Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ! মেদিনীপুরের তৃণমূল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি বিজেপির‘১৫ বছরের অচলাবস্থা কাটানোর সুবর্ণ সুযোগ!’ নববর্ষের শুভেচ্ছাবার্তায় তৃণমূল সরকারকে তোপ মোদীরঅভিষেক পত্নীকে টার্গেট করছে কমিশন! হোয়াটসঅ্যাপে চলছে নেতাদের হেনস্থার ছক? সরাসরি কমিশনকে চিঠি তৃণমূলেরIPL 2026: আজ আদৌ খেলবেন তো? ‘চোটগ্রস্ত’ বিরাটের অনুশীলনের ভিডিও দেখে ছড়াল উদ্বেগনৌকাডুবিতে ১৫ জনের মৃত্যু, বৃদ্ধার প্রাণ বাঁচাল ইনস্টা রিল, ফোনের নেশাই এনে দিল নতুন জীবন!‘ভূত বাংলা’-তে যিশু সেনগুপ্তর আয় নিয়ে হইচই! ফাঁস হল অঙ্কপদ খোয়ানোর পর এবার নিরাপত্তা! রাঘব চাড্ডার Z+ সুরক্ষা তুলে নিল পাঞ্জাব সরকার, তুঙ্গে জল্পনাফাঁকা স্টেডিয়ামে পিএসএলের আড়ালে ভারতের জ্বালানি সঙ্কট! নকভির ‘যুক্তি’তে হতভম্ব সাংবাদিকভোটের রেজাল্টে পর ফের ডিএ মামলার শুনানি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট! ৬০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, জানাল রাজ্যহরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের দাপট! মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ফিরল বিদেশী ট্যাঙ্কার

Chelsea vs Barcelona: ইয়ামালের পালটা এস্তেভাও! আজ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে মশাল জ্বালবে কে?

আজকের ম্যাচে তাই দু’দলের সমর্থক যতটা উত্তেজিত, ইউরোপীয় স্কাউটদের আগ্রহও কম নয়। দশ বছর পরের ফুটবলকে সম্ভবত এই দু’জনই নেতৃত্ব দেবে।

Chelsea vs Barcelona: ইয়ামালের পালটা এস্তেভাও! আজ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে মশাল জ্বালবে কে?

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস

রূপক মিশ্র

শেষ আপডেট: 25 November 2025 13:22

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একা হাতে ম্যাচের রং পালটে দেওয়া—এডেন হ্যাজার্ডের পর অনেক বছর ধরে এমন মুখ খুঁজেছে চেলসি৷ কোল পামারের অভ্যুদয়ে সে দুশ্চিন্তা কেটেছে৷ ইংরেজ মিডফিল্ডার আপাতত চোট-আঘাতে জেরবার৷ মাঠের বাইরে। আজ স্ট্যাম্পফোর্ড ব্রিজে চ্যাম্পিয়নস লিগের মারকাটারি লড়াইয়ে যখন মুখোমুখি চেলসি-বার্সেলোনা, তখন লাইমলাইট পুরোটাই নিজের দিকে টেনেছে আরেক তরুণতর প্রতিভা এস্তেভাও৷ ব্রাজিলীয়৷ সাম্বার ঝলক ড্রিবলিংয়ে ছলকে ওঠে৷ সাপের মতো হিলহিলে গতি। কখন মার্কারকে ধোঁকা দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়বেন, বোঝা দায়!

বার্সার তুরুপের তাসের নাম যখন লামিন ইয়ামাল, তখন চ্যাম্পিয়নস লিগের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে খুব সঙ্গত কারণেই কোচ এনজো মারেস্কার পালটা বাজি হয়ে উঠেছেন এস্তেভাও।

এখনকার ফুটবলে ‘টিন এজ প্রডিজি’শব্দটা যতই ব্যবহৃত হোক, একই বয়সে দুই সম্পূর্ণ বিকল্প প্রকল্পকে মুখোমুখি দেখতে পাওয়া বিরল। ইয়ামাল এবং এস্তেভাও—দু’জনেরই ১৮ বছর বয়স। দু’জনেরই বাম পা শক্তিশালী। দু’জনেই রাইট উইং থেকে কাট-ইন করে শট বা ইনসুইং ক্রস বাড়াতে ওস্তাদ। আর দু’জনেই ভবিষ্যতের ব্যালন ডি’অর তালিকায় জায়গা পাওয়ার সবচেয়ে জোরালো নাম। তাই আজকের লড়াই শুধু চেলসি-বার্সার নয়। খেলায় চোখ আটকে থাকবে পরবর্তী দশকের দুই সম্ভাব্য শাসকের দিকেও!

ইয়ামাল নিয়ে আলোচনা এতদিন ধরে হয়েছে কারণ ইউরোপীয় ময়দানে অনেক দিন ধরে খেলছেন। ১৭ পূর্ণ হওয়ার আগেই ইউরো ফাইনালে (স্পেন) দাপট দেখিয়েছেন। লা লিগা জয়, ব্যালন ডি’অর-এ রানার্স—সবই রেফারেন্স পয়েন্ট। কিন্তু এস্তেভাও? প্রথম ১০০ ক্লাব ম্যাচের বেশিরভাগই দক্ষিণ আমেরিকায়, পালমেইরাসের হয়ে। তারপর চেলসিতে পা রেখে ধীরে ধীরে সামলে নিচ্ছেন প্রিমিয়ার লিগের চাপ। যে কারণে কোচ মারেস্কা অতিরিক্ত সাবধানী—এস্তেভাও যাতে ফোকাস না হারান, যাতে ম্যাচের পর ম্যাচ খেলে ‘বার্নআউট’ না হন!

সাবধানতা মানেই ভয় নয়। চেলসির ভরসা এস্তেভাওয়ের ডাকাবুকো চরিত্র। ‘মেসিনিয়ো’ ডাকনাম একেবারে নাপসন্দ। বড়দের ছায়া এড়িয়ে নিজেকে নিজের মতো গড়ে তুলতে চান। চোখধাঁধানো ড্রিবলিংয়ের আড়ালে ঝকঝকে পরিণত মন। মাঠে গিয়ে নিজেকে প্রমাণ করার খিদে।

ইয়ামাল আক্রমণাত্মক সৃজনশীলতার ‘ফিনিশড ভার্শন’। বল নিলে দুই-তিন জনকে কাটিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা জন্মগত। ক্রস অনেকসময় লজিক মানে না, শটগুলোকেও আটকে রাখা বেশ কঠিন। উল্টোদিকে এস্তেভাও অনেক বেশি ‘ডুয়াল থ্রেট’। কাট-ইনে বিপদ তৈরি করেন, দুর্বল ডান পা দিয়েও লো ক্রস বের করতে পারঙ্গম। উলভসের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন। আর নেমেই জোয়াও পেদ্রোকে গোল করানো সেই ক্লিপ বিশেষজ্ঞদের মতে ‘এস্তেভাও-স্কুল’-এর পাঠ্যবই।

আজকের ম্যাচে ব্রাজিলীয় প্রতিভার সামনে একজন ‘আগে থেকেই তৈরি হওয়া সুপারস্টার’। ইয়ামাল বার্সার প্রধান অস্ত্র। তবে এবার আগের মতো স্পন্দিত নন—চোট, স্পেন স্কোয়াডের বাইরে থাকা, অফ-ফিল্ড মনোযোগের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁকে আজ মার্ক করবেন যিনি, সেই স্বদেশীয় কুকুরেয়া বলেছেন—‘ওর স্কিল অসাধারণ, কিন্তু মাঝে মাঝে একটু ডিস্ট্র্যাকটেড!’ এস্তেভাও ঠিক উল্টো—পাদ্রির ছেলে। ছাপোষা ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড। ঠান্ডা মাথা। উৎকেন্দ্রিক নন। স্থিতধী। খেলায় ডুবে থাকার ক্ষমতা অদ্ভুত।

বার্সার ডিফেন্স আবার ততখানি থিতু নয়। ক্লাব ব্রুজের সঙ্গে ৩-৩ ড্র-ই তার প্রমাণ। বার্সা গোল দেবে, আবার গোল হজমও করবে। বাস্কেটবল-দর্শন! এখানেই চেলসির সুযোগ—মারেস্কার প্রধান পরিকল্পনা হবে ওদের হাই লাইন টার্গেট করা। কাউন্টার হলে তো কথাই নেই—এস্তেভাওর দৌড়, ড্রিবল, কাটব্যাক—সবই কাউন্টারপাঞ্চ হানতে পারে।

উলটো দিকে ইয়ামালকে ‘বন্দি’ রাখার পাহারা দেবেন কুকুরেয়া—ক্লাবে এস্তেভাওর সতীর্থ, আবার একই জাতীয় দলে ইয়ামালের বড়ভাই। এটাও আলাদা লড়াই। নাটকের আর দুই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র গোমেজ, ক্রিস্টেনসেনরা জানেন—এই বয়সে এমন প্রতিভার মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে ভুলচুক চলবে না।

আজকের ম্যাচে তাই দু’দলের সমর্থক যতটা উত্তেজিত, ইউরোপীয় স্কাউটদের আগ্রহও কম নয়। দশ বছর পরের ফুটবলকে সম্ভবত এই দু’জনই নেতৃত্ব দেবে। গত এক দশক মেসি-রোনাল্ডোর, পরের দশক কিলিয়ান এমবাপে-হালান্ড—তার পরের দশকে জমবে ইয়ামাল-এস্তেভাও দ্বৈরথে।

আজ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে সেই আগামী গল্পের প্রথম অধ্যায়।


```