
গ্রাফিক্স
শেষ আপডেট: 1 May 2025 20:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি অভিনেতা পরেশ রাওয়ালের এক সাক্ষাৎকার ইউটিউবে দারুণ ভাইরাল হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, হাঁটুতে এক গুরুতর আঘাতের পর তিনি প্রতিদিন সকালে ১৫ দিন ধরে নিজের মূত্র পান করেছিলেন। এতে তাঁর হাড় দ্রুত জোড়া লেগেছে বলে চিকিৎসকেরাও নাকি বিস্মিত হয়েছিলেন।
মূত্রপানে হাড় কি সত্যিই দ্রুত জোড়া লাগে?
এক কথায়, না। এই দাবির পেছনে কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। মূত্রে মূলত থাকে জল। এর সঙ্গে থাকে লবণ, ইউরিয়া ও শরীরের বর্জ্য পদার্থ, ব্যাকটেরিয়া। এই উপাদানগুলোর কোনওটিই হাড়ের গঠন বা জোড়া লাগাতে সাহায্য করে পারে না। চিকিৎসা বিজ্ঞানেও কোথাও এর স্বীকৃতি নেই যে মূত্র হাড় জুড়তে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
ফিজিওথেরাপিস্ট প্রাচি ভারওয়ানি বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতা বলে মূত্রপান কোনও প্রমাণিত চিকিৎসা নয়। হাড় ভাঙার পর তা জোড়া লাগাতে ফিজিওথেরাপি, স্ট্রেচিং, স্ট্রেন্থেনিং ব্যায়াম দরকার। তাঁর সঙ্গে ক্যালশিয়াম, ভিটামিন-ডি ও প্রোটিন রাখতে হবে ডায়েটে।’ তাছাড়া মেডিক্যাল সায়েন্স বলে, বর্জ্য পদার্থ শরীরে ফেরত নেওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক কারণ হতে পারে।
তাহলে পরেশ রাওয়ালের এই দাবির নেপথ্যে কী?
মূলত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার এবং চিকিৎসাই এখানে অভিনেতাকে দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করেছে বলেই মনে করা হয়। মূত্রপানের কোনও বিশেষ ভূমিকা এখানে নেই। হয়তো মানসিকভাবে তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে এটি তাঁকে সাহায্য করছে – যেটি ‘প্লেসেবো এফেক্ট’ বলে পরিচিত। তবে সেটি শুধুই মানসিক স্বস্তি দেয়, হাড়ের দ্রুত জোড়া লাগার ক্ষেত্রে এর কোনও ভূমিকা নেই।
X-Ray কি 'ঘরোয়া টোটকার' প্রভাব দেখায়?
না। এক্স-রে কেবল শরীরের পরিবর্তনটুকুই দেখায়। নতুন হাড় গঠনের প্রক্রিয়া একমাত্র জৈবিকভাবে ঘটে এবং কোনও অলৌকিক উপায় বা টোটকা তা প্রভাবিত করতে পারে না।
নিয়মিত মূত্রপান কি নিরাপদ?
একসময় বিশ্বাস করা হতো মূত্র জীবাণুমুক্ত, কিন্তু গবেষণায় তা ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে। নিয়মিত মূত্রপান কিডনির উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। শরীর আগে থেকেই ডিহাইড্রেটেড থাকলে, এতে ডিহাইড্রেশন আরও বাড়তে পারে।
তাই বলা যেতে পারে, অভিনেতার দাবি মানুষের জন্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে। কারণ এই তথ্যের কোনও বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা নেই। ভাইরাল হওয়া যেকোনও তথ্য বিশ্বাস না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।