শীত পড়তেই কলকাতার ‘মিনি অ্যামাজনে’ বসেছে পাখির মেলা। হরেক প্রজাতির পাখির ডাক আর সবুজ জঙ্গলের মাঝে একদিনে ঘুরে আসার আদর্শ ঠিকানা এটা।

চিন্তামনি কর বার্ড স্যাঙ্কচুয়ারি
শেষ আপডেট: 6 January 2026 14:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অ্যামাজনের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঘন সবুজ জঙ্গল, অজানা পাখির ডাক আর রহস্যময় প্রকৃতি। কিন্তু সেই অ্যামাজনের স্বাদ পেতে আর হাজার হাজার টাকা খরচ করে বিদেশ যেতে হবে না। এই শীতেই ঘুরে আসা যায় কলকাতার (Kolkata) বুকেই থাকা এক ‘মিনি অ্যামাজন’ থেকে। খুব কম মানুষই জানেন, শহরের এত কাছে এমন এক ঘন সবুজ পাখিরালয় রয়েছে, যেখানে ঢুকলেই মনে হবে আপনি যেন কলকাতা ছেড়ে অনেক দূরের জঙ্গলে চলে এসেছেন।
বাংলার এই মিনি অ্যামাজনটির নাম চিন্তামনি কর বার্ড স্যাঙ্কচুয়ারি (Chintamoni Kar Bird Sanctuary)। এক সময় এটি ‘কায়লার বাগান’ (Kaylar Bagan) নামে পরিচিত ছিল। পরে বিখ্যাত ভাস্কর চিন্তামণি করের (Chintamoni Kar) নামে এই পাখিরালয়ের নামকরণ করা হয়। কলকাতার কাছেই নরেন্দ্রপুরে (Narendrapur) অবস্থিত এই সংরক্ষিত এলাকা মূলত জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্দেশ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে।
নেতাজি সুভাষ রোডের (Netaji Subhas Road) পশ্চিম দিকে, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের (Ramakrishna Mission School) কাছেই রয়েছে এটি। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ভিতরে ঢুকলেই কী অপেক্ষা করছে। কিন্তু একবার ঢুকলেই চোখ ধাঁধিয়ে যাবে। ঘন জঙ্গল, উঁচু উঁচু গাছ, ঝোপঝাড় আর চারপাশে শুধু পাখির কোলাহল। এখানে এলে বন্য শেয়াল, গোসাপ, নানা প্রজাতির পাখি ও অন্যান্য প্রাণী চোখে পড়ে। রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার (Watch Tower), যেখান থেকে পুরো জঙ্গলের এক অনন্য দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
প্রায় ৫২ বিঘা জমির ওপর তৈরি এই পাখিরালয়ে রয়েছে প্রায় দু’শো প্রজাতির পাখি। শীতকাল এলেই পরিযায়ী পাখির আনাগোনা বাড়ে। প্রকৃতি প্রেমী, পাখি পর্যবেক্ষক বা নিছক শহরের কোলাহল থেকে কিছুক্ষণ দূরে থাকতে চাওয়া মানুষের কাছে এই জায়গা কার্যত স্বর্গরাজ্য। শীতের সকালে হালকা রোদ, পাখির ডাক আর সবুজে ঘেরা পথ—সব মিলিয়ে চড়ুইভাতির জন্যও আদর্শ।
যাতায়াতও বেশ সহজ। ট্রেনে যেতে চাইলে হাওড়া (Howrah) বা শিয়ালদহ (Sealdah) স্টেশন থেকে নিকটতম স্টেশন নরেন্দ্রপুর। শিয়ালদহ থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং হাওড়া থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরত্ব। গাড়িতে গেলে গড়িয়া (Garia) থেকে বারুইপুর (Baruipur) বাইপাস ধরে আধ ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছানো যায়। বাস বা অটোয় গড়িয়া থেকে নরেন্দ্রপুর রথতলায় নেমে, সেখান থেকে হেঁটে বা টোটো করে পাঁচ মিনিটেই ঢুকে পড়া যায় পাখিরালয়ে।
এই শীতে যদি কাছাকাছি কোথাও একটু অন্যরকম প্রকৃতির স্বাদ নিতে চান, তাহলে কলকাতার এই মিনি অ্যামাজন নিঃসন্দেহে আপনার তালিকায় থাকতেই পারে।