
শেষ আপডেট: 6 June 2023 06:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইদানিং ক্রমশই অফবিট ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশনের চাহিদা বাড়ছে। দিঘা-পুরী-দার্জিলিংয়ের কোলাহল আর একঘেয়েমির বাইরে তুলনায় শান্ত, নিরিবিলি জায়গায় প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতেই বেশি পছন্দ করছেন ভ্রমণপিপাসুরা (offbeat destination)। তাছাড়া হাতে সময়ও কম, ফলে সপ্তাহান্তের দু-দিনেই ঘুরে মনের শান্তি মিলবে, কাছেপিঠে তেমন অফবিট জায়গার খোঁজ করেন অনেকেই। আজ তেমনই একটি জায়গার সন্ধান দেব, যেটি শিলিগুড়ি থেকে একেবারে কাছেই। আর অফবিট তো বটেই। সেটি হল কার্শিয়াংয়ের (Kurseong) শিবখোলা (Shivkhola)।

শিলিগুড়ি থেকে শিবখোলার দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। সুকনা থেকে আরও কাছে, মাত্র ১৮ কিলোমিটার। এটি একটি ছোট্ট স্বল্পপরিচিত পাহাড়ি গ্রাম, যেখানে প্রকৃতি আপন খেয়ালে সাজিয়েছে নিজেকে। রয়েছে পাহাড়ের ঢালে চা-বাগান, তিরতির করে বয়ে চল পাহাড়ি নদী। সেই নদীর উপরেই রয়েছে কাঠের সাঁকো। নদীর জলে পা ডুবিয়ে পাথরের উপর বসে থাকতে থাকতে কখন যে সময় কেটে যাবে, বোঝাই যাবে না। নদীর পিছনে সুবিস্তৃত পাহাড়, তার উপর খেলা করছে মেঘ-দৃশ্যপট ঠিক যেন ছবির মতো। শাল গাছের জঙ্গলে ঢাকা এই জায়গার তাপমাত্রা সারা বছরই মনোরম। বিশেষ শীত না থাকলেও গরমও নেই।

শিবখোলা গ্রামে রয়েছে একটি সুপ্রাচীন শিবমন্দির। খোলা শব্দের অর্থ হল নদী। বস্তুত, সেই থেকেই গ্রামের এহেন নামকরণ। স্থানীয়রা বলেন, এই মন্দির নাকি অত্যন্ত জাগ্রত। মন থেকে ভোলেবাবার কাছে কিছু প্রার্থনা করলে সেই ইচ্ছা নাকি অবশ্যই পূরণ হয়। এখানে সন্ধে নামলেই ঝিঁঝি ডাকতে শুরু করে। পাহাড়ি নীরবতায় সেই শব্দ যেন ঘণ্টাধ্বনির মতো শোনায়।

পর্যটকদের জন্য নদীর একেবারে পাশেই গড়ে উঠেছে ছোট ছোট হোটেল। সেখানে থাকা এবং খাওয়া দুইয়েরই সুবন্দোবস্ত রয়েছে। সাধারণ, এবং ডিলাক্স-দু ধরনেরইই ঘর রয়েছে। ভাড়া ১,৫০০ টাকার মধ্যে। নদীর অদূরেই রয়েছে বেশ কিছুটা সমতল জায়গা। সেখানে শিশুদের খেলার জন্য বাগান রয়েছে। এছাড়া নদীর গা ঘেঁষেই অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্পে থাকারও সুযোগ রয়েছে। সেখানে রাতের বেলা বনফায়ারের ব্যবস্থা আছে। তাছাড়া বাকি রান্নাও হয় কাঠের উনুনে। ফলে খাবারের স্বাদ অনেকটাই অন্যরকম, একবার খেলে মুখে লেগে থাকবে।

শিবখোলা থেকে সাইট সিয়িং করতে চাইলে তারও সুযোগ রয়েছে। এখন থেকে ঘুরে আসতে পারেন মোমোর জন্য বিখ্যাত গ্রাম রংটং, কমলালেবুর গ্রাম সিটং। সঙ্গে বাইক থাকলে তো সোনায় সোহাগা, না থাকলে ভাড়ার গাড়িতেও ঘুরে আসা যায়।

কীভাবে যাবেন
এনজেপি স্টেশন থেকে শিবখোলা যেতে হলে অজস্র শেয়ার গাড়ি রয়েছে, সেগুলির ভাড়াও খুব কম। এছাড়া আলাদা করে গাড়ি ভাড়াও নিতে পারেন। সময় লাগবে ২ ঘণ্টারও কম।
নর্থ-ইস্ট ঘুরতে যাবেন? অরুণাচলের এই অফবিট জায়গা বাদ পড়ে না যেন