাবাদের অনুপ্রাণিত করেনি, বরং সন্তানদের পাশে থেকে কীভাবে ধৈর্য, সাহস এবং ভালবাসা দিয়ে পথ চলতে হয়, সেই বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে।

কী বলছেন উদ্যোক্তারা?

ইন্ডিয়া অটিজম সেন্টারের সিইও জয়শঙ্কর নটরাজন বলেন, "আমাদের লক্ষ্য শুধু সচেতনতা নয়, অভিভাবকদের হাতে সঠিক তথ্য ও রসদ তুলে দেওয়া। 'সমাবেশ' প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা এমন এক আবাসন পরিবেশ গড়তে চাই যেখানে অটিজম আক্রান্তরা সাবালক হওয়ার পরও নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবন পাবেন।"

অন্যদিকে, কনসালট্যান্ট ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন তথা স্পেশাল অলিম্পিক ভারত-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডাঃ রুদ্রজিৎ সিনহা একজন বিশেষজ্ঞ এবং অভিভাবক হিসেবে বলেন, "অটিজম সচেতনতা কেবল এক মাসের জন্য নয়, হওয়া উচিত প্রতিদিনের। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং সমাজের সমর্থন থাকলে এই বিশেষ মানুষগুলোও মূলধারায় সফলভাবে থাকতে পারেন।"


```