চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আলন্সোর রেকর্ড কিন্তু খারাপ নয়—পাঁচ ম্যাচে চার জয়। তবুও ম্যান সিটির বিরুদ্ধে ম্যাচ হয়ে উঠেছে তাঁর জিয়নকাঠি।

জাবি আলন্সো
শেষ আপডেট: 10 December 2025 10:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রিয়াল মাদ্রিদের (Real Madrid) ডাগ আউটে দাঁড়িয়ে প্রথম মরশুমেই চাকরি নিয়ে এমন টানাটানি, পরিস্থিতি যে চূড়ান্ত জটিল জায়গায় এসে পৌঁছবে, তা সিজনের গোড়ায় কি বিন্দুমাত্র আন্দাজ করেছিলেন জাবি আলন্সো? জার্মানিতে বায়ার লেভারকুসেনকে (Bayer Leverkusen) বদলে দেওয়া কোচ, যাঁকে ভরসা করে ভবিষ্যতের প্রকল্প সাজিয়েছিল রিয়াল, তিনিই এখন কুর্সিতে টিকে থাকার লড়াই লড়ছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে (Champions League) ম্যান সিটির (Manchester City) বিরুদ্ধে ম্যাচটাই হয়ে উঠেছে সম্ভাব্য ভাগ্যনির্ণায়ক।
রবিবার সেল্টা ভিগোর বিরুদ্ধে ০-২ হার পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে দিয়েছে। গ্যালারিতে বিদ্রূপ শোনা গেল, ম্যাচ শেষে টানেলে অশান্তি, দুই লাল কার্ড, জুড বেলিংহ্যামের (Jude Bellingham) রক্তাক্ত মুখ—সব মিলিয়ে বের্নাবিউয়ে তীব্র অস্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ (Florentino Pérez) ম্যাচের পরপরই জরুরি বৈঠক ডাকেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনায় তিনটি বিষয় বারবার সামনে এসেছে—খারাপ ফর্ম, চোট-আঘাত এবং কোচিং–আইডিয়া নিয়ে খেলোয়াড়দের অনীহা। তবে আর সবকিছু ছাপিয়ে স্পর্শকাতর প্রশ্ন—আলন্সো (Xabi Alonso) আদৌ আজকের পর ডাগ আউটে দাঁড়াবেন তো?
লা লিগায় (La Liga) গত পাঁচ ম্যাচে একটি জয়। বার্সেলোনার (Barcelona) চার পয়েন্ট পিছনে থাকা। মাঠে ম্যানেজারের পরিকল্পনা ঠিকমতো প্রয়োগ না হওয়া। এগুলোই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকেই আলন্সো স্বীকার করলেন—অনেক কিছুই অনুশীলনে মেরামত করা হয়েছিল, খেলোয়াড়েরা প্রয়োগ করতে ব্যর্থ। সেই স্বীকারোক্তিই ক্লাবকর্তাদের নজরে বিপদের ইঙ্গিত। কারণ রিয়ালে কোনও কোচের কথার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয় মাঠের ফলাফল।
দলের অন্দরের সমস্যাও কম নয়। ফুটন্ত আগ্নেয়গিরির নাম ভিনিসিয়াস জুনিয়র (Vinicius Jr)। এল ক্লাসিকোতে বদলি হওয়ার পর তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ্যেই দেখা গিয়েছিল। পরে ক্ষমা চাইলেও কোচের নাম উল্লেখ করেননি—যা ভিতরের সম্পর্কের শীতলতাকে স্পষ্ট করেছে। ব্রাহিম দিয়াজ, রড্রিগো, ফেরলান্দ মেন্ডি, এমনকি নবাগত এন্দ্রিক—অনেকে নাকি কাঠামোবদ্ধ তীব্র ট্রেনিংয়ের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না। কার্লো অ্যান্সেলোত্তি ও জিনেদিন জিদানের নরমসরম কোচিংয়ে অভ্যস্ত ড্রেসিংরুমে আলন্সোর ‘শৃঙ্খলাবদ্ধ’ মেথড পদে পদে হোঁচট খাচ্ছে।
যে কারণে গোলের সামনে পিছলে পড়ছেন ভিনি, রড্রিগোরা। এমবাপে (Kylian Mbappé) ছাড়া আর কেউ ধারাবাহিক নন। চোট–আঘাতে রক্ষণ ক্ষতবিক্ষত। মিলিতাও ফের তিন থেকে চার মাসের জন্য ছিটকে গিয়েছেন। ২১ ম্যাচে ২০ বার আলাদা লাইনআপ নামাতে বাধ্য হয়েছেন আলন্সো—কোনও রকম ধারাবাহিকতা তৈরি হয়নি।
পরিস্থিতি কঠিন। ক্লাব ইতিমধ্যেই ‘প্ল্যান বি’ ভাবতে শুরু করেছে। জিদানকে ফের আনার কথাও উস্কে উঠেছে। এমনকি বিশ্রামে থাকা য়ুর্গেন ক্লপের (Jürgen Klopp) নামও নাকি আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি বি–টিম কোচ আলভারো আরবেলোয়াও (Álvaro Arbeloa) বিকল্প হয়ে উঠতে পারেন।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আলন্সোর রেকর্ড কিন্তু খারাপ নয়—পাঁচ ম্যাচে চার জয়। তবুও ম্যান সিটির বিরুদ্ধে ম্যাচ হয়ে উঠেছে তাঁর জিয়নকাঠি। রিয়াল মাদ্রিদে কেউ নিরাপদ নয়। এখানে দুই ম্যাচেই ‘স্বর্গ–নরক’ বদলে যায়। আলন্সোর সামনে এখন সেই অগ্নিপরীক্ষাই সমাগত। বুধবার যদি আবারও ব্যর্থ হন, ক্লাবের সিদ্ধান্ত দ্রুত বদলে যেতে পারে। আর জিতলে? সংকট মিটবে না, কিন্তু সময় মিলবে। আপাতত বলা যেতে পারে—হাইভোল্টেজ ইউরোপীয় ফুটবলের আলোয় মোড়া রাত আজ শুধু একটি ম্যাচ নয়, এক উদীয়মান কোচের ভবিষ্যৎও নির্ধারণ করতে পারে।