৩৯ বছরের সুনীল ছেত্রী কেরিয়ারের উপান্তে। নিজেই বহুবার বলেছেন—‘এখন ভারতের উচিত এমন ফরওয়ার্ডদের তৈরি করা যারা আমার জায়গা নিতে পারবে!’ রায়ান উইলিয়ামস সেই স্বপ্নের প্রথম প্রতীক হতে পারেন। দ্রুত দৌড়, ধারালো ফিনিশিং, বক্সে নিখুঁত টাইমিং—এমন গুণসম্পন্ন খেলোয়াড় দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের দলে নেই।

রায়ান উইলিয়ামস
শেষ আপডেট: 6 November 2025 18:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুটবলের মাঠে এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। হাসি, রসিকতা আর গর্বে ভরা আসরে সুনীল ছেত্রী (Sunil Chhetri) রায়ান উইলিয়ামসের (Ryan Williams) হাতে তুলে দিলেন ভারতীয় পাসপোর্ট। বেঙ্গালুরু এফসি-র (Bengaluru FC) ফুটবলার ছোট্ট নীল বই ধরতেই, বলা যেতে পারে, শুরু হল ভারতীয় ফুটবলের এক নতুন অধ্যায়।
অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম, ইংল্যান্ডে খেলা, তারপর এদেশের মাটিতে এসে পা রাখা—এই দীর্ঘ যাত্রাপথে রায়ানের নাগরিকত্ব পাওয়া নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়। এ যেন এক প্রতীকী সূচনা—যেখানে এআইএফএফ (AIFF) প্রথমবারের মতো ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া (OCI) খেলোয়াড়দের ভারতীয় ফুটবলে যুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করল।
পাসপোর্ট দেওয়ার আগে ছেত্রী অবশ্য একটু মজাই করলেন। একখানা ছোট্ট কুইজ চালালেন সতীর্থের সঙ্গে—‘পানি পুরি খেয়েছ? চাট বলতে কী বোঝো?’
রায়ান দিব্যি সামলে নিলেন। হেসে বললেন, ‘আমি এখন তোমাদেরই একজন!’ বেঙ্গালুরু এফসি-র ঘরে তখন উৎসবের আবহ। ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
রায়ান উইলিয়ামসের জন্ম পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সুবিয়াকোয় (Subiaco)। ফুটবল শুরু স্থানীয় ক্লাব ইসিইউ জুন্ডালাপে (ECU Joondalup)। ২০১১ সালে ইংল্যান্ডে গিয়ে যোগ দেন পোর্টসমাউথে (Portsmouth)। এরপর ফুলহ্যাম, জিলিংহ্যাম, বার্নসলে, রদারহ্যাম—একটার পর একটা ক্লাবের জার্সিতে খেলেছেন।
২০২২ সালে ফিরে যান নিজ দেশে, পার্থ গ্লোরির (Perth Glory) হয়ে মাঠে নামেন এক মরশুম। তারপরই ২০২৩-এ ভারত-অধ্যায়! বেঙ্গালুরু এফসি-র সঙ্গে চুক্তি। সেখানেই ৪৬ ম্যাচে ১৩ গোল ও ৫টি অ্যাসিস্ট আর সুনীল ছেত্রীর সঙ্গে দুর্দান্ত বোঝাপড়া!
নির্ভেজাল বিদেশি নন। রায়ানের গল্পে ‘ভারত’ লুকিয়ে ছিল জন্মসূত্রে। তাঁর মা মুম্বইয়ের (Mumbai) অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান। সেই সূত্রেই ভারতীয়-সংযোগ। পরিবার, কর্ণাটক রাজ্য ফুটবল সংস্থা (KSFA), বেঙ্গালুরু ক্লাব ও জেএসডব্লিউ গ্রুপের সহায়তায় রায়ান ধাপে ধাপে শেষ করেন নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের অনুমোদনের পর হাতে আসে বহুপ্রতীক্ষিত পাসপোর্ট।
রায়ান আগেও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছেন। যুব দলে নিয়মিত, ২০১৯ সালে এক প্রীতি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, যেহেতু সেটি অফিসিয়াল প্রতিযোগিতা নয়, তাই তিনি এখন দেশ বদল করে ভারতের হয়ে খেলতে পারবেন!
এমনিতেই বিদেশে জন্মানো ও ওসিআই খেলোয়াড়দের (OCI Players) অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বহুদিন ধরেই ভারতীয় ফুটবল মহলে আলোচনা হচ্ছিল। অবশেষে এআইএফএফের প্রথম দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ। রায়ানকে ইতিমধ্যেই জাতীয় দলের প্রাক্-শিবিরে ডাকা হয়েছে, যেখানে তিনি এএফসি এশিয়ান কাপ (AFC Asian Cup) যোগ্যতা নির্ধারণের আগে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পাবেন।
৩৯ বছরের সুনীল ছেত্রী কেরিয়ারের উপান্তে। নিজেই বহুবার বলেছেন—‘এখন ভারতের উচিত এমন ফরওয়ার্ডদের তৈরি করা যারা আমার জায়গা নিতে পারবে!’ রায়ান উইলিয়ামস সেই স্বপ্নের প্রথম প্রতীক হতে পারেন। দ্রুত দৌড়, ধারালো ফিনিশিং, বক্সে নিখুঁত টাইমিং—এমন গুণসম্পন্ন খেলোয়াড় দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের দলে নেই। বেঙ্গালুরু এফসি-র জার্সিতে তাঁর পারফরম্যান্স কোচ খালিদ জামিলের (Khalid Jamil) নজর এড়ায়নি। তাই আশায় বুক বাঁধতেই পারেন অনুরাগীরা!