
সংগৃহীত চিত্র
শেষ আপডেট: 23 November 2024 19:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোর সময় থেকে বাতাসে ধীরে ধীরে কমেছে আর্দ্রতা। শীত প্রায় এসেই গেছে। এই সময় বাতাসবাহিত জীবাণু এবং অন্যান্য কারণে চোখের সংক্রমণে জেরবার বাচ্চা থেকে বড় প্রায় সকলেই। কনজাংটিভাইটিস, আঞ্জনি লেগেই রয়েছে বাড়ি বাড়িতে। উপরি পাওনা চোখের এই নতুন সংক্রমণ। সম্প্রতি বহু স্কুলেই দেখা গেছে, বাচ্চাদের চোখ লাল হয়ে আসছে, দুটো চোখই হালকা ফুলে যাচ্ছে, সারতে সময় লাগছে প্রায় ১৫-১৬ দিন। যে বাড়িতে বাচ্চার হচ্ছে, অভিভাবক বা বাড়ির বাকিদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। এখন এই সংক্রমণকে অনেকেই চোখের কোভিড বলে সম্বোধন করছেন, অনেকে আবার পিঙ্ক আই-ও বলছেন। যা নিয়ে রয়েছে দ্বিমত। টানা ১৪-১৫ দিন চোখে যন্ত্রণা, চোখ ফুলে থাকা আসলে কী? খোলসা করলেন রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠানের অপথামোলজির প্রধান ডঃ সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়। কীভাবে এর থেকে বাঁচা যায়, সে উপায়ও বলে দিলেন দ্য ওয়ালে।
এই সংক্রমণ কি আমাদের প্রচলিত জয় বাংলা? এবিষয়েচিকিৎসক বলেন, 'ভাইরাসের ধরন বিভিন্ন রকমের হয়, এখন এই ধরনটা পাল্টে গেছে। দুটো চোখে হলে একরকম, তার চিকিৎসা পদ্ধতি আলাদা, ওষুধও আলাদা। আর এক চোখে হলেও চিকিৎসা পদ্ধতি আলাদা। আগে সিজন পাল্টানোর সময় দেখা দিত এমন সংক্রমণ। কিন্তু এখন সবসময়ই হতে পারে। আগে জয় বাংলা বলে চালানো হত, ৭ দিনে সেরে যেত। এখন কারও ৪-৫ দিন লাগছে, কারও আরও বেশি সময় লাগছে।'
তাহলে কি এটা চোখের কোভিড? এমন শোনা যাচ্ছে লোকমুখে। ডঃ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কোভিডে যা যা হয় সেই সব উপসর্গ কিন্তু এই সব রোগীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। যেমন- চোখ থেকে জল পড়া সবসময়, পিচুটি, চিকিৎসায় সাড়া না দেওয়া, রোগের কারণ খুঁজে না পাওয়া। এসব কিন্তু দেখা যাচ্ছে না। এছাড়াও নাকে গন্ধ না থাকা, খেতে অসুবিধা বা অক্সিজেন কমে যাওয়া এসবও কারও হচ্ছে না। ফলে এটাকে কোভিড বলা যায় না সেই অর্থে। আর আগে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছে, তাদের বেশি হচ্ছে এই সংক্রমণ, এমনও নয়।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে চিকিৎসকের মত, এই সংক্রমণ যে শুধু এ রাজ্যে, এ দেশে হচ্ছে এমন না। বিদেশেও হচ্ছে। উদাহরণ স্বরূপ তিনি একজনের কথা উল্লেখ করেন যিনি স্পেন থেকে এদেশে এসেছে। চিকিৎসক জানান, ওই ব্যক্তির চোখের অর্ধেক দৃষ্টিশক্তিই চলে গেছিল।
তাহলে এই সংক্রমণ ঠিক কোন ভাইরাসের জন্য হচ্ছে? উত্তরে ডঃ ব্যানার্জি বলেন, 'এটা হতে পারে অ্যাডিনো ভাইরাস, যার একাধিক স্ট্রেইন রয়েছে। যদি ৮,১১, ১৯, ৩৭, ৪১ হয় তাহলে সংক্রমণ মারাত্মক। অ্যাডিনো ভাইরাস সাংঘাতিক আকার নেয়। চোখ ফুলে যাওয়া, জল পড়া। পাতা ফুলে বন্ধ হয়ে যায়। খুব লাল হয়ে যাওয়া। হতে পারে। পক্সের ভ্যারিয়েন্ট হতে পারে। হারপিস হতে পারে। রেসপিরেটরি সেনসিটিয়াল ভাইরাস থেকে হতে পারে। তাহলে সেভাবে পরীক্ষা করে দেখতে হবে ঠিক কোন ভাইরাসের জন্য হচ্ছে। এই সব পরীক্ষা হয় না সহজে আজকাল। আগেকার দিনে ভাইরাল কনজাংটিভাইটিসে পিচুটি পড়ত না। ভাইরাসের চরিত্র পাল্টেছে। এখন পড়ে। তবে, ২০২৪-এ কারও চোখ থেকে জল পড়ছে পিচুটি নেই, তাহলে এটা ভাইরাল সংক্রমণ না, তেমন না।'
তাহলে এই রোগ সেরে উঠতে কত সময় লাগছে? চিকিৎসক বলেন, 'যদি একচোখে হয়, একরকম। দুচোখে হলে আরেকরকম। যদি এর সঙ্গে জ্বর, গায়ে ব্যথা এবং ব়্যাশ থাকে। তাহলে আরেকরকম চিকিৎসা হবে। এক্ষেত্রে একই ধরনের চিকিৎসা সবগুলোর ক্ষেত্রে করলে মুশকিল। অ্যান্টি ভাইরাল লাগছে, কিছু ক্ষেত্রে স্টেরয়েডও লাগছে। কিন্তু ফল পাওয়া যাচ্ছে। সেরে যাচ্ছে। ২০-২৫ দিন পর্যন্তও থেকে যাচ্ছে। কিন্তু সেটা ভুল চিকিৎসার জন্য। হতে পারে প্রথম দেখেই বলে দিলেন সামান্য সংক্রমণ। একটা ওষুধ দিয়ে দিলেন। কিন্তু লাগত আরেকটা। ফলে সময় লেগে লাগছে।
কাদের হচ্ছে এই ধরনের সংক্রমণ?
এই চোখের সংক্রমণ হচ্ছে সাধারণত বাইরে যাঁরা থাকেন তাঁদের। বাড়িতে যাঁরা থাকেন, তাঁরা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। বাচ্চার থেকে মূলত ছড়ায়। জামা কাপড় থেকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বাচ্চার যিনি খেয়াল রাখছেন, তাঁরও সেখান থেকে সংক্রমণ হতে পারে।
কীভাবে এই সংক্রমণ থেকে বাঁচবেন?
চিকিৎসক জানান, বাস-অটোর হ্যান্ডেল থেকে হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। মাথায় রাখতে হবে রাস্তায় থাকলে বা যেখানে সেখানে হাত দিয়ে চোখে হাত দেওয়া যাবে না। বাতাসে ছড়ায় কিন্তু কম। সবচেয়ে বেশি ছড়ায় আঙুল থেকে।