
শেষ আপডেট: 8 November 2023 18:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিদিন ছুটে চলা। একেক সময় এর চাপ এতটাই বেড়ে যায় যে শরীর মন যেন হাঁসফাঁস করতে থাকে। শুরু হয় অক্সিজেনের খোঁজ। মনে হয় পাহাড়চুড়োয় উঠে একটু সময় কাটাই নিজের সঙ্গে, বা পাশে থাকুক শুধুই কাছের মানুষগুলি। তখন ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ার পালা।
এদিকে হাতে সময় কম, পকেটও তেমন ভারী নয়। ভাবছেন তো কোথায় যাওয়া যায়! দার্জিলিং যাবেন? ম্যালে তো কলকাতার থেকেও বেশি ভিড়। কিন্তু আশেপাশেই রয়েছে পাহাড়ের বাঁকে লুকিয়ে থাকা এমন অনেক গ্রাম যা দেখলে দামি ম্যাগাজিনের পাতায় ছবি দেখা বিদেশের গ্রাম বলে ভুল করতে পারেন। যাবেন নাকি তোরিয়ক! কাঞ্চনজঙ্ঘা- মেঘ রোদের লুকোচুরি- নির্জন আঁকাবাঁকা পথ-গভীর অরণ্যের হাতছানি এত কিছু আপনারই অপেক্ষায়।
আপনারা অনেকেই তো সিটং গেছেন। সেই সিটংয়েরই একটা ছোট্ট অংশ হল তোরিয়ক। এই ছোট্ট গ্রামটা ঘুরে আসা অনেকেই বলেন, এটাই নাকি বাংলার সুইটজারল্যান্ড। সারি সারি পাইন বনে সবুজে যেন চোখের আরাম। হোমস্টের জানলা খুললেই কাঞ্চনজঙ্ঘার অপূর্ব রূপ দেখে আপনি মুগ্ধ হতে বাধ্য। দিনের একেক সময় সেখানে একেক রঙের খেলা।
এবছর সিটং যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে অবশ্যই এই গ্রামে একদিন থেকে যেতে পারেন। এখন অনেক হোমস্টে গড়ে উঠেছে তোরিয়কে। এখানে আসার সেরা সময় হল সেপ্টেম্বর থেকে মে। আশেপাশেও অনেক সুন্দর সুন্দর গ্রাম রয়েছে। হাতে সময় থাকলে ঘুরে দেখতে পারেন মংপু, চিমনি, নামথিং পোখরি, বাগোরা। এই ছোট্ট তোরিয়কে মূলত লেপচাদের বাস। ছবির মতো সুন্দর গ্রামে মিলবে তাঁদের হাতে তৈরি গরম গরম পাহাড়ি খাবারের স্বাদ। পাহাড়ি আবহে এক লহমায় যেন বদলে যাবে জীবনের মানেটাই।
কার্শিয়াংয়ের একদম কাছেই এই সুন্দরী তোরিয়ক। শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে ট্রেন ধরে নিউ জলপাইগুড়ি। সেখান থেকে গাড়ি করে পেরোতে হবে ৬৮ কিলোমিটার পথ। চাইলে নিউ জলপাইগুড়ি থেকে শেয়ার গাড়ি করে দিলারাম পর্যন্ত আসতে হবে। সেখান থেকে আবার একটা শেয়ার গাড়ি করে পৌঁছে যেতে পারেন তোরিয়ক।