এই বিশেষ গাছটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘পিস্তিয়া ম্যাগনিফিকা’ (Pistia Magnifica)। এটি আসলে আমাদের অতি পরিচিত জলজ উদ্ভিদ ‘ওয়াটার লেটুস’ বা টোপাপানার একটি জিনগতভাবে উন্নত সংস্করণ। এই উদ্ভিদের শিকড়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লিগনিন-মডিফাইড এনজাইম। এই এনজাইমগুলি পলিথিন এবং পলিস্টাইরিনের মতো সিন্থেটিক কণার সঙ্গে নিজেদের আটকে ফেলে।

এই গাছ খেয়ে নিচ্ছে জলের দূষিত প্লাস্টিক
শেষ আপডেট: 10 April 2026 19:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইতালির ফ্লোরেন্সের একটি গ্রিনহাউসে সম্প্রতি বিজ্ঞানের এক আশ্চর্য বিপ্লব ঘটে গেল। ইতালীয় উদ্ভিদবিদরা এমন এক উদ্ভিদ তৈরি করেছেন যা নদী বা জলাশয়ের দূষিত জলের জন্য অনেকটা ‘ভ্যাকুয়াম ক্লিনার’( natural vacuum cleaner)-এর মতো কাজ করে। এটি কেবল একটি ফিল্টার নয়, এটি তার শিকড়ের মাধ্যমে জলের ক্ষতিকারক মাইক্রোপ্লাস্টিক (microplastics) এবং ভারী ধাতু শুষে নিতে সক্ষম। এই উদ্ভাবন বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলার লড়াইয়ে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
জলের ‘ভ্যাকুয়াম ক্লিনার’: পিস্তিয়া ম্যাগনিফিকা
এই বিশেষ গাছটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘পিস্তিয়া ম্যাগনিফিকা’ (Pistia Magnifica)। এটি আসলে আমাদের অতি পরিচিত জলজ উদ্ভিদ ‘ওয়াটার লেটুস’ বা টোপাপানার একটি জিনগতভাবে উন্নত সংস্করণ। এই উদ্ভিদের শিকড়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লিগনিন-মডিফাইড এনজাইম। এই এনজাইমগুলি পলিথিন এবং পলিস্টাইরিনের মতো সিন্থেটিক কণার সঙ্গে নিজেদের আটকে ফেলে। নদীর জল যখন এই গাছের শিকড়ের পাশ দিয়ে বয়ে যায়, তখন শিকড়গুলি ওই প্লাস্টিক কণাগুলোকে ফাঁদে ফেলে এবং গাছের সংবহনতন্ত্রের ভেতর টেনে নেয়।
অবিশ্বাস্য কার্যকারিতা
গবেষণাগারের পরীক্ষায় দেখা গেছে, মাত্র এক বর্গমিটার এলাকাজুড়ে থাকা ‘পিস্তিয়া ম্যাগনিফিকা’ ১০০ লিটার জল থেকে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ৯২ শতাংশ পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক সরিয়ে ফেলতে পারে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, শুষে নেওয়া এই বর্জ্য গাছের কাঠামোর ভেতরেই আটকে থাকে। পরে এই গাছগুলো সংগ্রহ করে নিরাপদে পুড়িয়ে ফেলা যায়, যা থেকে আবার তাপশক্তি (Thermal Energy) উৎপাদন করা সম্ভব। অর্থাৎ দূষণ থেকেই তৈরি হচ্ছে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি।
কেন এটি অনন্য?
প্রচলিত জল শোধন ব্যবস্থার মতো এই পদ্ধতিতে কোন বড় যন্ত্র, বিদ্যুৎ বা পরিকাঠামোর প্রয়োজন নেই। এটি কেবল জলের ওপর ভাসে, দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং প্রাকৃতিক উপায়ে জল পরিষ্কার করতে থাকে। ইতালির বিভিন্ন পুরসভা ইতিমধ্যে শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন খাল, হ্রদ এবং সেচনালায় এই ‘লিভিং ক্লিনআপ ক্রু’ মোতায়েন করা শুরু করেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ (UN) ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তিটি খতিয়ে দেখছে, বিশেষ করে সেইসব উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য যেখানে নদী দূষণ এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
এদেশে ভয়াবহ প্লাস্টিক সংকট
ইতালির এই উদ্ভাবন ভারতের মতো দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (CPCB)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতিদিন প্রায় ২৬ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়, যার একটি বড় অংশ গিয়ে পড়ে আমাদের গঙ্গাসহ প্রধান নদীগুলোতে। নদী অববাহিকার মাটির গভীরে এবং মাছের শরীরেও এখন মাইক্রোপ্লাস্টিকের সন্ধান মিলছে। বিশেষ করে গঙ্গা ও যমুনার মতো নদীগুলো এখন প্লাস্টিকের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশে সনাতন পদ্ধতির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে এই ‘সবুজ ভ্যাকুয়াম ক্লিনার’ গেম-চেঞ্জার হতে পারে।
ভারতের নদীগুলোতে যদি এই পিস্তিয়া ম্যাগনিফিকা প্রয়োগ করা যায়, তবে কোনও বড় বিনিয়োগ ছাড়াই নদীমাতৃক এই দেশের জলজ প্রাণবৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। ইতালির এই প্রযুক্তি প্রমাণ করে দিল, পরিবেশের ক্ষত নিরাময়ে কেবল প্রযুক্তি নয়, প্রকৃতির শক্তিও সমভাবে কার্যকর।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.