অ্যাকাউন্ট চালু করতে অভিভাবক ও সন্তানের দু’টি ফোনই হাতে রাখতে হবে (WhatsApp safety update,)। প্রথমে সন্তানের ডিভাইসে একটি কিউআর কোড জেনারেট হবে। বাবা-মায়ের ফোনে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ থেকে সেই কোড স্ক্যান করলেই দুটি অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক হয়ে যাবে।

হোয়াটসঅ্যাপের নয়া ফিচার
শেষ আপডেট: 12 March 2026 16:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকাল পড়াশোনার জন্যই ছোট বয়সে হাতে স্মার্টফোন (Smartphone) তুলে দেওয়া হচ্ছে পড়ুয়াদের। কিন্তু ফোন ব্যবহার করতে গিয়েই অনেক সময় বাচ্চারা ভুল পথে চলে যায়- অজান্তেই বিপজ্জনক কনটেন্টে (Bad Content) ঢুকে পড়ে, অচেনা মানুষের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করে, বা চ্যাটিংয়ে অতিরিক্ত সময় ডুবে থাকে। এসব নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন বাবা-মায়েরা। এই সমস্যারই সমাধান নিয়ে এসেছে WhatsApp, যাতে ছোট বয়সি ব্যবহারকারীদের নিরাপদে অ্যাপ ব্যবহার করানো যায় (WhatsApp parental control)।
হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) নতুন একটি বিশেষ ফিচার চালু করেছে, যার মাধ্যমে ১৩ বছরের কম বয়সি সন্তানের অ্যাকাউন্টে (WhatsApp for minors) সরাসরি নজর রাখতে পারবেন অভিভাবকেরা। বলা হচ্ছে, এই ‘কিড অ্যাকাউন্ট’ সম্পূর্ণভাবে বাবা-মায়ের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই সংস্করণে থাকবে না চ্যানেল, স্টেটাস, বা মেটা এআই-এর মতো সুবিধা। একইসঙ্গে বন্ধ থাকবে ডিসঅ্যাপিয়ারিং চ্যাট এবং ভিউ ওয়ান্সের মতো অপশনও। অর্থাৎ, কোনও ঝুঁকিপূর্ণ বা লুকানো চ্যাটিং একেবারেই সম্ভব নয়। বাচ্চারা শুধু ব্যক্তিগত মেসেজ এবং গ্রুপ চ্যাট করতে পারবে- সেটাও অভিভাবকের নজরদারির মধ্যে (WhatsApp child safety tools)।
এই বিশেষ অ্যাকাউন্ট চালু করতে অভিভাবক ও সন্তানের দু’টি ফোনই হাতে রাখতে হবে (WhatsApp safety update,)। প্রথমে সন্তানের ডিভাইসে একটি কিউআর কোড জেনারেট হবে। বাবা-মায়ের ফোনে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ থেকে সেই কোড স্ক্যান করলেই দুটি অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক হয়ে যাবে। এর ফলে অভিভাবক সন্তানের হোয়াটসঅ্যাপের পিন পরিবর্তন, প্রাইভেসি সেটিংস বদলানো-সহ প্রয়োজনীয় নানা নিয়ন্ত্রণ হাতে পাবেন। অর্থাৎ, দিনে কত সময় ব্যবহার করছে, কার সঙ্গে চ্যাট করছে- সবই দেখা এবং নিয়ন্ত্রণ করা যাবে সহজেই।
অনেকে ভাবতে পারেন, বাচ্চা যখন ১৩ বছরের বেশি হবে, তখন কী হবে এই অ্যাকাউন্টের? হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছালে অ্যাপ থেকেই নোটিফিকেশন পাঠানো হবে। তাতে ‘কিড অ্যাকাউন্ট’ থেকে স্বাভাবিক স্ট্যান্ডার্ড অ্যাকাউন্টে রূপান্তর করার অপশন থাকবে। অভিভাবকেরা চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে বদল করতে পারবেন, না চাইলে এই পরিবর্তনের জন্য আরও ১২ মাস পর্যন্ত সময় পাবেন।
এই নতুন ফিচার অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ অনেকটাই দূর করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। স্মার্টফোনের যুগে শিশুদের সম্পূর্ণভাবে দূরে রাখা সম্ভব নয়, কিন্তু নিরাপদ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা জরুরি। সেই দিক থেকে হোয়াটসঅ্যাপের এই উদ্যোগ বাচ্চাদের ডিজিটাল সুরক্ষায় বড় ভূমিকা নেবে বলে আশা করা যাচ্ছে।