আমরা এখন একই সঙ্গে ফোনে কথা বলি, ইমেল চেক করি আর কফি খাই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মস্তিষ্ক যখন একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ করে, তখন সে কোনও একটি তথ্যকেও ‘গভীরভাবে’ ধরে রাখতে পারে না। একে বলা হয় ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট (attention-deficit) ’। অর্থাৎ আপনি ভুলে যাচ্ছেন না, আসলে আপনার মস্তিষ্ক তথ্যটি ঠিকমতো রেকর্ডই করেনি।

৩০ পেরলেই সব ভুলে যাচ্ছেন?
শেষ আপডেট: 19 March 2026 16:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স সবে তিরিশের কোঠা পেরিয়েছে, অথচ পকেটে চাবি রেখে সারা বাড়ি খুঁজছেন? কিংবা খুব পরিচিত কারও নাম হঠাৎ মনে পড়ছে না? অনেক সময় এই ছোটখাটো ভুলে যাওয়ার ঘটনা আমাদের মনে বড় আশঙ্কার জন্ম দেয়— 'তবে কি অল্প বয়সেই ডিমেনশিয়া (Dementia) বা অ্যালঝাইমার্স (Alzheimer's) থাবা বসাচ্ছে?'
চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ৩০-৪০ বছর বয়সিদের মধ্যে স্মৃতিশক্তি দুর্বল (Memory Loss) হওয়ার মূল কারণ সাধারণত কোনও মারণ রোগ নয়, বরং আমাদের জীবনযাত্রার কিছু ত্রুটি। বিশেষজ্ঞরা আধুনিক প্রজন্মের এই 'ভুলে যাওয়া'র পিছনে ৫টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন।
কেন কমছে স্মৃতিশক্তি? ৫টি বড় কারণ:
১. মাল্টিটাস্কিং (Multitasking) এবং মনোযোগের অভাব (Concentration problems):
আমরা এখন একই সঙ্গে ফোনে কথা বলি, ইমেল চেক করি আর কফি খাই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মস্তিষ্ক যখন একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ করে, তখন সে কোনও একটি তথ্যকেও ‘গভীরভাবে’ ধরে রাখতে পারে না। একে বলা হয় ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট (attention-deficit) ’। অর্থাৎ আপনি ভুলে যাচ্ছেন না, আসলে আপনার মস্তিষ্ক তথ্যটি ঠিকমতো রেকর্ডই করেনি।
২. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ (Chronic Stress):
অফিসের ডেডলাইন আর ব্যক্তিগত জীবনের চাপে আমাদের শরীরে ‘কর্টিসল’ হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই হরমোন মস্তিষ্কের ‘হিপোক্যাম্পাস’ (যা স্মৃতি ধরে রাখে)-এর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফলে মন অস্থির থাকে এবং তথ্যের আদান-প্রদান ব্যাহত হয়।
৩. ঘুমের অপর্যাপ্ততা:
ঘুম কেবল শরীরের বিশ্রাম নয়, এটি মস্তিষ্কের ‘ডাটা স্টোরেজ’ করার সময়। সারাদিনের অভিজ্ঞতাগুলো ঘুমের মধ্যেই দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে রূপান্তরিত হয়। ৩০-এর কোঠায় থাকা অনেকেই ঘুমের সময় কমিয়ে কাজে বা মোবাইলে সময় দেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে তাঁদের স্মৃতিশক্তিতে।
৪. ভিটামিন বি-১২ এবং পুষ্টির অভাব:
স্মৃতিশক্তি সচল রাখতে ভিটামিন বি-১২ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভূমিকা অপরিসীম। বিশেষ করে যাঁরা নিরামিষাশী, তাঁদের শরীরে বি-১২-এর অভাব দেখা দিতে পারে, যা ক্লান্তি এবং স্মৃতিভ্রমের অন্যতম কারণ।
৫. ডিজিটাল অ্যামনেশিয়া:
আমাদের সব তথ্য এখন স্মার্টফোনে বন্দি। ফোন নম্বর থেকে শুরু করে ক্যালেন্ডারের শিডিউল— সবকিছুর জন্য আমরা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। এর ফলে মস্তিষ্ক কোনও কিছু মনে রাখার পরিশ্রম করতে চাইছে না, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তিকে আলগা করে দিচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, তিরিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাগুলো জীবনযাত্রায় সামান্য বদল আনলেই মিটে যায়। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা আর পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি দিনের অন্তত কিছুটা সময় ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ (মোবাইল থেকে দূরে থাকা) করার চেষ্টা করুন। তবে সমস্যা যদি খুব বেশি হয় এবং দৈনন্দিন কাজে বাধা দেয়, তবে দেরি না করে নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.